নতুন বছরের শুরু মানেই জাপানের ক্রীড়াঙ্গনে শুধু অনুশীলনের প্রস্তুতি নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আত্মসংযম, প্রার্থনা আর মানসিক স্থিরতার এক পুরোনো রীতি। বছরের প্রথম সূর্য ওঠার আগেই অনেক ক্রীড়াবিদ মন্দির আর উপাসনালয়ে যান, প্রার্থনার মাধ্যমে নিজেদের মন ও শরীরকে নতুন প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করেন। জাপানে এই রীতিকে বলা হয় বছরের প্রথম উপাসনা, যা ক্রীড়াবিদদের কাছে এক ধরনের মানসিক ও আধ্যাত্মিক ওয়ার্মআপের মতো।
প্রার্থনার মধ্যেই শুরু মৌসুমের ছন্দ
জাপানের তরুণ থেকে অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদ, সবাই বছরের শুরুতে এই প্রথাকে গুরুত্ব দেন। অলিম্পিক কিংবা বড় টুর্নামেন্টের আগে অনেকেই নিজ নিজ এলাকার পরিচিত মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, দ্রুতগতির জীবনে বছরের শুরুতে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা মনকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে। এই প্রার্থনা কেবল জয় কামনার জন্য নয়, সুস্বাস্থ্য, চোটমুক্ত থাকা এবং নিরাপদ যাত্রার আশীর্বাদ চাওয়ারও একটি উপলক্ষ।

প্রথম অনুশীলনের আলাদা তাৎপর্য
নতুন বছরে প্রতিটি খেলায় প্রথম অনুশীলনের নিজস্ব নাম ও গুরুত্ব আছে। ফুটবলে বছরের প্রথম কিক, বেসবলে প্রথম থ্রো, কুস্তিতে প্রথম অনুশীলন—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে নতুন সূচনার প্রতীকী বার্তা। অনেক সময় এটি হয় হালকা অনুশীলন, কখনো বা সূর্যোদয়ের সঙ্গে সমুদ্রের ঢেউ ছোঁয়ার এক শান্ত মুহূর্ত। পেশাদার ক্রীড়াবিদদের কাছে এই প্রথম অনুশীলন মানে শরীরের পাশাপাশি মনকেও প্রতিযোগিতার ছন্দে আনা।
খেলাধুলায় দেববিশ্বাসের শিকড়
জাপানি ক্রীড়া সংস্কৃতিতে দেববিশ্বাসের ইতিহাস বহু পুরোনো। প্রাচীন কাহিনি ও পুরাণে প্রতিযোগিতার দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাদের আজও শক্তি ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। এই বিশ্বাস সামুরাই ঐতিহ্য থেকে আধুনিক খেলাধুলা পর্যন্ত বিস্তৃত। জাতীয় দলের প্রতীক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্দিরের আচার, সবখানেই এর ছাপ রয়েছে।

ব্যক্তিগত রীতি থেকে ভক্তসংস্কৃতি
অনেক ক্রীড়াবিদ তাবিজ বা সৌভাগ্যের প্রতীক সঙ্গে রাখেন, যা কখনো নিজের সংগ্রহ, কখনো ভক্তদের উপহার। বড় কোনো সাফল্যের পর এসব তাবিজ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, আর মন্দিরগুলো হয়ে যায় সমর্থকদের কাছে শক্তির কেন্দ্র। তবু ক্রীড়াবিদদের কাছে এসব রীতি মূলত ব্যক্তিগত। এগুলো প্রচারের জন্য নয়, বরং আত্মবিশ্বাস আর মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখার উপায়।
শৃঙ্খলা, কৃতজ্ঞতা আর নীরব প্রস্তুতি
জাপানি খেলাধুলায় রুটিন আর রীতির সীমারেখা খুব সূক্ষ্ম। মাঠে নামার আগে নত হওয়া, সরঞ্জাম যত্ন করে রাখা কিংবা ছোট ছোট অভ্যাস—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে কৃতজ্ঞতার ভাব। নতুন বছর তাই ক্রীড়াবিদদের কাছে শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা বদল নয়, বরং মন শুদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















