উত্তরাঞ্চলে হিমেল বাতাস, ভোরের কুয়াশা আর শিশিরভেজা ঘাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমনের। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় রোববার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দিনের বেলা রোদে উষ্ণতা থাকলেও মধ্যরাতের পর থেকে সকাল পর্যন্ত বাড়ছে শীতের অনুভূতি। এদিকে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৭৮০টি নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের বাসিন্দারা আসন্ন শীত নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, রোববার সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাতে বাড়ছে শীতের অনুভূতি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে এখন আর পাখা চালানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। অনেকে রাতে হালকা লেপ বা কম্বল ব্যবহার শুরু করেছেন। ভোরে কুয়াশা এবং ঘাসে জমে থাকা শিশিরের উপস্থিতিও বেড়েছে। হিমেল বাতাসে ভোরবেলায় বাইরে কাজ করা মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
নদীতে পাথর উত্তোলনের কাজে যাওয়া শ্রমিকদের হালকা গরম পোশাক পরে কাজে যেতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে শিশিরভেজা চা-পাতার মধ্যে চা-শ্রমিকদেরও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। দিনের বেলার উষ্ণতার বিপরীতে রাত ও সকালের ঠান্ডা আবহাওয়া দৈনন্দিন জীবনে শীতের আমেজ নিয়ে এসেছে।
রংপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তা শীতের মতো আবহাওয়া তৈরি হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে। ভোরের কুয়াশা সাধারণত দিনের অগ্রগতির সঙ্গে কেটে যায়। তবে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে তিনি জানান।
চরাঞ্চলে শীত নিয়ে উদ্বেগ
উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৭৮০টি নদীবেষ্টিত চরের বাসিন্দারা শীতের আগমন নিয়ে উদ্বিগ্ন। এসব এলাকার মানুষের আশঙ্কা, তাপমাত্রা আরও কমলে দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। লালমনিরহাটের চরাঞ্চলের বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর ঠান্ডা বাড়ে এবং সকাল পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়।
চর ইছলীর বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, সন্ধ্যা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঠান্ডার অনুভূতি থাকে। রাতে কম্বল ব্যবহার করা প্রয়োজন হচ্ছে।
শীত মোকাবিলায় প্রস্তুতি
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান জানান, শীত মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের তালিকা তৈরির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কার মধ্যে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সময়মতো সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে শীতের তীব্রতা বাড়লে যেসব মানুষের অতিরিক্ত গরম কাপড় ও অন্যান্য সহায়তা প্রয়োজন হবে, তাদের চিহ্নিত করতে প্রশাসনের তালিকা তৈরির উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উত্তরাঞ্চলে ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাস শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। তাপমাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের প্রস্তুতি এবং সরকারি সহায়তার কার্যকারিতাও আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।












