আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিজেদের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আইন সংশোধন করেছে চীন। ১৬ বছর পর প্রথমবারের মতো দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা সমাবেশ আইন সংশোধন করা হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চালকবিহীন ব্যবস্থা ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন কাঠামো
চীনের শীর্ষ আইনসভা গত শুক্রবার সংশোধিত আইনটি অনুমোদন করেছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, জাতীয় প্রতিরক্ষা সমাবেশে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করবে রাষ্ট্র এবং উদীয়মান প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলবে।
আইনে নির্দিষ্ট করে কোন কোন প্রযুক্তি এর আওতায় পড়বে তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার প্রযুক্তি, চালকবিহীন বিমান ও অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্র, জরিপ ও নৌপথ নির্ণয় প্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি, সামুদ্রিক ও মহাকাশ প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
বেসরকারি খাতও আসতে পারে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়
সংশোধিত আইনের গুরুত্ব শুধু প্রযুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব ক্ষেত্রে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন জনবলকেও জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রযুক্তি অবকাঠামো ও শিল্প সক্ষমতাকে দ্রুত সামরিক কাজে ব্যবহার করার একটি আইনি কাঠামো তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চালকবিহীন ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি সামরিক অভিযানে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং স্বয়ংক্রিয় অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব
চীনের এই আইন সংশোধনের পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই যুদ্ধে ছোট আকারের চালকবিহীন বিমান, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং সাইবার সক্ষমতার ব্যাপক ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধের চরিত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে।
চীনা সামরিক আইন বিশেষজ্ঞ শিয়ে দান মনে করেন, এই যুদ্ধ চালকবিহীন, বুদ্ধিমান ও সাইবার প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। ফলে জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এসব প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
সংশোধিত আইন আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন সময়ে চীনের বেসামরিক প্রযুক্তি, শিল্প অবকাঠামো ও দক্ষ জনশক্তিকে দ্রুত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় রূপান্তরের পথ আরও সুগম হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















