০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান কি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ওপর ভর করে অর্থনীতি চাঙা করতে চাইছে?

বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো যখন শিল্পখাত পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, তখন সামরিক ব্যয় আবারও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে সামনে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে শীতল যুদ্ধ পর্যন্ত—বিভিন্ন সময়েই সামরিক গবেষণা ও উৎপাদন নতুন প্রযুক্তি ও শিল্পকে এগিয়ে দিয়েছে। এখন উন্নত দেশগুলো আবারও প্রতিরক্ষা শিল্পকে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোর এক উপায় হিসেবে দেখছে।


বর্ধিত সামরিক ব্যয়: উদ্দেশ্য শুধু নিরাপত্তা নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান—এই তিন শক্তিই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং সামরিক উৎপাদনকে নতুন করে সক্রিয় করছে। এর লক্ষ্য শুধু নিরাপত্তা জোরদার নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রণোদনা, শিল্পের পুনর্জাগরণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি।

চেন ফেংইয়িং, চীনের এক রাষ্ট্র-সম্পর্কিত থিঙ্ক ট্যাঙ্কের গবেষক, বলেন যে আজকের সামরিক শিল্প অনেকটাই দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ সামরিক গবেষণা বেসামরিক শিল্পকেও গতিশীল করে তোলে।

আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো। বিশ্লেষকরা বলেন, সামরিক ব্যয়ের এই উত্থানকে অনেকেই সামরিক কেইনসীয় নীতি হিসেবে দেখছেন।


যুক্তরাষ্ট্র: আক্রমণাত্মকভাবে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে এগিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে শিল্প উৎপাদন পুনর্গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ২০২৬ অর্থবছরে দেশটি প্রায় ১৩.৪ শতাংশ বাড়তি বাজেট অনুমোদন করেছে—যার পরিমাণ প্রায় ১.০১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এটি শুধু স্বল্পমেয়াদি উদ্দীপনা নয়; বরং গভীরভাবে শিল্পভিত্তি পুনর্গঠন, নির্ভরতা কমানো ও চীনের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা।

বিশ্লেষক ঝো চাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা বাজেটকে একপ্রকার যুদ্ধকালীন অর্থনীতি হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের লক্ষ্য সাধারণ শিল্প ফেরানো নয়, বরং সামরিক শিল্পকেন্দ্রিক ‘কৌশলগত উৎপাদন পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনা’।

চেন ফেংইয়িং আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ করতে চায় না; বরং সামরিক যুক্তি ব্যবহার করে কংগ্রেসের বাধা এড়াতে এবং বেসরকারি শিল্পকে যুক্ত করতে চায়। এর মূলমন্ত্র হলো ‘ঘরোয়া শিল্প পুনরুজ্জীবন’।


জাপান: রাজনৈতিক লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিরক্ষা খাতে উত্থান

নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানিকারক শক্তি হতে চায়। তবে জাপানের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিবেচনার চেয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্যই বড় চালিকা শক্তি।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা শিল্পে কম চাহিদা, মূল্যচাপ এবং রপ্তানির সীমাবদ্ধতার কারণে জাপানের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ চেইন দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই সরকার এখন বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে।

সম্প্রতি জাপান অতিরিক্ত ১.১ ট্রিলিয়ন ইয়েন প্রতিরক্ষা বাজেট যুক্ত করেছে, যা মোট ব্যয়কে জিডিপির ২ শতাংশেরও বেশি করেছে।


ইউরোপীয় ইউনিয়ন: নিরাপত্তা সংকট থেকে প্রণোদনা

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোর প্রতি কম প্রতিশ্রুতি দেখানো—এ দুই কারণে ইউরোপ দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছায়, এবং ২০২৫ সালে এটি প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ইউরোতে উঠতে পারে।

ইইউ নতুন ‘রিআর্ম ইউরোপ প্ল্যান’–এর মাধ্যমে সামরিক ব্যয়কে নতুন শিল্পোন্নয়নের উৎস হিসেবে দেখছে। তবে বাস্তবায়নে বহু দেশ ও স্বার্থের সমন্বয় দরকার হওয়ায় প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল।

ইইউ বিশেষজ্ঞ চুই হোংজিয়ান বলেন, সামরিক শিল্পে রূপান্তরটি মূলত জরুরি প্রতিক্রিয়া—কারণ ইউরোপ মনে করছে যে প্রস্তুতি ছাড়া তারা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

শিল্পবিভক্তির কারণে গবেষণা, উৎপাদন ও বাণিজ্যিকীকরণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ইউরোপে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।


চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক লক্ষ্য

অ্যলিশিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়; বরং অর্থনৈতিক—কারণ পশ্চিমা দেশগুলো শিল্প উৎপাদনে পিছিয়ে গেছে এবং চীনের ওপর সামরিক-শিল্প নির্ভরতা তাদের জন্য বড় উদ্বেগ।

অন্যদিকে ঝো চাও বলেন, সামরিক ব্যয় বাড়ানো শিল্প পুনরুজ্জীবনে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে, কারণ এতে বেসামরিক শিল্পের জন্য সম্পদ কমে যায়।


চীনের জন্য সম্ভাব্য সুযোগ

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নিজেদের সামরিক শিল্প বাড়ালে বেসামরিক খাতে শূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা চীনের জন্য নতুন বাজার ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, উপাদান, বিশেষায়িত উপকরণ এবং নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির যন্ত্রাংশে চাহিদা বাড়তে পারে।


সমাপনী মন্তব্য
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো যখন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের মাধ্যমে শিল্প পুনরুজ্জীবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জনে চেষ্টা করছে, তখন এতে নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতি—সবকিছুই জটিলভাবে জড়িত। সামরিক ব্যয় বাড়ানো একদিকে যেমন শিল্পকে সক্রিয় করছে, অন্যদিকে বেসামরিক খাতে নতুন প্রতিযোগিতা ও সুযোগ—দুই-ই তৈরি করছে।


জনপ্রিয় সংবাদ

আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান কি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ওপর ভর করে অর্থনীতি চাঙা করতে চাইছে?

১১:৫৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো যখন শিল্পখাত পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, তখন সামরিক ব্যয় আবারও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে সামনে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে শীতল যুদ্ধ পর্যন্ত—বিভিন্ন সময়েই সামরিক গবেষণা ও উৎপাদন নতুন প্রযুক্তি ও শিল্পকে এগিয়ে দিয়েছে। এখন উন্নত দেশগুলো আবারও প্রতিরক্ষা শিল্পকে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোর এক উপায় হিসেবে দেখছে।


বর্ধিত সামরিক ব্যয়: উদ্দেশ্য শুধু নিরাপত্তা নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান—এই তিন শক্তিই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং সামরিক উৎপাদনকে নতুন করে সক্রিয় করছে। এর লক্ষ্য শুধু নিরাপত্তা জোরদার নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রণোদনা, শিল্পের পুনর্জাগরণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি।

চেন ফেংইয়িং, চীনের এক রাষ্ট্র-সম্পর্কিত থিঙ্ক ট্যাঙ্কের গবেষক, বলেন যে আজকের সামরিক শিল্প অনেকটাই দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ সামরিক গবেষণা বেসামরিক শিল্পকেও গতিশীল করে তোলে।

আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো। বিশ্লেষকরা বলেন, সামরিক ব্যয়ের এই উত্থানকে অনেকেই সামরিক কেইনসীয় নীতি হিসেবে দেখছেন।


যুক্তরাষ্ট্র: আক্রমণাত্মকভাবে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে এগিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে শিল্প উৎপাদন পুনর্গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ২০২৬ অর্থবছরে দেশটি প্রায় ১৩.৪ শতাংশ বাড়তি বাজেট অনুমোদন করেছে—যার পরিমাণ প্রায় ১.০১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এটি শুধু স্বল্পমেয়াদি উদ্দীপনা নয়; বরং গভীরভাবে শিল্পভিত্তি পুনর্গঠন, নির্ভরতা কমানো ও চীনের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা।

বিশ্লেষক ঝো চাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা বাজেটকে একপ্রকার যুদ্ধকালীন অর্থনীতি হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের লক্ষ্য সাধারণ শিল্প ফেরানো নয়, বরং সামরিক শিল্পকেন্দ্রিক ‘কৌশলগত উৎপাদন পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনা’।

চেন ফেংইয়িং আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ করতে চায় না; বরং সামরিক যুক্তি ব্যবহার করে কংগ্রেসের বাধা এড়াতে এবং বেসরকারি শিল্পকে যুক্ত করতে চায়। এর মূলমন্ত্র হলো ‘ঘরোয়া শিল্প পুনরুজ্জীবন’।


জাপান: রাজনৈতিক লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিরক্ষা খাতে উত্থান

নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানিকারক শক্তি হতে চায়। তবে জাপানের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিবেচনার চেয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্যই বড় চালিকা শক্তি।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা শিল্পে কম চাহিদা, মূল্যচাপ এবং রপ্তানির সীমাবদ্ধতার কারণে জাপানের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ চেইন দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই সরকার এখন বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে।

সম্প্রতি জাপান অতিরিক্ত ১.১ ট্রিলিয়ন ইয়েন প্রতিরক্ষা বাজেট যুক্ত করেছে, যা মোট ব্যয়কে জিডিপির ২ শতাংশেরও বেশি করেছে।


ইউরোপীয় ইউনিয়ন: নিরাপত্তা সংকট থেকে প্রণোদনা

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোর প্রতি কম প্রতিশ্রুতি দেখানো—এ দুই কারণে ইউরোপ দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছায়, এবং ২০২৫ সালে এটি প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ইউরোতে উঠতে পারে।

ইইউ নতুন ‘রিআর্ম ইউরোপ প্ল্যান’–এর মাধ্যমে সামরিক ব্যয়কে নতুন শিল্পোন্নয়নের উৎস হিসেবে দেখছে। তবে বাস্তবায়নে বহু দেশ ও স্বার্থের সমন্বয় দরকার হওয়ায় প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল।

ইইউ বিশেষজ্ঞ চুই হোংজিয়ান বলেন, সামরিক শিল্পে রূপান্তরটি মূলত জরুরি প্রতিক্রিয়া—কারণ ইউরোপ মনে করছে যে প্রস্তুতি ছাড়া তারা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

শিল্পবিভক্তির কারণে গবেষণা, উৎপাদন ও বাণিজ্যিকীকরণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ইউরোপে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।


চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক লক্ষ্য

অ্যলিশিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়; বরং অর্থনৈতিক—কারণ পশ্চিমা দেশগুলো শিল্প উৎপাদনে পিছিয়ে গেছে এবং চীনের ওপর সামরিক-শিল্প নির্ভরতা তাদের জন্য বড় উদ্বেগ।

অন্যদিকে ঝো চাও বলেন, সামরিক ব্যয় বাড়ানো শিল্প পুনরুজ্জীবনে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে, কারণ এতে বেসামরিক শিল্পের জন্য সম্পদ কমে যায়।


চীনের জন্য সম্ভাব্য সুযোগ

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নিজেদের সামরিক শিল্প বাড়ালে বেসামরিক খাতে শূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা চীনের জন্য নতুন বাজার ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, উপাদান, বিশেষায়িত উপকরণ এবং নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির যন্ত্রাংশে চাহিদা বাড়তে পারে।


সমাপনী মন্তব্য
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো যখন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের মাধ্যমে শিল্প পুনরুজ্জীবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জনে চেষ্টা করছে, তখন এতে নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতি—সবকিছুই জটিলভাবে জড়িত। সামরিক ব্যয় বাড়ানো একদিকে যেমন শিল্পকে সক্রিয় করছে, অন্যদিকে বেসামরিক খাতে নতুন প্রতিযোগিতা ও সুযোগ—দুই-ই তৈরি করছে।