০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬
পর্দার সামনে থেকে ক্যামেরার পেছনে কেট উইন্সলেট: তিন দশকের অভিনয় ছুঁয়ে সাহসী নতুন অধ্যায় মাদুরো আটক, ট্রাম্প পন্থীদের উল্লাসে আমেরিকা ফার্স্ট বিতর্কের নতুন মোড় মোহাম্মদপুরে দুঃসাহসিক স্বর্ণালঙ্কার চুরি, রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ১৪ বছর পর বেইজিংয়ে আইরিশ প্রধানমন্ত্রীর সফর বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার থানায় হুমকির পরে গ্রেফতার ও মুক্তি, আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন ভারতের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্বের হৃদয়ের সেতুবন্ধন, মোদি বললেন বুদ্ধ কেবল অতীত নন, বর্তমানও উড়ন্ত গাড়ি থেকে কৃত্রিম সূর্য, আগামীর প্রযুক্তি এখন বাস্তবের দোরগোড়ায় মাদুরো গ্রেপ্তার, তবু ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার মঞ্চে তার ঘনিষ্ঠরাই সক্রিয় রেকর্ডের আড়ালে আকাশপথের বাস্তবতা: লাভ বাড়লেও চাপ কমেনি সুইস আল্পসে নববর্ষের রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শোকে স্তব্ধ ক্রাঁস-মোন্তানা

এলপিজি, চিনি ও ভোজ্যতেলের লাগামহীন দামে ক্ষোভ, কঠোর পদক্ষেপ চায় ভোক্তা অধিকার সংগঠন

এলপিজি, চিনি ও ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক ও টানা মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে ভোক্তা অধিকার বাংলাদেশ। বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে সরকারকে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

চিনি বাজারে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
সংগঠনটির দাবি, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী আমদানি, মিল ও সরবরাহ—এই তিন ধাপেই সমন্বিতভাবে সংকট তৈরি করছে। সাদা চিনি আমদানি বন্ধ থাকা এবং মিল পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ তুলে বলা হয়, এক সপ্তাহ আগেও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকা দামে হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা গেছে। পাইকারিতে দাম বাড়ার পর খুচরায় প্রতি কেজিতে প্রায় দশ টাকা বেড়েছে।

রমজানের আগে পুরোনো কৌশল ফের সক্রিয়
সংগঠনটির মতে, রমজান সামনে রেখে প্রতি বছরই একই ধরনের মূল্য কারসাজি দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রশাসনিক ব্যস্ততাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে সিন্ডিকেটগুলো বাজার অস্থির করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভোজ্যতেলে একতরফা চাপ
সয়াবিন ও পাম তেলের দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতি লিটারে পাঁচ থেকে দশ টাকা বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ–এর তথ্য অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা দাম এক বছরে প্রায় তের শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দাম বাড়ানো হলেও দাম কমলে সেই যুক্তি দেখা যায় না—এতে ভোক্তাদের ওপর একতরফা চাপ পড়ে বলে অভিযোগ।

এলপিজিতে অজুহাতহীন মূল্যবৃদ্ধি
এলপিজির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি ও ঘাটতির পেছনে যৌক্তিক কারণ নেই বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। কিছু ব্যবসায়ী চাহিদার অজুহাতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি নিচ্ছেন। আমদানিকারক ও পরিবেশকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাম নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দাম কার্যকর করতে না পারায় সরকারি হার উপেক্ষিত থাকছে বলেও অভিযোগ।

দুর্বল নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার সমালোচনা
সংগঠনটির বক্তব্য, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতার মিল নেই। বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল এবং নজরদারি অপর্যাপ্ত বলেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এলপিজি, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যদি সিন্ডিকেটের হাতে থাকে, তাহলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও ক্ষয় হবে এবং বাজার ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট হবে।

সরকারের প্রতি সাত দফা দাবি
সংগঠনটি মিল পর্যায়ে চিনি উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহ যাচাই করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে। চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাম, আমদানি ব্যয় ও দেশীয় খুচরা দামের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা দামের অযৌক্তিক ব্যবধান কমাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জোরদার করার দাবি উঠেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বয় করে সরকার নির্ধারিত এলপিজি দাম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মজুত, সরবরাহ ও খুচরা বিক্রি নিবিড়ভাবে নজরদারির কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন বা অন্য কোনো ব্যস্ততায় যেন তদারকি শিথিল না হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিত্যপণ্যের বাজার নজরদারি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, অবিলম্বে কঠোর ও সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে চিনি, এলপিজি সিলিন্ডারসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছে তারা।

পর্দার সামনে থেকে ক্যামেরার পেছনে কেট উইন্সলেট: তিন দশকের অভিনয় ছুঁয়ে সাহসী নতুন অধ্যায়

এলপিজি, চিনি ও ভোজ্যতেলের লাগামহীন দামে ক্ষোভ, কঠোর পদক্ষেপ চায় ভোক্তা অধিকার সংগঠন

০৮:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

এলপিজি, চিনি ও ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক ও টানা মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে ভোক্তা অধিকার বাংলাদেশ। বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে সরকারকে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

চিনি বাজারে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
সংগঠনটির দাবি, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী আমদানি, মিল ও সরবরাহ—এই তিন ধাপেই সমন্বিতভাবে সংকট তৈরি করছে। সাদা চিনি আমদানি বন্ধ থাকা এবং মিল পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ তুলে বলা হয়, এক সপ্তাহ আগেও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকা দামে হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা গেছে। পাইকারিতে দাম বাড়ার পর খুচরায় প্রতি কেজিতে প্রায় দশ টাকা বেড়েছে।

রমজানের আগে পুরোনো কৌশল ফের সক্রিয়
সংগঠনটির মতে, রমজান সামনে রেখে প্রতি বছরই একই ধরনের মূল্য কারসাজি দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রশাসনিক ব্যস্ততাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে সিন্ডিকেটগুলো বাজার অস্থির করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভোজ্যতেলে একতরফা চাপ
সয়াবিন ও পাম তেলের দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতি লিটারে পাঁচ থেকে দশ টাকা বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ–এর তথ্য অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা দাম এক বছরে প্রায় তের শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দাম বাড়ানো হলেও দাম কমলে সেই যুক্তি দেখা যায় না—এতে ভোক্তাদের ওপর একতরফা চাপ পড়ে বলে অভিযোগ।

এলপিজিতে অজুহাতহীন মূল্যবৃদ্ধি
এলপিজির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি ও ঘাটতির পেছনে যৌক্তিক কারণ নেই বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। কিছু ব্যবসায়ী চাহিদার অজুহাতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি নিচ্ছেন। আমদানিকারক ও পরিবেশকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাম নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দাম কার্যকর করতে না পারায় সরকারি হার উপেক্ষিত থাকছে বলেও অভিযোগ।

দুর্বল নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার সমালোচনা
সংগঠনটির বক্তব্য, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতার মিল নেই। বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল এবং নজরদারি অপর্যাপ্ত বলেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এলপিজি, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যদি সিন্ডিকেটের হাতে থাকে, তাহলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও ক্ষয় হবে এবং বাজার ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট হবে।

সরকারের প্রতি সাত দফা দাবি
সংগঠনটি মিল পর্যায়ে চিনি উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহ যাচাই করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে। চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাম, আমদানি ব্যয় ও দেশীয় খুচরা দামের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা দামের অযৌক্তিক ব্যবধান কমাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জোরদার করার দাবি উঠেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বয় করে সরকার নির্ধারিত এলপিজি দাম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মজুত, সরবরাহ ও খুচরা বিক্রি নিবিড়ভাবে নজরদারির কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন বা অন্য কোনো ব্যস্ততায় যেন তদারকি শিথিল না হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিত্যপণ্যের বাজার নজরদারি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, অবিলম্বে কঠোর ও সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে চিনি, এলপিজি সিলিন্ডারসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছে তারা।