০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
ইশান খট্টরের আবেগী স্বীকারোক্তি, অস্কারের মঞ্চে না পৌঁছালেও ‘হোমবাউন্ড’ চিরকাল হৃদয়ের কাছেই বিরল রোগে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ওষুধ: ব্রিটেনের সাহসী সিদ্ধান্তে খুলছে নতুন চিকিৎসার দিগন্ত জাপানে আগাম ভোটের বড় বাজি, তাকাইচির ক্ষমতা পরীক্ষার দিনক্ষণ সিরিয়ার কুর্দিদের পতন: উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় স্বায়ত্তশাসনের শেষ অধ্যায় কিশোরগঞ্জে গরুবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ১২ যশোরে বিয়ের বাস খাদে, আহত অন্তত ১২ জন গাজীপুরে শ্রমিক–পুলিশ সংঘর্ষ, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল কেমন আছেন?’— দাভোসে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজকে জিজ্ঞেস করলেন ট্রাম্প আমাকে ক্ষেপালে আপনার হাফপ্যান্ট খুলে যাবে, কারণ আমরা শেখ হাসিনার হাফপ্যান্ট খুলে দিয়েছিলাম: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ

জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করা ফারাবীসহ রাবির ৩ শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে পিটুনি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শিক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করা আল ফারাবীও হামলার শিকার হন। বুধবার রাতে কাজলা ক্যানটিন এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।


হামলার শিকার তিন শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শিক্ষার্থীর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে তারা গুরুতর আহত হন। বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট সংলগ্ন কাজলা ক্যানটিনে খাবার খাওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজনের হাত কেটে যায়।

আহতরা হলেন—ফিন্যান্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আল ফারাবী, ২০২৩-২৪ বর্ষের তামজিদ আহমেদ বখশী এবং নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ রহমান। আহত বখশী রাবি মেডিক্যাল সেন্টারে এবং ফারাবী ও মিনহাজ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ ছাড়েন ফারাবী

আল ফারাবী নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

ক্যানটিনে ঢুকে এলোপাতাড়ি হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে কাজলা ক্যানটিনে কয়েকজন শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ১০–১৫ মোটরসাইকেলে করে মুখে কালো কাপড় ও হেলমেট পরিহিত একটি দল সেখানে এসে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছবি দেখিয়ে একজনকে খুঁজতে থাকে। এরপর হঠাৎ তারা এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করে। তাদের হাতে হাতুড়ি, রড, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল।

সেখান থেকে ফারাবী ও বখশীকে মারধর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় তারা। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফারাবীকে বেতার মাঠের পাশে এবং বখশীকে হবিবুর রহমান হলের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ—নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

হামলার পর রাতেই কিছু শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। রাত দেড়টার দিকে কাজলা গেটে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, জনসম্মুখে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে—নিরাপত্তা কোথায়? অবিলম্বে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তি দিতে হবে।

বখশীর বর্ণনা: “আসলডারে ধইরা ফালছি”

ভুক্তভোগী তামজিদ আহমেদ বখশী বলেন, ‘আমরা কাজলা ক্যানটিনে বসে খাচ্ছিলাম। এ সময় মুখোশ ও হেলমেট পরা একটি দল মোটরসাইকেলে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে ক্যানটিনের সামনে ফেলে পেটায় এবং রিকশায় তুলে সুইটের মোড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে অন্ধকারে বসিয়ে নানা প্রশ্ন করে। একপর্যায়ে একজন ফোনে বলে, “আসলডারে ধইরা ফালছি, ওরে ছাড়।” পরে আধা ঘণ্টা হাঁটিয়ে আমাকে কাজলা মোল্লা স্কুলের পেছনে ফেলে যায়। তারা বলছিল, “ও ছাত্রলীগ, ওরে ধর।” তাদের কাউকে চিনতে পারিনি, তবে মনে হয়েছে ছাত্রলীগের কাউকে খুঁজতে গিয়ে আমাদের মারধর করেছে।’

“তুই ছাত্রলীগ করতি”—ঘটনার আরও প্রত্যক্ষদর্শী

প্রত্যক্ষদর্শী সিজান বলেন, ‘খাওয়ার সময় কয়েকজন মুখ ঢাকা ও হেলমেট পরা লোক এসে “তুই ছাত্রলীগ করতি” বলেই কলার ধরে ফারাবীকে মারতে শুরু করে। বখশী বাধা দিলে তাকেও মাটিতে ফেলে পেটায়। পরে বাইকে করে দুজনকে তুলে নিয়ে যায়। কয়েকজন ফারাবীকে কিচেনে নিয়েও মারধর করে এবং কেউ বাধা দিলে গুলি করবে বলে হুমকি দেয়। দুই ঘণ্টা পর তাদের ফেলে গেলে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

মিনহাজের ওপরও ধারালো অস্ত্রের আঘাত

আহত শিক্ষার্থী মিনহাজ রহমান বলেন, ‘আমি ক্যানটিনে খাবার নিতে এসেছিলাম। তখন কয়েকজন মিলে ফারাবীকে মারতে থাকে। তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘মুখ ঢেকে এবং কেউ কেউ হেলমেট পরে আমাদের দুজন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। পরে দুজনকেই উদ্ধার করা হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’


জনপ্রিয় সংবাদ

ইশান খট্টরের আবেগী স্বীকারোক্তি, অস্কারের মঞ্চে না পৌঁছালেও ‘হোমবাউন্ড’ চিরকাল হৃদয়ের কাছেই

জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করা ফারাবীসহ রাবির ৩ শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে পিটুনি

০৩:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শিক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করা আল ফারাবীও হামলার শিকার হন। বুধবার রাতে কাজলা ক্যানটিন এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।


হামলার শিকার তিন শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শিক্ষার্থীর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে তারা গুরুতর আহত হন। বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট সংলগ্ন কাজলা ক্যানটিনে খাবার খাওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজনের হাত কেটে যায়।

আহতরা হলেন—ফিন্যান্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আল ফারাবী, ২০২৩-২৪ বর্ষের তামজিদ আহমেদ বখশী এবং নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ রহমান। আহত বখশী রাবি মেডিক্যাল সেন্টারে এবং ফারাবী ও মিনহাজ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ ছাড়েন ফারাবী

আল ফারাবী নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

ক্যানটিনে ঢুকে এলোপাতাড়ি হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে কাজলা ক্যানটিনে কয়েকজন শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ১০–১৫ মোটরসাইকেলে করে মুখে কালো কাপড় ও হেলমেট পরিহিত একটি দল সেখানে এসে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছবি দেখিয়ে একজনকে খুঁজতে থাকে। এরপর হঠাৎ তারা এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করে। তাদের হাতে হাতুড়ি, রড, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল।

সেখান থেকে ফারাবী ও বখশীকে মারধর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় তারা। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফারাবীকে বেতার মাঠের পাশে এবং বখশীকে হবিবুর রহমান হলের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ—নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

হামলার পর রাতেই কিছু শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। রাত দেড়টার দিকে কাজলা গেটে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, জনসম্মুখে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে—নিরাপত্তা কোথায়? অবিলম্বে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তি দিতে হবে।

বখশীর বর্ণনা: “আসলডারে ধইরা ফালছি”

ভুক্তভোগী তামজিদ আহমেদ বখশী বলেন, ‘আমরা কাজলা ক্যানটিনে বসে খাচ্ছিলাম। এ সময় মুখোশ ও হেলমেট পরা একটি দল মোটরসাইকেলে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে ক্যানটিনের সামনে ফেলে পেটায় এবং রিকশায় তুলে সুইটের মোড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে অন্ধকারে বসিয়ে নানা প্রশ্ন করে। একপর্যায়ে একজন ফোনে বলে, “আসলডারে ধইরা ফালছি, ওরে ছাড়।” পরে আধা ঘণ্টা হাঁটিয়ে আমাকে কাজলা মোল্লা স্কুলের পেছনে ফেলে যায়। তারা বলছিল, “ও ছাত্রলীগ, ওরে ধর।” তাদের কাউকে চিনতে পারিনি, তবে মনে হয়েছে ছাত্রলীগের কাউকে খুঁজতে গিয়ে আমাদের মারধর করেছে।’

“তুই ছাত্রলীগ করতি”—ঘটনার আরও প্রত্যক্ষদর্শী

প্রত্যক্ষদর্শী সিজান বলেন, ‘খাওয়ার সময় কয়েকজন মুখ ঢাকা ও হেলমেট পরা লোক এসে “তুই ছাত্রলীগ করতি” বলেই কলার ধরে ফারাবীকে মারতে শুরু করে। বখশী বাধা দিলে তাকেও মাটিতে ফেলে পেটায়। পরে বাইকে করে দুজনকে তুলে নিয়ে যায়। কয়েকজন ফারাবীকে কিচেনে নিয়েও মারধর করে এবং কেউ বাধা দিলে গুলি করবে বলে হুমকি দেয়। দুই ঘণ্টা পর তাদের ফেলে গেলে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

মিনহাজের ওপরও ধারালো অস্ত্রের আঘাত

আহত শিক্ষার্থী মিনহাজ রহমান বলেন, ‘আমি ক্যানটিনে খাবার নিতে এসেছিলাম। তখন কয়েকজন মিলে ফারাবীকে মারতে থাকে। তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘মুখ ঢেকে এবং কেউ কেউ হেলমেট পরে আমাদের দুজন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। পরে দুজনকেই উদ্ধার করা হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’