নির্বাচনের আগে মাঠ প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এসব কর্মকর্তাকে সরিয়ে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে।
নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগ
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের নেতারা এ দাবি তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনের মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। তবে জামায়াতের অভিযোগ, এই যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় বৈষম্য হয়েছে এবং একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

লটারির মাধ্যমে বদলির প্রস্তাবের পটভূমি
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ১১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলির প্রস্তাব দেন। সে সময় তাঁর যুক্তি ছিল, লটারির মাধ্যমে বদলি হলে পক্ষপাতের অভিযোগের সুযোগ থাকবে না।
পরবর্তীতে কয়েকটি জেলায় পুলিশ সুপার নিয়োগে লটারির পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলেও জেলা প্রশাসক নিয়োগে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। অথচ সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিসিরাই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এসপিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মনোনয়ন যাচাইয়ে বৈষম্যের অভিযোগ
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বৈষম্য দেখা গেছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জেলায় দলীয়ভাবে নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের কারণে একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে।
এ কারণে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেসব ডিসি ও এসপি দলীয় প্রভাবের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাঁদের অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে।

প্রচারণা ও নিরাপত্তা নিয়েও অভিযোগ
ভোটের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট দলকে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা অন্য দলগুলো পাচ্ছে না। বিষয়টি তিনি তথ্য উপদেষ্টাকে ফোন করেও জানিয়েছেন বলে জানান।
প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো কোনো প্রার্থী বা নেতাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হলেও একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি কঠোর বার্তা
নির্বাচন কমিশনকে আরও দৃঢ় ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিকার অর্থে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে চায়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচন যদি ‘অ্যারেঞ্জড নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিত হয়, তাহলে দেশ গভীর অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















