০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান বইয়ের পাতার মতোই মুগ্ধতা ছড়ায় বিশ্বের ৭ অপূর্ব গ্রন্থাগার লুলুলেমন আনল ‘বিগ-অ্যাস ব্যাগ’, ৮০ লিটারের বিশাল টোট ব্যাগে ঢুকবে যেন পুরো সংসার শিশুদের মুখে নতুন হাসি, মিশিগানে ম্যাগির উইগস ৪ কিডস-এর ২৩তম বার্ষিক গালা নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ‘কিউটি পাই’ গোলাপ, ছোট বাগান সাজাতে দারুণ প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি বাড়িতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকলে সম্পর্ক ভালো রাখার উপায় জলবায়ু পরিবর্তনে আরও শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, হাজার বছরের প্রবাল রেকর্ডে মিলল প্রমাণ স্কুলের নকশাই গড়ে তুলতে পারে সংস্কৃতি, পরিচয় ও আপন হওয়ার অনুভূতি

যুক্তরাষ্ট্রের  রোবট ও ড্রোন গবেষণায় নতুন যুগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার

রোবট ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। কৃষিতে কীটপতঙ্গ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে দুর্যোগের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষ খুঁজে বের করা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও শুধু শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি শেখানোর পরিবর্তে বাস্তব পরিবেশে রোবট ও ড্রোন পরীক্ষা, পরিচালনা, নির্মাণ ও গবেষণার জন্য বিশেষায়িত পরীক্ষাগার গড়ে তুলছে।

এই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ হাজার বর্গফুটের অব্যবহৃত একটি ভূগর্ভস্থ স্থানকে অত্যাধুনিক রোবট ও ড্রোন গবেষণাগারে রূপান্তর করেছে। নতুন এই স্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত বিকাশমান রোবট প্রকৌশল শিক্ষাক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের হাতে-কলমে কাজের সুযোগ দিচ্ছে।

বাস্তব পরিবেশে প্রযুক্তি পরীক্ষার সুযোগ

রোবট ও ড্রোনের সক্ষমতা যাচাই করতে সব সময় সাধারণ কক্ষ যথেষ্ট নয়। কোনো ড্রোন প্রবল বাতাসে কতটা কার্যকর, কোনো রোবট বালুর ওপর দিয়ে চলতে পারে কি না কিংবা পানির নিচে যোগাযোগ করতে পারে কি না—এসব পরীক্ষা করতে ভিন্ন ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন।

বিশেষায়িত পরীক্ষাগারগুলো সেই সুযোগ তৈরি করছে। গবেষকরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে যন্ত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ ড্রোনচালকেরা ভুল করে শেখার সুযোগ পাচ্ছেন, যেখানে পরীক্ষার সময় মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।

Cranfield University lab replicates space to test new robot

অব্যবহৃত জায়গার নতুন ব্যবহার

নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারটি তৈরি করা হয়েছে বিদ্যমান প্রকৌশল ভবনের একটি অব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ অংশে। এতে নতুন ভবন নির্মাণের তুলনায় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হয়েছে।

তবে পুরোনো জায়গাকে নতুন কাজে ব্যবহার করার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কক্ষের আকার, ছাদের উচ্চতা ও বিদ্যমান কাঠামোর কারণে খুব বড় ড্রোন বা নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষামূলক পরিস্থিতি সেখানে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই গবেষণাগার তৈরির আগে ভবিষ্যৎ শিক্ষাক্রম ও গবেষণার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় বিষয়

রোবট ও ড্রোন গবেষণাগার তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ। কারণ চলন্ত ড্রোন দেয়াল, জানালা কিংবা অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে পারে। আবার শক্তিশালী ব্যাটারি, বিশেষ করে লিথিয়ামভিত্তিক ব্যাটারি, আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে তাই ড্রোনের সম্ভাব্য আঘাত সামলাতে বিশেষ শক্তিশালী কাচ ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষার জায়গা ও পর্যবেক্ষণ এলাকার মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য জালও ব্যবহার করা হয়েছে।

ছাদ ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষার পাশাপাশি গবেষক, দর্শনার্থী এবং ক্যামেরা সরঞ্জামকে সম্ভাব্য আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতেও এই জাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য আলাদা কক্ষ রাখা হয়েছে, যাতে আগুনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আলো ও ক্যামেরারও বিশেষ ব্যবস্থা

আধুনিক রোবট গবেষণাগারে শুধু জায়গা থাকলেই চলে না। গবেষণার প্রতিটি মুহূর্ত ধারণ ও বিশ্লেষণের জন্য উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে ছাদের কাছে একাধিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এগুলো আকাশে উড়ন্ত ড্রোন কিংবা মেঝেতে চলা রোবটের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। ক্যামেরাগুলোর সরাসরি দৃশ্যপথ প্রয়োজন হওয়ায় গবেষণাগারের নকশায় এ বিষয়টি শুরু থেকেই বিবেচনা করা হয়েছে।

আলোও গুরুত্বপূর্ণ। আলো এতটা উজ্জ্বল হতে হবে, যাতে ক্যামেরা ও গবেষকেরা সূক্ষ্ম বিষয় দেখতে পারেন; আবার অতিরিক্ত ঝলক যেন ড্রোনচালকের কাজে বাধা না দেয়। কোনো কোনো পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অন্ধকার পরিবেশও প্রয়োজন হয়। এ কারণে কিছু গবেষণাগারে আলো নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বদলাবে গবেষণাগারের নকশা

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন এক নয়। তাই একটি নির্দিষ্ট নকশা অনুসরণ করে সব রোবট গবেষণাগার তৈরি করা সম্ভব নয়।

কোথায় কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হবে, কোথায় স্বাস্থ্যসেবা, আবার কোথাও দুর্যোগ মোকাবিলা বা জননিরাপত্তা নিয়ে কাজ হবে—তার ওপর গবেষণাগারের কাঠামো নির্ভর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েক টেক কমিউনিটি কলেজে জননিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতির প্রশিক্ষণের জন্য এমন একটি স্থাপনা তৈরি হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম রাস্তা, ভবনের সামনের অংশ, যানবাহন এবং বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণ করা যায়। সেখানে অন্ধকার, ঝলকানো আলো, উচ্চ শব্দ এমনকি ধোঁয়ার পরিবেশও তৈরি করা সম্ভব।

এর ফলে ড্রোনচালকেরা শুধু স্বাভাবিক পরিবেশে নয়, দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতির মতো জটিল পরিবেশেও প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

তৈরি ও মেরামতের জন্যও দরকার আলাদা জায়গা

Scientists in 'autonomous laboratories' are starting to outsource work to  robots | NCPR News

রোবট গবেষণাগারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নির্মাণ ও মেরামতের স্থান। নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে পরীক্ষার জায়গার কাছেই যন্ত্র তৈরির ও মেরামতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এতে শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা রোবটের যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, উন্নয়ন ও মেরামতের কাজ একই স্থানে করতে পারেন। অতিরিক্ত সরঞ্জাম রাখার জন্য সিঁড়ির নিচে এবং উঁচু মঞ্চের নিচেও সংরক্ষণস্থল তৈরি করা হয়েছে।

এই ধরনের নমনীয় নকশা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি পরিবর্তিত হলেও গবেষণাগারকে কার্যকর রাখার সুযোগ দেয়।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আকর্ষণেও বড় ভূমিকা

আধুনিক রোবট গবেষণাগার শুধু গবেষণার জন্য নয়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আকর্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন রোবট প্রকৌশল স্নাতক কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। গবেষণাগারকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে নতুন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও তৈরি হয়েছে এবং বাইরের বিনিয়োগ পেয়েছে।

এ ধরনের সুবিধা এমন শিক্ষকদেরও আকৃষ্ট করছে, যারা নিজেরা রোবট তৈরি করেন, নতুন অ্যালগরিদম নিয়ে গবেষণা করেন কিংবা বাস্তবভিত্তিক প্রযুক্তিগত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

ভবিষ্যতের চাকরির জন্য প্রস্তুতি

রোবট ও ড্রোন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো এখানেই—এগুলো এমন অনেক কর্মক্ষেত্র তৈরি করছে, যেগুলোর অস্তিত্ব এক দশক আগেও ছিল না।

প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে রোবট নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার তৈরি ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন থেকেই শিক্ষার্থীদের এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে চাইছে, যা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে রাখবে।

আজকের অব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ কক্ষ কিংবা পুরোনো ভবনের একটি অংশ আগামী দিনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আর সেই গবেষণাগার থেকেই তৈরি হতে পারে এমন রোবট ও ড্রোন, যেগুলো কৃষি, চিকিৎসা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মহাকাশ গবেষণা কিংবা জননিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মানুষের সক্ষমতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

রোবট ও ড্রোন গবেষণাগার তাই কেবল প্রযুক্তি পরীক্ষার জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যতের শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিকেন্দ্র হিসেবেও দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান

যুক্তরাষ্ট্রের  রোবট ও ড্রোন গবেষণায় নতুন যুগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার

০৩:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোবট ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। কৃষিতে কীটপতঙ্গ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে দুর্যোগের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষ খুঁজে বের করা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও শুধু শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি শেখানোর পরিবর্তে বাস্তব পরিবেশে রোবট ও ড্রোন পরীক্ষা, পরিচালনা, নির্মাণ ও গবেষণার জন্য বিশেষায়িত পরীক্ষাগার গড়ে তুলছে।

এই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ হাজার বর্গফুটের অব্যবহৃত একটি ভূগর্ভস্থ স্থানকে অত্যাধুনিক রোবট ও ড্রোন গবেষণাগারে রূপান্তর করেছে। নতুন এই স্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত বিকাশমান রোবট প্রকৌশল শিক্ষাক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের হাতে-কলমে কাজের সুযোগ দিচ্ছে।

বাস্তব পরিবেশে প্রযুক্তি পরীক্ষার সুযোগ

রোবট ও ড্রোনের সক্ষমতা যাচাই করতে সব সময় সাধারণ কক্ষ যথেষ্ট নয়। কোনো ড্রোন প্রবল বাতাসে কতটা কার্যকর, কোনো রোবট বালুর ওপর দিয়ে চলতে পারে কি না কিংবা পানির নিচে যোগাযোগ করতে পারে কি না—এসব পরীক্ষা করতে ভিন্ন ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন।

বিশেষায়িত পরীক্ষাগারগুলো সেই সুযোগ তৈরি করছে। গবেষকরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে যন্ত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ ড্রোনচালকেরা ভুল করে শেখার সুযোগ পাচ্ছেন, যেখানে পরীক্ষার সময় মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।

Cranfield University lab replicates space to test new robot

অব্যবহৃত জায়গার নতুন ব্যবহার

নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারটি তৈরি করা হয়েছে বিদ্যমান প্রকৌশল ভবনের একটি অব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ অংশে। এতে নতুন ভবন নির্মাণের তুলনায় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হয়েছে।

তবে পুরোনো জায়গাকে নতুন কাজে ব্যবহার করার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কক্ষের আকার, ছাদের উচ্চতা ও বিদ্যমান কাঠামোর কারণে খুব বড় ড্রোন বা নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষামূলক পরিস্থিতি সেখানে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই গবেষণাগার তৈরির আগে ভবিষ্যৎ শিক্ষাক্রম ও গবেষণার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় বিষয়

রোবট ও ড্রোন গবেষণাগার তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ। কারণ চলন্ত ড্রোন দেয়াল, জানালা কিংবা অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে পারে। আবার শক্তিশালী ব্যাটারি, বিশেষ করে লিথিয়ামভিত্তিক ব্যাটারি, আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে তাই ড্রোনের সম্ভাব্য আঘাত সামলাতে বিশেষ শক্তিশালী কাচ ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষার জায়গা ও পর্যবেক্ষণ এলাকার মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য জালও ব্যবহার করা হয়েছে।

ছাদ ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষার পাশাপাশি গবেষক, দর্শনার্থী এবং ক্যামেরা সরঞ্জামকে সম্ভাব্য আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতেও এই জাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য আলাদা কক্ষ রাখা হয়েছে, যাতে আগুনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আলো ও ক্যামেরারও বিশেষ ব্যবস্থা

আধুনিক রোবট গবেষণাগারে শুধু জায়গা থাকলেই চলে না। গবেষণার প্রতিটি মুহূর্ত ধারণ ও বিশ্লেষণের জন্য উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে ছাদের কাছে একাধিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এগুলো আকাশে উড়ন্ত ড্রোন কিংবা মেঝেতে চলা রোবটের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। ক্যামেরাগুলোর সরাসরি দৃশ্যপথ প্রয়োজন হওয়ায় গবেষণাগারের নকশায় এ বিষয়টি শুরু থেকেই বিবেচনা করা হয়েছে।

আলোও গুরুত্বপূর্ণ। আলো এতটা উজ্জ্বল হতে হবে, যাতে ক্যামেরা ও গবেষকেরা সূক্ষ্ম বিষয় দেখতে পারেন; আবার অতিরিক্ত ঝলক যেন ড্রোনচালকের কাজে বাধা না দেয়। কোনো কোনো পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অন্ধকার পরিবেশও প্রয়োজন হয়। এ কারণে কিছু গবেষণাগারে আলো নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বদলাবে গবেষণাগারের নকশা

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন এক নয়। তাই একটি নির্দিষ্ট নকশা অনুসরণ করে সব রোবট গবেষণাগার তৈরি করা সম্ভব নয়।

কোথায় কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হবে, কোথায় স্বাস্থ্যসেবা, আবার কোথাও দুর্যোগ মোকাবিলা বা জননিরাপত্তা নিয়ে কাজ হবে—তার ওপর গবেষণাগারের কাঠামো নির্ভর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েক টেক কমিউনিটি কলেজে জননিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতির প্রশিক্ষণের জন্য এমন একটি স্থাপনা তৈরি হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম রাস্তা, ভবনের সামনের অংশ, যানবাহন এবং বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণ করা যায়। সেখানে অন্ধকার, ঝলকানো আলো, উচ্চ শব্দ এমনকি ধোঁয়ার পরিবেশও তৈরি করা সম্ভব।

এর ফলে ড্রোনচালকেরা শুধু স্বাভাবিক পরিবেশে নয়, দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতির মতো জটিল পরিবেশেও প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

তৈরি ও মেরামতের জন্যও দরকার আলাদা জায়গা

Scientists in 'autonomous laboratories' are starting to outsource work to  robots | NCPR News

রোবট গবেষণাগারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নির্মাণ ও মেরামতের স্থান। নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে পরীক্ষার জায়গার কাছেই যন্ত্র তৈরির ও মেরামতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এতে শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা রোবটের যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, উন্নয়ন ও মেরামতের কাজ একই স্থানে করতে পারেন। অতিরিক্ত সরঞ্জাম রাখার জন্য সিঁড়ির নিচে এবং উঁচু মঞ্চের নিচেও সংরক্ষণস্থল তৈরি করা হয়েছে।

এই ধরনের নমনীয় নকশা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি পরিবর্তিত হলেও গবেষণাগারকে কার্যকর রাখার সুযোগ দেয়।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আকর্ষণেও বড় ভূমিকা

আধুনিক রোবট গবেষণাগার শুধু গবেষণার জন্য নয়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আকর্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নেব্রাস্কা-লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন রোবট প্রকৌশল স্নাতক কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। গবেষণাগারকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে নতুন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও তৈরি হয়েছে এবং বাইরের বিনিয়োগ পেয়েছে।

এ ধরনের সুবিধা এমন শিক্ষকদেরও আকৃষ্ট করছে, যারা নিজেরা রোবট তৈরি করেন, নতুন অ্যালগরিদম নিয়ে গবেষণা করেন কিংবা বাস্তবভিত্তিক প্রযুক্তিগত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

ভবিষ্যতের চাকরির জন্য প্রস্তুতি

রোবট ও ড্রোন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো এখানেই—এগুলো এমন অনেক কর্মক্ষেত্র তৈরি করছে, যেগুলোর অস্তিত্ব এক দশক আগেও ছিল না।

প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে রোবট নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার তৈরি ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন থেকেই শিক্ষার্থীদের এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে চাইছে, যা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে রাখবে।

আজকের অব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ কক্ষ কিংবা পুরোনো ভবনের একটি অংশ আগামী দিনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আর সেই গবেষণাগার থেকেই তৈরি হতে পারে এমন রোবট ও ড্রোন, যেগুলো কৃষি, চিকিৎসা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মহাকাশ গবেষণা কিংবা জননিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মানুষের সক্ষমতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

রোবট ও ড্রোন গবেষণাগার তাই কেবল প্রযুক্তি পরীক্ষার জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যতের শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিকেন্দ্র হিসেবেও দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।