ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী মার্সেই শুধু নীল সমুদ্র, রোদঝলমলে উপকূল আর ঐতিহ্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, খাবারের বৈচিত্র্যও শহরটির অন্যতম আকর্ষণ। ভূমধ্যসাগরীয় মাছ, জলপাই, রসুন, তুলসী, ছোলা এবং উত্তর আফ্রিকার রান্নার প্রভাব মিলিয়ে এখানকার খাদ্যসংস্কৃতি বেশ স্বতন্ত্র। মার্সেই গেলে স্থানীয় স্বাদ নিতে যে আটটি খাবার অবশ্যই চেখে দেখা উচিত, সেগুলো হলো—
বুইয়াবেস
একসময় জেলেদের সাধারণ খাবার হিসেবে পরিচিত বুইয়াবেস এখন মার্সেইয়ের সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সনদের মাধ্যমে এর ঐতিহ্যবাহী প্রস্তুতপ্রণালিও সংরক্ষণ করা হয়। ভূমধ্যসাগরের তাজা মাছ দিয়ে তৈরি এই খাবারের ঝোলে রসুন, জাফরান, মৌরি ও টমেটোর সুগন্ধ থাকে। এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয় রসুনভিত্তিক ঝাল মিশ্রণ, কুচি করা পনির ও মচমচে রুটি।
পানিস
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-155277904-486a568d6cdf4e5ca4a02dc0f2703fb4.jpg)
ইতালীয় অভিবাসীদের হাত ধরে মার্সেইয়ে জনপ্রিয় হওয়া পানিস তৈরি হয় ছোলার গুঁড়া, পানি ও জলপাই তেল দিয়ে। মিশ্রণটি ভেজে বা বেক করে বাইরে মচমচে এবং ভেতরে নরম ও মোলায়েম করা হয়। শহরের বিভিন্ন রাস্তার খাবারের দোকান থেকে শুরু করে পানশালা ও খাবারের দোকান—সবখানেই এর দেখা মেলে।
আইওলি
প্রোভঁস অঞ্চলের বিখ্যাত রসুনের মিশ্রণ আইওলি মার্সেইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় খাবারের অনুষঙ্গ। ঐতিহ্যগতভাবে শিল-পাটা বা হামানদিস্তায় রসুন ও জলপাই তেল মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়; অনেক সময় ডিমের কুসুমও যোগ করা হয়। মাছ, ভাজা মুরগি, আলু কিংবা পানিস—বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বাড়াতে আইওলি ব্যবহার করা হয়।
পিস্তুর স্যুপ
ইতালি থেকে আসা আরেকটি খাবার সময়ের সঙ্গে প্রোভঁস অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সবজি, ছোট আকৃতির পাস্তা এবং তুলসী, রসুন ও জলপাই তেল দিয়ে তৈরি বিশেষ মিশ্রণ দিয়ে এই স্যুপ রান্না করা হয়। গরম কিংবা ঠান্ডা—দুইভাবেই খাওয়া যায়। মৌসুমি সবজির কারণে এটি হালকা অথচ পরিপূর্ণ একটি খাবার।
তাপেনাদ
কালো জলপাই, কাঁকড়া মাছ, কেপার, রসুন, জলপাই তেল ও লেবুর রস দিয়ে তৈরি তাপেনাদ প্রোভঁসের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। ধারণা করা হয়, ১৮৮০ সালে মার্সেইয়ের একটি বিখ্যাত খাবারের দোকানে মেইনিয়ে নামের এক রাঁধুনি এটি তৈরি করেছিলেন। সাধারণত পানীয়ের সঙ্গে কিংবা মচমচে টোস্ট করা রুটির ওপর মেখে এটি পরিবেশন করা হয়।
ব্রিক
মার্সেইয়ের উত্তর আফ্রিকীয় জনগোষ্ঠীর প্রভাব স্থানীয় খাবারের জগতে বেশ গভীর। এরই একটি জনপ্রিয় উদাহরণ ব্রিক। তিউনিসিয়ার ঐতিহ্যবাহী এই খাবারে পাতলা মচমচে আবরণের ভেতরে আলু, টুনা মাছ, পার্সলি, আধসেদ্ধ ডিম ও কেপার ভরা থাকে। হালকা নাশতা হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয় এবং স্থানীয় বেকারিগুলোতে সহজেই পাওয়া যায়।
পাস্তিস
মার্সেইকে পাস্তিসের শহরও বলা যায়। মৌরির সুগন্ধযুক্ত এই মদ্যপ পানীয়টি ১৯৩২ সালে পল রিকার্ডের একই নামে বাজারজাত করা পানীয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রোভঁসের রোদেলা বিকেলের সঙ্গে পাস্তিসের সম্পর্ক গভীর। সাধারণত এক ভাগ পাস্তিসের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ভাগ পানি মিশিয়ে পান করা হয়। স্বাদ সবার কাছে একরকম নাও লাগতে পারে, তবে মার্সেইয়ে গেলে এটি চেখে দেখার তালিকায় থাকতেই পারে।
নাভেত
মার্সেইয়ের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খাবারের মধ্যে নাভেত অন্যতম। ছোট নৌকার মতো দেখতে এই বিস্কুটের প্রচলন প্রায় আড়াইশ বছর ধরে। খামির ছাড়াই তৈরি করা নাভেতে কমলালেবুর ফুলের মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। সারা বছরই এটি পাওয়া যায় এবং সাধারণত কফি কিংবা পাস্তিসের সঙ্গে খাওয়া হয়।
মার্সেইয়ের খাবারের বিশেষত্ব হলো এর বৈচিত্র্য। ভূমধ্যসাগরের মাছ ও জলপাইভিত্তিক রান্নার সঙ্গে ইতালি এবং উত্তর আফ্রিকার অভিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধন শহরটির খাবারকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়। তাই মার্সেই ভ্রমণ মানেই শুধু দর্শনীয় স্থান দেখা নয়, স্থানীয় খাবারের স্বাদে শহরটিকে আবিষ্কার করাও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















