Rishabh Pant সড়ক দুর্ঘটনার পর অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের আবেগ পেরিয়ে হোয়াইট বল ক্রিকেটে তাঁর অবস্থান এখন জটিল হিসাবের মুখে। বার্বাডোজে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার পর থেকে আন্তর্জাতিক সাদা বলের মঞ্চে পান্তের উপস্থিতি কার্যত সীমিত। শ্রীলঙ্কা সফরে দুটি টি–টোয়েন্টি ও একটি একদিনের ম্যাচ—এই ছিল পুনরুদ্ধারের পর তাঁর হিসাব। ঘরোয়া সিরিজ হাতে গোনা থাকায় আসন্ন নির্বাচন বৈঠকের আগে প্রশ্ন উঠছেই, ভারতের হোয়াইট বল ভাবনায় পান্ত কি এখনো প্রাসঙ্গিক।
সংখ্যা বনাম সম্ভাবনা
আলোচনার কেন্দ্রে পান্তের সম্ভাবনার বিস্ফোরণ। কিন্তু কঠিন সংখ্যায় তাকালে ছবিটা কঠোর। টি–টোয়েন্টিই প্রথম হাতছাড়া হয়েছে। আইপিএলে নেতৃত্বের চাপ তাঁর খেলায় অনিশ্চয়তা এনেছে বলে মত অনেকের। একই সময়ে বিরাট রদবদলে বিদায় নেন Virat Kohli, Rohit Sharma ও Ravindra Jadeja। সেই স্রোতে পান্তের সামনে জায়গা সংকুচিত হয়েছে, বিশেষ করে যখন Sanju Samson, Dhruv Jurel ও Ishan Kishan ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন।

একদিনের আশ্রয় ও ঘরোয়া মঞ্চ
টি–টোয়েন্টির বাইরে একদিনের ক্রিকেটই ছিল প্রাসঙ্গিক থাকার রাস্তা। বিজয় হাজারে ট্রফি সময়মতো সুযোগ এনে দিলেও পান্ত সেখানে গতি পাননি। চার ম্যাচে রান সীমিত থাকায় চাপ বেড়েছে। তবু ভারতের প্রেক্ষাপটে কেবল ফর্মেই দরজা বন্ধ হয় না। সমস্যা হলো অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা, যেখানে সরলতা তাঁর পক্ষে কাজ করতে পারত।
টেস্টের ধারাবাহিকতা, কিন্তু নির্বাচনের দূরত্ব
২০২৪–এর শেষভাগ থেকে ইংল্যান্ড সফর পর্যন্ত টেস্টে পান্ত ছিলেন উজ্জ্বল। রান, গড় ও স্ট্রাইক রেট—সবই বলছিল আত্মবিশ্বাসের গল্প। একদিনের ক্রিকেটকে টেস্টের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ধরা হলে তাঁর নিয়মিত বিবেচনায় থাকার কথা ছিল। বাস্তবে তা হয়নি।

রাহুল ফ্যাক্টর ও বেঞ্চের সময়
এখানেই আসে KL Rahul প্রসঙ্গ। চোটের কারণে বিশ্বকাপ মিস করা পান্তের জায়গায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে রাহুল স্থায়িত্ব পেয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শান্ত মাথায় ম্যাচ শেষ করেছেন। একদিনের ম্যাচ কম হওয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়েনি। ফলে পান্তকে বেঞ্চেই থাকতে হয়েছে।
বার্তা, সমালোচনা ও বর্তমান বাস্তবতা
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম টেস্টে আউট হওয়ার ধরন নিয়ে ‘গ্যালারির জন্য খেলা’ মন্তব্য করেন কোচ Gautam Gambhir। নাম না বললেও ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল। তার পরের একদিনের সিরিজে পান্তের না থাকা পরিস্থিতিকে আরও পরিষ্কার করে। কিশানের পুনরুত্থানে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র। বাঁহাতি বিকল্প হিসেবে কাগজে পান্তের স্ট্রাইক রেট এগিয়ে থাকলেও মানসিক ছন্দে কিশান এখন সুবিধাজনক জায়গায়।

সামনে ২০২৬, পথটা বাঁকানো
টেস্ট সূচির ফাঁকে ফাঁকে বিরতি পান্তের ছন্দে সাহায্য করছে না। টি–টোয়েন্টি দল থেকে বাইরে, একদিনের সুযোগ কম—এমন অবস্থায় আইপিএল ও হাতে গোনা টেস্টই তাঁর মঞ্চ। কাজটা কঠিন, পথটা খাড়া। তবে এই পাহাড় ডিঙানোর ক্ষমতা পান্তেরই আছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















