০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায় বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান

ভেনেজুয়েলার তেল ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রে স্বস্তি, কানাডার দামে চাপ

ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুরো মাত্রায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল পরিশোধন শিল্প বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। জ্বালানি উৎপাদনের খরচ কমবে, বাজারে জ্বালানি জোগান বাড়বে। তবে একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কানাডার তেল উৎপাদকরা, যাদের ভারী তেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে তেল রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগার গুলো এই তেল গ্রহণে প্রস্তুত, কারণ এসব কারখানা মূলত ভারী তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্যই তৈরি।

উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগারে সুবিধা

নিষেধাজ্ঞার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে একাধিক বড় পরিশোধনাগার ভেনেজুয়েলার ভারী তেল ব্যবহার করত। এসব কারখানা হালকা দেশীয় তেলের তুলনায় ভারী তেল প্রক্রিয়ায় বেশি দক্ষ। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে দ্রুতই ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহিত হতে পারে এবং অন্য দেশ থেকে আসা ভারী তেলকে বাজার থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তেল এলে দাম নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগার লাভবান হলেও কানাডার তেল বিক্রির দর কমে যেতে পারে।

কানাডার উৎপাদকদের চাপে পড়ার আশঙ্কা

নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভেনেজুয়েলার ঘাটতি পূরণে কানাডা উৎপাদন বাড়িয়েছিল। তাদের বেশিরভাগ তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। ভেনেজুয়েলার তেল ফিরে এলে কানাডার ভারী তেল সরাসরি প্রতিযোগিতায় পড়বে। বাজারে অতিরিক্ত যোগানের কারণে কানাডার তেলের দাম কমার শঙ্কা বাড়ছে, যা উৎপাদকদের আয়ের ওপর চাপ তৈরি করবে।

দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ কানাডাকে নতুন রপ্তানি পাইপলাইন তৈরির যুক্তি আরও জোরালো করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

চীনা পরিশোধনাগারের নতুন দুশ্চিন্তা

চীনের ছোট ও স্বাধীন পরিশোধনাগার গুলো এতদিন ভেনেজুয়েলার সস্তা তেলের বড় ক্রেতা ছিল। যদি এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে যায়, তাহলে তাদের বিকল্প খুঁজতে হবে। সেই বিকল্প হিসেবে কানাডা বা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে, যা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এতে চীনা পরিশোধনাগারের উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে তারা রাশিয়া ও ইরান থেকে ছাড়মূল্যের তেল পাওয়ার সুযোগ এখনও রাখছে, যা আংশিক স্বস্তি দিতে পারে।

বাজারে প্রভাব ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলার তেল ফিরে আসার সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, সস্তা তেল এলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তারাও উপকৃত হবে।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শক্তির ভারসাম্য নতুন করে বদলাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হলেও কানাডা ও চীনের কিছু অংশের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়বে।

Anacortes, WA oil refinery at night
জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায়

ভেনেজুয়েলার তেল ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রে স্বস্তি, কানাডার দামে চাপ

১২:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুরো মাত্রায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল পরিশোধন শিল্প বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। জ্বালানি উৎপাদনের খরচ কমবে, বাজারে জ্বালানি জোগান বাড়বে। তবে একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কানাডার তেল উৎপাদকরা, যাদের ভারী তেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে তেল রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগার গুলো এই তেল গ্রহণে প্রস্তুত, কারণ এসব কারখানা মূলত ভারী তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্যই তৈরি।

উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগারে সুবিধা

নিষেধাজ্ঞার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে একাধিক বড় পরিশোধনাগার ভেনেজুয়েলার ভারী তেল ব্যবহার করত। এসব কারখানা হালকা দেশীয় তেলের তুলনায় ভারী তেল প্রক্রিয়ায় বেশি দক্ষ। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে দ্রুতই ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহিত হতে পারে এবং অন্য দেশ থেকে আসা ভারী তেলকে বাজার থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তেল এলে দাম নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগার লাভবান হলেও কানাডার তেল বিক্রির দর কমে যেতে পারে।

কানাডার উৎপাদকদের চাপে পড়ার আশঙ্কা

নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভেনেজুয়েলার ঘাটতি পূরণে কানাডা উৎপাদন বাড়িয়েছিল। তাদের বেশিরভাগ তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। ভেনেজুয়েলার তেল ফিরে এলে কানাডার ভারী তেল সরাসরি প্রতিযোগিতায় পড়বে। বাজারে অতিরিক্ত যোগানের কারণে কানাডার তেলের দাম কমার শঙ্কা বাড়ছে, যা উৎপাদকদের আয়ের ওপর চাপ তৈরি করবে।

দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ কানাডাকে নতুন রপ্তানি পাইপলাইন তৈরির যুক্তি আরও জোরালো করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

চীনা পরিশোধনাগারের নতুন দুশ্চিন্তা

চীনের ছোট ও স্বাধীন পরিশোধনাগার গুলো এতদিন ভেনেজুয়েলার সস্তা তেলের বড় ক্রেতা ছিল। যদি এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে যায়, তাহলে তাদের বিকল্প খুঁজতে হবে। সেই বিকল্প হিসেবে কানাডা বা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে, যা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এতে চীনা পরিশোধনাগারের উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে তারা রাশিয়া ও ইরান থেকে ছাড়মূল্যের তেল পাওয়ার সুযোগ এখনও রাখছে, যা আংশিক স্বস্তি দিতে পারে।

বাজারে প্রভাব ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলার তেল ফিরে আসার সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, সস্তা তেল এলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তারাও উপকৃত হবে।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শক্তির ভারসাম্য নতুন করে বদলাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হলেও কানাডা ও চীনের কিছু অংশের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়বে।

Anacortes, WA oil refinery at night