ওয়ারেন বাফেটের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে যাঁর নেতৃত্বে এই বিশাল শিল্প ও বিনিয়োগ সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, সেই বাফেট তৃতীয় ও শেষবারের মতো অবসরে যাচ্ছেন। তাঁর সরে দাঁড়ানোর ফলে বিনিয়োগ দুনিয়ায় যেমন আবেগ তৈরি হয়েছে, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা
প্রথম অবসর থেকে চূড়ান্ত বিদায়
ওয়ারেন বাফেটের অবসর শব্দটি নতুন নয়। পঁচিশ বছর বয়সে প্রথমবার তিনি কর্মজীবন থেকে সরে দাঁড়ান, আবার আটত্রিশে বিনিয়োগ তহবিল বন্ধ করে নিজেকে গুটিয়ে নেন। সেই সময়ই তাঁর মনোযোগ ঘুরে যায় বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের দিকে, যা তখন একটি সংকটে থাকা বস্ত্র কারখানা ছিল। সেখান থেকেই শুরু হয় এক অভাবনীয় রূপান্তর, যা বার্কশায়ারকে পরিণত করে ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। এবার পঁচানব্বই বছর বয়সে এসে তিনি প্রধান নির্বাহী পদ ছাড়ছেন, যা তাঁর দীর্ঘ যাত্রার শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক অনন্য সাম্রাজ্যের বিস্তার
আজ বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে শুধু একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এক বিশাল শিল্প ও আর্থিক শক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বীমা সংস্থাগুলোর একটি হিসেবে এর অবস্থান সুদৃঢ়। পাশাপাশি রেলপথ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ভোক্তা পণ্য ও আর্থিক পরিষেবা খাতে এর মালিকানা বিস্তৃত। বিপুল নগদ অর্থ ও শেয়ার বিনিয়োগের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে বাজারে স্থিতিশীলতা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বাফেটের বিনিয়োগ দর্শন
বাফেটকে অনেকেই মূল্যভিত্তিক বিনিয়োগকারী হিসেবে চেনেন, তবে বাস্তবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আরও বিস্তৃত। তিনি এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন যাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে। ভোক্তাদের আস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো কিংবা বাজারে আধিপত্য—এই সবকিছুর সমন্বয়েই তিনি ভবিষ্যৎ সাফল্য দেখতেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিই বার্কশায়ারের শেয়ারকে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারের সূচকের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

উত্তরসূরির সামনে চ্যালেঞ্জ
ওয়ারেন বাফেটের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন গ্রেগরি অ্যাবেল। তিনি মূলত জ্বালানি ও শিল্প খাতে দক্ষ হলেও বিনিয়োগ নির্বাচনে বাফেটের মতো অভিজ্ঞ নন। ফলে বাজারের বড় সিদ্ধান্ত, বিপুল নগদ অর্থ কোথায় কাজে লাগানো হবে কিংবা নতুন অধিগ্রহণ কতটা সফল হবে—এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মনে। বিশেষ করে বাফেটের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ও প্রভাবের অভাব ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
পরিবর্তনের অনিবার্যতা
বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে বরাবরই ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমী শাসন কাঠামোর প্রতিষ্ঠান। লভ্যাংশ না দেওয়া, সীমিত আর্থিক প্রকাশনা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এর বৈশিষ্ট্য। বাফেটের বিদায়ের পর ধীরে ধীরে আরও প্রথাগত করপোরেট কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি হয়তো আরও স্বচ্ছ হবে, তবে সেই সঙ্গে হারাতে পারে তার কিংবদন্তিতুল্য বৈশিষ্ট্যের কিছু অংশ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















