০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহে চাচা-ভাতিজা বিদ্যুৎপৃষ্ঠে মৃত্যু জ্বালানি সংকটে সড়কে যান চলাচল কমেছে, ভাড়া বাড়ছে ক্রুড তেলের সংকট: এপ্রিল ১০-এর পর বাংলাদেশের একমাত্র রিফাইনারি  বন্ধ হয়ে যেতে পারে  রংপুর মেডিকেল কলেজে আইসিইউ সংকট: রোগীরা জীবনঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষবারের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান  ইসরায়েলের শহরগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বহু আহত ইউএইতে হামলার ঘটনায় ঘানার নাগরিক আহত, টেলিকম কোম্পানি ভবন ড্রোন হামলার লক্ষ্য ইসরায়েলি হামলা তেহরান লক্ষ্য করলো ওপেক প্লাসের সতর্কবার্তা: তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে লেবাননের রাজধানীতে হাসপাতালে পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামলায় অন্তত ৪ নিহত

অভিযানের মুখে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা

দেশজুড়ে অভিযান ও জরিমানার চাপের মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরবরাহ ও উত্তোলন বন্ধের কর্মসূচি

সংগঠনটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ রাখা হবে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় সারাদেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো হয়।

সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ও কর্মসূচির ঘোষণা

বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সমিতি। দাবি মানা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় সেই অনুযায়ী কর্মসূচির ঘোষণা আসে।

দেশে এলপিজির সংকট পরিস্থিতির দাবি

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা বলেন, দেশে এলপিজি বর্তমানে চরম সংকটময় অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের তথ্যমতে, দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র এক কোটি পঁচিশ লাখ সিলিন্ডারে নিয়মিত গ্যাস রিফিল হচ্ছে। বাকি প্রায় চার কোটি পঁচিশ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে।

পরিবেশকদের ব্যয় ও দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা

সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার খালি পড়ে থাকায় পরিবেশকদের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে, যা এলপিজির দাম বাড়ার একটি বড় কারণ। তার দাবি, অনেক কোম্পানি কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখায় বহু পরিবেশক দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাজ কী হবে? | undefined

কমিশন বৃদ্ধির দাবি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

বিইআরসি ও অভিযানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পরিবেশক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এলপিজির মূল্য সমন্বয় করেছে। এতে সংকট সমাধানের বদলে দামের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংস্থার অভিযান ও জরিমানায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের বন্ধ

সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হবে এবং প্রশাসনিক হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহে চাচা-ভাতিজা বিদ্যুৎপৃষ্ঠে মৃত্যু

অভিযানের মুখে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা

১১:৫২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশজুড়ে অভিযান ও জরিমানার চাপের মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরবরাহ ও উত্তোলন বন্ধের কর্মসূচি

সংগঠনটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ রাখা হবে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় সারাদেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো হয়।

সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ও কর্মসূচির ঘোষণা

বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সমিতি। দাবি মানা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় সেই অনুযায়ী কর্মসূচির ঘোষণা আসে।

দেশে এলপিজির সংকট পরিস্থিতির দাবি

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা বলেন, দেশে এলপিজি বর্তমানে চরম সংকটময় অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের তথ্যমতে, দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র এক কোটি পঁচিশ লাখ সিলিন্ডারে নিয়মিত গ্যাস রিফিল হচ্ছে। বাকি প্রায় চার কোটি পঁচিশ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে।

পরিবেশকদের ব্যয় ও দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা

সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার খালি পড়ে থাকায় পরিবেশকদের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে, যা এলপিজির দাম বাড়ার একটি বড় কারণ। তার দাবি, অনেক কোম্পানি কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখায় বহু পরিবেশক দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাজ কী হবে? | undefined

কমিশন বৃদ্ধির দাবি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

বিইআরসি ও অভিযানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পরিবেশক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এলপিজির মূল্য সমন্বয় করেছে। এতে সংকট সমাধানের বদলে দামের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংস্থার অভিযান ও জরিমানায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের বন্ধ

সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হবে এবং প্রশাসনিক হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।