০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ধর্মনিরপেক্ষতা নয়: মালয়েশিয়া–ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি প্রভাবের উত্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান সংকট তীব্র, ট্রাম্প বললেন শাসন বদলের সুযোগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান কাঁপছে, লক্ষ্য শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, আবুধাবিতে নিহত ১ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে আতঙ্ক ও পালানোর হিড়িক পাকিস্তান-আফগান তালেবান সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ

টোকিও থেকে শুরু করে সিউল, কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর এশিয়ার সরকারগুলো দ্রুত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “বড় ধরনের সামরিক অভিযান” শুরুর ঘোষণা দিয়ে ইরানের জনগণকে ভবিষ্যতে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বান জানানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জাপানের সতর্কতা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সম্ভাব্য নানা ঝুঁকি মোকাবিলায় তার সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন এবং ইরানে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইতোমধ্যে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কানাজাওয়া সফর শেষে তিনি দ্রুত টোকিওতে ফিরবেন বলে জানান। তার ফেরার পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়াও জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক আহ্বান
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল অন্য দেশগুলোকে সংঘাতে জড়াতে চাইছে। তিনি সংঘাত বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।

ইন্দোনেশিয়া জানায়, কূটনীতির ব্যর্থতায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত। দেশটি প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দেয় এবং সতর্ক করে যে এই উত্তেজনা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।

চীনের কড়া নজর ও সতর্কবার্তা
ইরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার ও তেল ক্রেতা চীন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তেহরানে অবস্থিত চীনা দূতাবাস নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত গুরুতর ও জটিল” বলে উল্লেখ করে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছে। তেহরান ও বন্দর আব্বাসে হটলাইন চালু করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রাজধানীতে তীব্র বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ইরানে সরকার পরিবর্তন, আর সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো ছিল কেবল কূটনৈতিক আড়াল।

নাগরিক সুরক্ষায় জোর
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জানান, তার জাতীয় নিরাপত্তা দল তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছে। অঞ্চলে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

ভারতের দূতাবাসগুলো নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিয়েছে। তেহরানে ভারতীয়দের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি ইসরায়েল সফর শেষ করেছেন এবং দেশটির পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়েছেন।

থাইল্যান্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, সংঘাত বিস্তৃত হলে তাদের নাগরিকরা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা ব্যক্তিদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় এলাকা ছাড়তে বা আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংঘাতের পটভূমি ও বিস্তার
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত। ওই হামলায় বহু থাই শ্রমিক নিহত ও অপহৃত হন। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে নতুন রূপ দেয়। চলতি বছর ইরানেও সরকারবিরোধী বড় আকারের বিক্ষোভ হয়, যা কঠোরভাবে দমন করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার ঘোষণায় বলেন, ইরান সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্র এবং তারা নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও সহিংসতা চালিয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন।

তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধের চেষ্টা করে। বর্তমানে দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার।

তেলের দামে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বড় অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়তে পারে। দাম ১০০ ডলারে পৌঁছালে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হবে, ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহারে শিথিল নীতি গ্রহণে ধীরগতি দেখাতে পারে, বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতিতে।

জ্বালানি ও পরিবহন খাতে প্রভাব
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে জাপানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ আকাশসীমা সীমিত করায় বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। জাপান এয়ারলাইন্স দোহাগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রুট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দরগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব সেবা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ধর্মনিরপেক্ষতা নয়: মালয়েশিয়া–ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি প্রভাবের উত্থান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ

০৭:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টোকিও থেকে শুরু করে সিউল, কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর এশিয়ার সরকারগুলো দ্রুত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “বড় ধরনের সামরিক অভিযান” শুরুর ঘোষণা দিয়ে ইরানের জনগণকে ভবিষ্যতে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বান জানানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জাপানের সতর্কতা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সম্ভাব্য নানা ঝুঁকি মোকাবিলায় তার সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন এবং ইরানে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইতোমধ্যে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কানাজাওয়া সফর শেষে তিনি দ্রুত টোকিওতে ফিরবেন বলে জানান। তার ফেরার পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়াও জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক আহ্বান
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল অন্য দেশগুলোকে সংঘাতে জড়াতে চাইছে। তিনি সংঘাত বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।

ইন্দোনেশিয়া জানায়, কূটনীতির ব্যর্থতায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত। দেশটি প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দেয় এবং সতর্ক করে যে এই উত্তেজনা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।

চীনের কড়া নজর ও সতর্কবার্তা
ইরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার ও তেল ক্রেতা চীন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তেহরানে অবস্থিত চীনা দূতাবাস নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত গুরুতর ও জটিল” বলে উল্লেখ করে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছে। তেহরান ও বন্দর আব্বাসে হটলাইন চালু করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রাজধানীতে তীব্র বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ইরানে সরকার পরিবর্তন, আর সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো ছিল কেবল কূটনৈতিক আড়াল।

নাগরিক সুরক্ষায় জোর
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জানান, তার জাতীয় নিরাপত্তা দল তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছে। অঞ্চলে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

ভারতের দূতাবাসগুলো নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিয়েছে। তেহরানে ভারতীয়দের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি ইসরায়েল সফর শেষ করেছেন এবং দেশটির পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়েছেন।

থাইল্যান্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, সংঘাত বিস্তৃত হলে তাদের নাগরিকরা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা ব্যক্তিদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় এলাকা ছাড়তে বা আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংঘাতের পটভূমি ও বিস্তার
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত। ওই হামলায় বহু থাই শ্রমিক নিহত ও অপহৃত হন। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে নতুন রূপ দেয়। চলতি বছর ইরানেও সরকারবিরোধী বড় আকারের বিক্ষোভ হয়, যা কঠোরভাবে দমন করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার ঘোষণায় বলেন, ইরান সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্র এবং তারা নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও সহিংসতা চালিয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন।

তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধের চেষ্টা করে। বর্তমানে দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার।

তেলের দামে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বড় অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়তে পারে। দাম ১০০ ডলারে পৌঁছালে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হবে, ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহারে শিথিল নীতি গ্রহণে ধীরগতি দেখাতে পারে, বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতিতে।

জ্বালানি ও পরিবহন খাতে প্রভাব
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে জাপানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ আকাশসীমা সীমিত করায় বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। জাপান এয়ারলাইন্স দোহাগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রুট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দরগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব সেবা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।