০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার এখনও অচল, আন্তঃব্যাংক লেনদেন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ

চার দিন আগে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্ভারের ত্রুটির কারণে আন্তঃব্যাংক ডাটা প্রসেসিং (আইটিডিপি) প্ল্যাটফর্ম এখনও অনলাইনে আসেনি, যার ফলে ব্যাংকগুলোর পারস্পরিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে।

ঘটনার পটভূমি
গত বৃহস্পতিবার সকালেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ভোল্টেজ ওঠানামা শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার বিকল হয়ে যায়। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে স্বয়ংক্রিয় জেনারেটর চালু না হওয়ায় ইউপিএস ব্যাকআপও দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে সার্ভার রুম সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং সব কার্যক্রম থেমে যায়।

প্রভাব: আন্তর্জাতিক লেনদেন ও কার্ড লেনদেন ব্যাহত
সার্ভার অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেটেলমেন্ট, কার্ড-ভিত্তিক লেনদেনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ব্যাংকিং খাতে উল্লেখযোগ্য জটিলতা তৈরি হয়।

বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবে আইটিডিপি প্ল্যাটফর্ম এখনও অফলাইনে।
তিনি বলেন, এনপিএসবি (ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ), আরটিজিএস (রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) ও ব্যাচ সেবাগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। কিন্তু আইটিডিপি সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। কাজ চলমান আছে এবং খুব দ্রুত পুরো সিস্টেম স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গ্রাহক অবহিতকরণ
সম্পূর্ণ সেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার রাখা হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়। ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের সাময়িকভাবে এনপিএসবি সেবা বন্ধ থাকার বিষয় জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

লেনদেনের নিরাপত্তা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই আকস্মিক বিভ্রাটের কারণে কোনো গ্রাহকের অর্থ ঝুঁকিতে পড়েনি। তবে অপ্রত্যাশিত এ ধরনের বন্ধ লেনদেন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটায় বলে তারা উল্লেখ করেন। পরিকল্পিতভাবে সিস্টেম বন্ধ করলে বিকল্প সার্ভার ব্যবহার করা যায়, ফলে তেমন ক্ষতি হয় না।

বিলম্বজনিত জরিমানার সম্ভাবনা
গত বৃহস্পতিবার ছিল অনেক লেনদেন নিষ্পত্তির শেষ দিন। সেই কারণে সার্ভার অচল হয়ে পড়ায় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া বিরল
সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। আগে ২০২১ সালের এপ্রিলে বিটিসিএল লাইনে সমস্যা এবং ২০২৩ সালে দুইবার সার্ভার বিপর্যয় ঘটেছিল। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পুরো সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবারই নতুন অভিজ্ঞতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার এখনও অচল, আন্তঃব্যাংক লেনদেন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ

০৮:২৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

চার দিন আগে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্ভারের ত্রুটির কারণে আন্তঃব্যাংক ডাটা প্রসেসিং (আইটিডিপি) প্ল্যাটফর্ম এখনও অনলাইনে আসেনি, যার ফলে ব্যাংকগুলোর পারস্পরিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে।

ঘটনার পটভূমি
গত বৃহস্পতিবার সকালেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ভোল্টেজ ওঠানামা শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার বিকল হয়ে যায়। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে স্বয়ংক্রিয় জেনারেটর চালু না হওয়ায় ইউপিএস ব্যাকআপও দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে সার্ভার রুম সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং সব কার্যক্রম থেমে যায়।

প্রভাব: আন্তর্জাতিক লেনদেন ও কার্ড লেনদেন ব্যাহত
সার্ভার অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেটেলমেন্ট, কার্ড-ভিত্তিক লেনদেনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ব্যাংকিং খাতে উল্লেখযোগ্য জটিলতা তৈরি হয়।

বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবে আইটিডিপি প্ল্যাটফর্ম এখনও অফলাইনে।
তিনি বলেন, এনপিএসবি (ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ), আরটিজিএস (রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) ও ব্যাচ সেবাগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। কিন্তু আইটিডিপি সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। কাজ চলমান আছে এবং খুব দ্রুত পুরো সিস্টেম স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গ্রাহক অবহিতকরণ
সম্পূর্ণ সেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার রাখা হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়। ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের সাময়িকভাবে এনপিএসবি সেবা বন্ধ থাকার বিষয় জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

লেনদেনের নিরাপত্তা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই আকস্মিক বিভ্রাটের কারণে কোনো গ্রাহকের অর্থ ঝুঁকিতে পড়েনি। তবে অপ্রত্যাশিত এ ধরনের বন্ধ লেনদেন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটায় বলে তারা উল্লেখ করেন। পরিকল্পিতভাবে সিস্টেম বন্ধ করলে বিকল্প সার্ভার ব্যবহার করা যায়, ফলে তেমন ক্ষতি হয় না।

বিলম্বজনিত জরিমানার সম্ভাবনা
গত বৃহস্পতিবার ছিল অনেক লেনদেন নিষ্পত্তির শেষ দিন। সেই কারণে সার্ভার অচল হয়ে পড়ায় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া বিরল
সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। আগে ২০২১ সালের এপ্রিলে বিটিসিএল লাইনে সমস্যা এবং ২০২৩ সালে দুইবার সার্ভার বিপর্যয় ঘটেছিল। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পুরো সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবারই নতুন অভিজ্ঞতা।