যশোরের শার্শায় নিজ ঘর থেকে দুই শিশুসন্তান ও তাদের বাবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চটকাপোতা দক্ষিণপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত বাবা কামাল হোসেনের বয়স ৪৫ বছর। তার দুই সন্তান সাবিরের বয়স পাঁচ বছর এবং জাবিরের বয়স প্রায় আড়াই বছর।
ঘরের ভেতর মিলল তিন মরদেহ
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে কামাল হোসেনের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা বাড়ি থেকে বাবা ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই শিশুকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর কামাল হোসেন বিষাক্ত গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
তবে শিশু দুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
পারিবারিক টানাপোড়েনের তথ্য
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামাল হোসেনের একাধিক স্ত্রী ছিলেন। তার মোট সাত সন্তান রয়েছে। আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছিল।
সর্বশেষ স্ত্রীর সঙ্গেও পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানা গেছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি দুই সন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর সাবির ও জাবির বাবার সঙ্গেই ওই বাড়িতে থাকছিল।
এর মধ্যেই ঘটে গেল এমন মর্মান্তিক ঘটনা।
প্রকৃত কারণ খুঁজছে পুলিশ
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কামাল হোসেন আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একই ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
দুই শিশুর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং এ ঘটনার পেছনে আসল কারণ কী ছিল, তদন্ত শেষে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একটি পরিবারের ভেতরের অশান্তি কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনল, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
যশোরের শার্শায় দুই শিশুসন্তান ও তাদের বাবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক কলহের তথ্য সামনে এলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















