যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পাখির সংখ্যা শুধু কমছেই না, আগের তুলনায় আরও দ্রুত হারে কমছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, বিশেষ করে উষ্ণ ও ক্রমশ উষ্ণতর অঞ্চলে এই পতন সবচেয়ে তীব্র। একই সঙ্গে নিবিড় কৃষিকাজের এলাকাগুলোতেও পাখির সংখ্যা কমার গতি বেশি। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে এতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গবেষণার চিত্র: তিন দশকে বড় পতন
১৯৮৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, নির্দিষ্ট পথ ধরে পাখি গণনার গড় সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৯৮৭ সালে প্রতি পথে গড়ে ছিল ২০৩৪টি পাখি। ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় গড়ে ৩০৪টি পাখি কম, অর্থাৎ প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফ্লোরিডা, টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে। সাধারণভাবে দেখা গেছে, উষ্ণ অঞ্চল এবং গত তিন দশকে যেসব এলাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে, সেখানেই পতন বেশি। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পতনের গতি কেন বাড়ছে
গবেষণায় আরও দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পতনের গতি বাড়ছে। প্রথমদিকে যেখানে একটি নির্দিষ্ট পথে বছরে গড়ে প্রায় ১০টি পাখি কমছিল, গবেষণা সময়সীমার শেষে তা বেড়ে বছরে প্রায় ১৯টিতে পৌঁছায়।
গবেষকেরা বিশ্লেষণে ক্যালিফোর্নিয়া, মধ্য-পশ্চিম ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে দ্রুত পতনের কেন্দ্রচিহ্ন শনাক্ত করেছেন। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে ২০টি সূচক যাচাই করে দেখা যায়, সার ব্যবহার, কীটনাশক প্রয়োগ এবং চাষযোগ্য জমির বিস্তার—সব ধরনের কৃষি নিবিড়তার সূচকই পতনের গতি বাড়ার সঙ্গে শক্ত সম্পর্ক দেখিয়েছে।

কীটপতঙ্গ সংকট কি মূল কারণ
বহু বিজ্ঞানীর মতে, কীটপতঙ্গের জগতে যে অদৃশ্য সংকট চলছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাখির ওপর। উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ স্থলচর পাখি জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে কীটপতঙ্গের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে বাচ্চা অবস্থায়। পূর্বের এক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছিল, ১৯৭০ সালের পর থেকে যে বিপুল সংখ্যক পাখি কমেছে, তার বেশিরভাগই ছিল কীটভুক প্রজাতি।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা সম্পর্ক নির্দেশ করে, সরাসরি কারণ প্রমাণ করে না। পরিযায়ী পথ, শীতকালীন আবাস বা অন্য পরিবেশগত চাপগুলোও এখানে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যান্য চাপ ও একটি আশার খবর
পাখিদের ওপর আরও নানা চাপ রয়েছে। বিড়ালের আক্রমণ, কাঁচের জানালায় ধাক্কা খাওয়া, আবাসস্থল ধ্বংস—এসবও বড় কারণ। জলবায়ু পরিবর্তন প্রাকৃতিক চক্রের সময়সূচি বদলে দিচ্ছে, যা পাখি ও কীটপতঙ্গ উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে।
তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। বনাঞ্চলভিত্তিক পাখির সংখ্যা স্থিতিশীল বা কিছু ক্ষেত্রে বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিত্যক্ত কৃষিজমি আবার বনে পরিণত হওয়ায় কিছু এলাকায় তাদের আবাস বাড়ছে।
জীববৈচিত্র্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
পাখি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালোভাবে পরিমাপযোগ্য প্রাণীগোষ্ঠীর একটি এবং পরিবেশের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই তাদের দ্রুত পতন শুধু একটি প্রজাতির সংকট নয়, বৃহত্তর বাস্তুতন্ত্রের জন্যও সতর্কবার্তা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপে প্রাকৃতিক জগতের ক্ষয়ক্ষতি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একক কোনো কারণ নয়, বরং একাধিক চাপ মিলেই এই পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 








