০২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাশিয়ার হুমকিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় লিথুয়ানিয়ার নজিরবিহীন প্রস্তুতি হরমুজে তেল পরিবহনের নতুন কৌশল, খরচ বাড়ছে বহুগুণ প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বই ঘিরে রাজপরিবারে ফের উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ, আর্কটিকের দায়িত্ব নেবে ন্যাটো ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষের দাবি দুই রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীর, ট্রাম্পের অবস্থান থেকে দূরে সরে বার্তা পাইপলাইন হামলার পর উপসাগরীয় পথে সৌদির তেল রপ্তানি বাড়ছে গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুই সামরিক ঘাঁটি গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি আজ ইসলামাবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, পিটিআইয়ের মিছিলে যাচ্ছে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ পিংক বাসে যাত্রী নেই, প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার টাকা লোকসান জাতিসংঘে তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সফর, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নয়: হুমায়ূন কবির

দুই বিলিয়ন ডলারের তেল চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার রপ্তানি, চীনের বাজারে বড় ধাক্কা

ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে কারাকাস। এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেলের বড় একটি অংশ চীনের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবাহিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেও আপাতত রেহাই পাবে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল খাত।

চুক্তির মূল বিষয়

সাম্প্রতিক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ মিলিয়ন ব্যারেল নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হবে। বাজারদরে বিক্রি হওয়া এই তেলের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নজরদারি করবে বলে বলা হয়েছে। এতে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে—এমন দাবিও করা হয়েছে।

Pumpjacks are seen at Lake Maracaibo in Cabimas

চীনের বদলে যুক্তরাষ্ট্র

গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলার প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার পর চীনের দিকেই বেশি ঝুঁকেছিল দেশটি। নতুন এই সমঝোতার ফলে আগে চীনের জন্য নির্ধারিত কার্গো ঘুরে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে শক্তির ভারসাম্যেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিষেধাজ্ঞা ও আটকে থাকা তেল

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে আরোপিত রপ্তানি অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলার বহু তেল ট্যাংকার ও সংরক্ষণাগারে আটকে ছিল। রপ্তানির পথ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছিল রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি। নতুন চুক্তি কার্যকর হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগার ও বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের শোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। অতীতে এখানেই বড় পরিসরে এই তেল আমদানি হতো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তেলের প্রবাহ বাড়লে কর্মসংস্থান, জ্বালানির দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থপ্রবাহ ও অনিশ্চয়তা

তবে এই তেল বিক্রির অর্থ ভেনেজুয়েলার হাতে কতটা পৌঁছাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় ডলার লেনদেনেও বাধা রয়েছে। ফলে চুক্তির অর্থনৈতিক সুফল কতটা মিলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত

দুই পক্ষের আলোচনায় নিলাম পদ্ধতিতে তেল বিক্রি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ অনুমতির বিষয়ও এসেছে। এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতে ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার হুমকিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় লিথুয়ানিয়ার নজিরবিহীন প্রস্তুতি

দুই বিলিয়ন ডলারের তেল চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার রপ্তানি, চীনের বাজারে বড় ধাক্কা

০১:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে কারাকাস। এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেলের বড় একটি অংশ চীনের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবাহিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেও আপাতত রেহাই পাবে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল খাত।

চুক্তির মূল বিষয়

সাম্প্রতিক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ মিলিয়ন ব্যারেল নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হবে। বাজারদরে বিক্রি হওয়া এই তেলের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নজরদারি করবে বলে বলা হয়েছে। এতে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে—এমন দাবিও করা হয়েছে।

Pumpjacks are seen at Lake Maracaibo in Cabimas

চীনের বদলে যুক্তরাষ্ট্র

গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলার প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার পর চীনের দিকেই বেশি ঝুঁকেছিল দেশটি। নতুন এই সমঝোতার ফলে আগে চীনের জন্য নির্ধারিত কার্গো ঘুরে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে শক্তির ভারসাম্যেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিষেধাজ্ঞা ও আটকে থাকা তেল

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে আরোপিত রপ্তানি অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলার বহু তেল ট্যাংকার ও সংরক্ষণাগারে আটকে ছিল। রপ্তানির পথ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছিল রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি। নতুন চুক্তি কার্যকর হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগার ও বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের শোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। অতীতে এখানেই বড় পরিসরে এই তেল আমদানি হতো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তেলের প্রবাহ বাড়লে কর্মসংস্থান, জ্বালানির দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থপ্রবাহ ও অনিশ্চয়তা

তবে এই তেল বিক্রির অর্থ ভেনেজুয়েলার হাতে কতটা পৌঁছাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় ডলার লেনদেনেও বাধা রয়েছে। ফলে চুক্তির অর্থনৈতিক সুফল কতটা মিলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত

দুই পক্ষের আলোচনায় নিলাম পদ্ধতিতে তেল বিক্রি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ অনুমতির বিষয়ও এসেছে। এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতে ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।