১০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ গাড়িতে ধূমপানের ভুলে বদলে গেল জীবন, পুলিশে জানানো সেই চালককেই এখন ধন্যবাদ সাবেক আসক্তের

ভেনেজুয়েলার তেল ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রে স্বস্তি, কানাডার দামে চাপ

ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুরো মাত্রায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল পরিশোধন শিল্প বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। জ্বালানি উৎপাদনের খরচ কমবে, বাজারে জ্বালানি জোগান বাড়বে। তবে একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কানাডার তেল উৎপাদকরা, যাদের ভারী তেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে তেল রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগার গুলো এই তেল গ্রহণে প্রস্তুত, কারণ এসব কারখানা মূলত ভারী তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্যই তৈরি।

উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগারে সুবিধা

নিষেধাজ্ঞার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে একাধিক বড় পরিশোধনাগার ভেনেজুয়েলার ভারী তেল ব্যবহার করত। এসব কারখানা হালকা দেশীয় তেলের তুলনায় ভারী তেল প্রক্রিয়ায় বেশি দক্ষ। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে দ্রুতই ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহিত হতে পারে এবং অন্য দেশ থেকে আসা ভারী তেলকে বাজার থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তেল এলে দাম নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগার লাভবান হলেও কানাডার তেল বিক্রির দর কমে যেতে পারে।

কানাডার উৎপাদকদের চাপে পড়ার আশঙ্কা

নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভেনেজুয়েলার ঘাটতি পূরণে কানাডা উৎপাদন বাড়িয়েছিল। তাদের বেশিরভাগ তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। ভেনেজুয়েলার তেল ফিরে এলে কানাডার ভারী তেল সরাসরি প্রতিযোগিতায় পড়বে। বাজারে অতিরিক্ত যোগানের কারণে কানাডার তেলের দাম কমার শঙ্কা বাড়ছে, যা উৎপাদকদের আয়ের ওপর চাপ তৈরি করবে।

দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ কানাডাকে নতুন রপ্তানি পাইপলাইন তৈরির যুক্তি আরও জোরালো করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

চীনা পরিশোধনাগারের নতুন দুশ্চিন্তা

চীনের ছোট ও স্বাধীন পরিশোধনাগার গুলো এতদিন ভেনেজুয়েলার সস্তা তেলের বড় ক্রেতা ছিল। যদি এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে যায়, তাহলে তাদের বিকল্প খুঁজতে হবে। সেই বিকল্প হিসেবে কানাডা বা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে, যা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এতে চীনা পরিশোধনাগারের উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে তারা রাশিয়া ও ইরান থেকে ছাড়মূল্যের তেল পাওয়ার সুযোগ এখনও রাখছে, যা আংশিক স্বস্তি দিতে পারে।

বাজারে প্রভাব ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলার তেল ফিরে আসার সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, সস্তা তেল এলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তারাও উপকৃত হবে।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শক্তির ভারসাম্য নতুন করে বদলাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হলেও কানাডা ও চীনের কিছু অংশের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়বে।

Anacortes, WA oil refinery at night
জনপ্রিয় সংবাদ

জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস

ভেনেজুয়েলার তেল ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রে স্বস্তি, কানাডার দামে চাপ

১২:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুরো মাত্রায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল পরিশোধন শিল্প বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। জ্বালানি উৎপাদনের খরচ কমবে, বাজারে জ্বালানি জোগান বাড়বে। তবে একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কানাডার তেল উৎপাদকরা, যাদের ভারী তেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে তেল রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগার গুলো এই তেল গ্রহণে প্রস্তুত, কারণ এসব কারখানা মূলত ভারী তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্যই তৈরি।

উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগারে সুবিধা

নিষেধাজ্ঞার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে একাধিক বড় পরিশোধনাগার ভেনেজুয়েলার ভারী তেল ব্যবহার করত। এসব কারখানা হালকা দেশীয় তেলের তুলনায় ভারী তেল প্রক্রিয়ায় বেশি দক্ষ। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে দ্রুতই ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহিত হতে পারে এবং অন্য দেশ থেকে আসা ভারী তেলকে বাজার থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তেল এলে দাম নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগার লাভবান হলেও কানাডার তেল বিক্রির দর কমে যেতে পারে।

কানাডার উৎপাদকদের চাপে পড়ার আশঙ্কা

নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভেনেজুয়েলার ঘাটতি পূরণে কানাডা উৎপাদন বাড়িয়েছিল। তাদের বেশিরভাগ তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। ভেনেজুয়েলার তেল ফিরে এলে কানাডার ভারী তেল সরাসরি প্রতিযোগিতায় পড়বে। বাজারে অতিরিক্ত যোগানের কারণে কানাডার তেলের দাম কমার শঙ্কা বাড়ছে, যা উৎপাদকদের আয়ের ওপর চাপ তৈরি করবে।

দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ কানাডাকে নতুন রপ্তানি পাইপলাইন তৈরির যুক্তি আরও জোরালো করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

চীনা পরিশোধনাগারের নতুন দুশ্চিন্তা

চীনের ছোট ও স্বাধীন পরিশোধনাগার গুলো এতদিন ভেনেজুয়েলার সস্তা তেলের বড় ক্রেতা ছিল। যদি এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে যায়, তাহলে তাদের বিকল্প খুঁজতে হবে। সেই বিকল্প হিসেবে কানাডা বা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে, যা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এতে চীনা পরিশোধনাগারের উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে তারা রাশিয়া ও ইরান থেকে ছাড়মূল্যের তেল পাওয়ার সুযোগ এখনও রাখছে, যা আংশিক স্বস্তি দিতে পারে।

বাজারে প্রভাব ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলার তেল ফিরে আসার সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, সস্তা তেল এলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তারাও উপকৃত হবে।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শক্তির ভারসাম্য নতুন করে বদলাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হলেও কানাডা ও চীনের কিছু অংশের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়বে।

Anacortes, WA oil refinery at night