গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আগ্রহ শুধু ভূখণ্ড বিস্তারের প্রশ্ন নয়, বরং আর্কটিক অঞ্চলে ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের কৌশল। বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে যে নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হচ্ছে, তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামরিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। এই বাস্তবতায় চীন যেন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্বেগ।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কেনা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে সক্রিয় আলোচনা চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভূখণ্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো ঐতিহ্য, এমন উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উদ্যোগের লক্ষ্য উনিশ শতকের মতো ভূমি বাড়ানো নয়, বরং আর্কটিকের নতুন সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
আর্কটিক পথ ও কৌশলগত গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্কটিকের উত্তর-পশ্চিম সমুদ্রপথের পূর্ব দিকের প্রবেশদ্বার হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। ইউরোপ থেকে এশিয়ার পথে যাওয়া জাহাজগুলোকে এই অঞ্চল দিয়েই অতিক্রম করতে হয়। ফলে এই পথে কার নিয়ন্ত্রণ থাকবে, সেটিই ভবিষ্যতে শক্তির বড় মাপকাঠি হয়ে উঠতে পারে।

চীনের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
যদিও চীনের মূল আগ্রহ উত্তর-পূর্ব আর্কটিক পথ ঘিরে, তবু বিকল্প পথের খোঁজে তারা উত্তর-পশ্চিম দিকেও নজর দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বরফ আরও গললে আর্কটিক সহজলভ্য হবে, তখন অবকাঠামো গড়ে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। একবার সেই কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলে তা সরানো কঠিন হয়ে পড়ে, এমন অভিজ্ঞতা বিশ্ব আগেই দেখেছে।
নিরাপত্তা ও সামরিক আশঙ্কা
গ্রিনল্যান্ডের বন্দর, বিমানবন্দর ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো ভবিষ্যতে সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক সক্ষম সাবমেরিনের সম্ভাব্য চলাচল এই অঞ্চলের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এটিকে পানামা খালের মতোই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখছে।
পশ্চিম গোলার্ধে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন
নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, পশ্চিম গোলার্ধে শত্রুভাবাপন্ন কোনো শক্তির প্রভাব বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের দখল তারা মেনে নেবে না। গ্রিনল্যান্ডকে এই নীতির এক বড় পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। হয় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ, নয়তো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান, এই দুই পথই খোলা রাখা হয়েছে।

শেষ কথা
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডই পশ্চিম গোলার্ধের কৌশলগত ছবির শেষ অংশ। পূর্ব আর্কটিকে যে দুর্বলতা যুক্তরাষ্ট্র দেখছে, তা গ্রিনল্যান্ডের মাধ্যমে মোকাবিলা করতেই এই নতুন তৎপরতা। বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে যে প্রতিযোগিতা তীব্র হবে, তার আগেই অবস্থান শক্ত করাই এখন লক্ষ্য।
Sarakhon Report 



















