পিরোজপুরের সাতটি উপজেলাতেই ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত নতুন করে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
রোগীর চাপ বাড়ছে, মৃত্যুও
পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারা গেছেন পারেরহাটের ৩৫ বছর বয়সী রুবি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই গত রাতে তার মৃত্যু হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পিরোজপুর সদর হাসপাতাল এবং জেলার ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১ হাজার ৭৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বাস্তবে আক্রান্ত ও চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ১০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পিরোজপুরে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী
বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে বর্তমানে পিরোজপুরেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।
এর মধ্যে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। হাসপাতালে ৬২ জন চিকিৎসক পদায়িত থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। ফলে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মশার প্রজননস্থল নিয়ে উদ্বেগ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধনে ফগিং যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আরিফ। তার মতে, মশার লার্ভা ধ্বংস করতে লার্ভিসাইড ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার খবর পেয়ে সম্প্রতি পিরোজপুর পরিদর্শন করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর একটি দল। দলটির লিখিত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে দেওয়া পর্যবেক্ষণে বাড়িঘরের আশপাশে জমে থাকা পানির পাশাপাশি সুপারি ও নারকেলগাছ কাটার পর তৈরি হওয়া গর্তেও ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার জনবল বাড়ানো এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে আরও বেশি স্প্রে মেশিন মোতায়েন করে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পিরোজপুরে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং চিকিৎসক সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















