০৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্টিভ আরউইনের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাবাকে ‘সুপারহিরো’ বললেন মেয়ে বিন্দি ইউরোপজুড়ে নাশকতার ভয়াবহ বিস্তার, রাশিয়াকেই প্রধান সন্দেহভাজন মনে করছে পশ্চিমারা ৩ বিলিয়ন ডলার তুলতে হংকংয়ে শেয়ারবাজারে আসছে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান মুনশট ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রসীমায় নৌ-ড্রোনের জ্বালানি ভরতে রোবট পরীক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের তথ্য ফাঁস ঠেকাতে বন্ধ করা হলো বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার নতুন সরবরাহ আসেনি, এরই মধ্যে বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম বরফ গলছে, বদলাচ্ছে বিশ্বরাজনীতি: কেন গ্রিনল্যান্ড ঘিরে বাড়ছে শক্তির লড়াই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ৯ দিন পর নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার ২ শ্রমিক মার্কিন হামলার কারণে দুবাইগামী ফ্লাইট কমল, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা ভিসা দেওয়ার নামে প্রতারণা, দালালদের বিষয়ে সতর্ক করল ভারতীয় হাইকমিশন

হবিগঞ্জে অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর সিলেটে উদ্ধার কিশোর, পরিবারের শঙ্কা পাচারের

হবিগঞ্জের মাধবপুরে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাকে সিলেটের শাহপরান এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় তার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

উদ্ধার হওয়া কিশোরের নাম সৈয়দ সাদাফ। সে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রাতের আঁধারে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সাদাফকে বাড়ির কাছাকাছি এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে ধরে নিয়ে যায়। তাদের সংখ্যা ছিল তিন থেকে চারজন।

অভিযোগ রয়েছে, সাদাফকে ধরে নেওয়ার আগে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তাকে জোর করে একটি হাইচ গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর গাড়িতে করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।

সাদাফ পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিলেন। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও বেড়েছে।

সিলেটের সড়কে ফেলে রেখে যায়

সাদাফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতের শেষ দিকে তাকে সিলেটের জাফলং সড়কের শাহপরান এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায় অপহরণকারীরা।

রাতের ওই সময়ে অপরিচিত একটি এলাকায় একা অবস্থায় পড়ে যায় কিশোরটি। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন মানুষ তাকে দেখতে পান। এক সিএনজি অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় তার পরিচয় ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা হয়।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে সাদাফকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

সংঘবদ্ধ চক্রের সন্দেহ পরিবারের

সাদাফের বাবা সৈয়দ শাহীন মনে করছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। তার ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পনা করে তার ছেলেকে অপহরণ করে থাকতে পারে।

ছেলেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন বা কারা সাদাফকে অপহরণ করেছিল, সেটিও পরিষ্কার নয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

থানায় এখনো সাধারণ ডায়েরি হয়নি

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা জানিয়েছেন, তিনি কিশোর অপহরণের বিষয়ে অবগত নন। এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সাধারণ ডায়েরিও করেনি বলে জানান তিনি।

তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং কখন বাড়িতে ফিরছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অপহরণের পেছনে কারা রয়েছে বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্টিভ আরউইনের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাবাকে ‘সুপারহিরো’ বললেন মেয়ে বিন্দি

হবিগঞ্জে অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর সিলেটে উদ্ধার কিশোর, পরিবারের শঙ্কা পাচারের

০৪:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুরে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাকে সিলেটের শাহপরান এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় তার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

উদ্ধার হওয়া কিশোরের নাম সৈয়দ সাদাফ। সে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রাতের আঁধারে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সাদাফকে বাড়ির কাছাকাছি এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে ধরে নিয়ে যায়। তাদের সংখ্যা ছিল তিন থেকে চারজন।

অভিযোগ রয়েছে, সাদাফকে ধরে নেওয়ার আগে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তাকে জোর করে একটি হাইচ গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর গাড়িতে করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।

সাদাফ পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিলেন। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও বেড়েছে।

সিলেটের সড়কে ফেলে রেখে যায়

সাদাফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতের শেষ দিকে তাকে সিলেটের জাফলং সড়কের শাহপরান এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায় অপহরণকারীরা।

রাতের ওই সময়ে অপরিচিত একটি এলাকায় একা অবস্থায় পড়ে যায় কিশোরটি। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন মানুষ তাকে দেখতে পান। এক সিএনজি অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় তার পরিচয় ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা হয়।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে সাদাফকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

সংঘবদ্ধ চক্রের সন্দেহ পরিবারের

সাদাফের বাবা সৈয়দ শাহীন মনে করছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। তার ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পনা করে তার ছেলেকে অপহরণ করে থাকতে পারে।

ছেলেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন বা কারা সাদাফকে অপহরণ করেছিল, সেটিও পরিষ্কার নয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

থানায় এখনো সাধারণ ডায়েরি হয়নি

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা জানিয়েছেন, তিনি কিশোর অপহরণের বিষয়ে অবগত নন। এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সাধারণ ডায়েরিও করেনি বলে জানান তিনি।

তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং কখন বাড়িতে ফিরছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অপহরণের পেছনে কারা রয়েছে বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।