বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে নতুন এক দাবি তুলে ধরেছে ভারত। দেশটির সরকারি অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় **জাপান**কে ছাড়িয়ে ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও ভারতের এই অগ্রগতি তাদের অর্থনীতির সহনশীলতার প্রতিফলন বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারি হিসাব ও আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস
ভারতের সরকারি হিসাবে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের মূল্য ধরা হয়েছে চার দশমিক এক আট ট্রিলিয়ন ডলার, যা জাপানের সমমানের অর্থনীতিকে অতিক্রম করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও চূড়ান্ত বার্ষিক হিসাব প্রকাশিত হবে আগামী বছর, তবু **আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল**ের পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, আগামী বছর ভারতের অর্থনীতি জাপানের তুলনায় বড় আকার নেবে। সংস্থাটির হিসাবে দুই হাজার ছাব্বিশ সালে ভারতের অর্থনীতির আকার চার দশমিক পাঁচ এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে জাপানের সম্ভাব্য আকার চার দশমিক চার ছয় ট্রিলিয়ন ডলার।

জার্মানিকে ছাড়ানোর লক্ষ্য
সরকারি নথিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলে আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে **জার্মানি**কেও পেছনে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন সাত দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
চ্যালেঞ্জের বাস্তব চিত্র
তবে উজ্জ্বল এই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ভিন্ন বাস্তবতার কথাও সামনে এসেছে। জনসংখ্যার হিসাবে ভারত ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষে উঠে এলেও মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে দেশটি অনেক পিছিয়ে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী ভারতের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ছয় শ চুরানব্বই ডলার, যা জাপান ও জার্মানির তুলনায় বহুগুণ কম। একই সঙ্গে দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষ তরুণ বয়সী হওয়ায় মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নীতিগত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
সরকার বলছে, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমবাজার সংস্কারই হবে আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। গত বছর প্রবৃদ্ধি চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসার পর ভোগ কর হ্রাস ও শ্রম আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকারের মতে, তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারলেই ভারতের এই অর্থনৈতিক উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















