ভেনেজুয়েলাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যত নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায়ে পা রাখল। দেশটির সরকারকে নির্দেশ দেওয়া, নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার এবং বিপুল তেল সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন কোটি মানুষের একটি রাষ্ট্রকে ঘিরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে এসেছে ।
আকস্মিক অভিযানে মাদুরো আটক
ফ্লোরিডার মার আ লাগোতে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানান, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং দেশটিকে নতুন পথে চালিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। একই বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা সাময়িকভাবে ডেলসি রদ্রিগেজের হাতে থাকবে, তবে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানা সাপেক্ষে।
ভেনেজুয়েলার তীব্র প্রতিবাদ
জাতির উদ্দেশে ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে বিদেশি আগ্রাসন বলে আখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, নিকোলাস মাদুরো এখনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা অজুহাতে সার্বভৌম রাষ্ট্রে হস্তক্ষেপ করছে। তাঁর ভাষায়, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যা করা হচ্ছে তা বর্বরতার শামিল।
সামরিক ছায়ায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দখলদারিত্বের শব্দ ব্যবহার এড়িয়ে গেলেও বাস্তবে এক ধরনের তত্ত্বাবধায়ক শাসনের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাটিতে সেনা না থাকলেও প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রতিরোধ দেখা দিলে সেনা মোতায়েন করতে তারা পিছপা হবে না।
তেল সম্পদের প্রশ্নে নতুন সংঘাত
ওয়াশিংটনের যুক্তি অনুযায়ী, অতীতে ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন তেল সম্পদ ও অবকাঠামো জোর করে দখল করেছিল। এখন সেই সম্পদ পুনরুদ্ধার করে আগে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, এরপর ভেনেজুয়েলার জনগণ লাভবান হবে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কতদিন সেনা ও প্রশাসনিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
দীর্ঘ সংঘাতের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ঘটলেও সেনাবাহিনীর অবস্থান কী হবে, তা অনিশ্চিত। বাহিনী বিভক্ত হলে সহিংসতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে, আর ঐক্যবদ্ধ থাকলে নতুন সরকারের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়বে না।
অতীতের ছায়া বর্তমান রাজনীতিতে
এই ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও বন্দুকের নৌকা কূটনীতির যুগে ফিরে যেতে দেখা যাচ্ছে। এক সময় লাতিন আমেরিকায় যে সামরিক আধিপত্য কায়েম হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই ইতিহাসের প্রতিধ্বনি তৈরি করছে। ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত শুধু দেশটির ভবিষ্যৎ নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















