০২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাশিয়ার হুমকিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় লিথুয়ানিয়ার নজিরবিহীন প্রস্তুতি হরমুজে তেল পরিবহনের নতুন কৌশল, খরচ বাড়ছে বহুগুণ প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বই ঘিরে রাজপরিবারে ফের উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ, আর্কটিকের দায়িত্ব নেবে ন্যাটো ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষের দাবি দুই রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীর, ট্রাম্পের অবস্থান থেকে দূরে সরে বার্তা পাইপলাইন হামলার পর উপসাগরীয় পথে সৌদির তেল রপ্তানি বাড়ছে গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুই সামরিক ঘাঁটি গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি আজ ইসলামাবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, পিটিআইয়ের মিছিলে যাচ্ছে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ পিংক বাসে যাত্রী নেই, প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার টাকা লোকসান জাতিসংঘে তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সফর, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নয়: হুমায়ূন কবির

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগে নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু

দেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার পর এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় ধরনের আরেকটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অকার্যকর ঘোষণা ও নিরীক্ষার প্রস্তুতি

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে। এরপর তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও নেট সম্পদ মূল্য নির্ধারণে ফরেনসিক নিরীক্ষা চালানো হবে। নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ শূন্যে নামানোর উদ্যোগ

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের অংশীদারিত্ব শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল দায় ব্যবস্থাপনাই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলে জানান গভর্নর। তাঁর ভাষায়, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

যেসব প্রতিষ্ঠান অবসানের মুখে

লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, ফাস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফার ইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং।

দুর্নীতি ও সামাজিক ইতিহাস - Dainik Statesman

দুর্নীতির প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের সংকটের বড় একটি অংশের পেছনে রয়েছে অতীতের দুর্নীতি। চারটি প্রতিষ্ঠান একটি আলোচিত অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা ছিল একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে।

আটকে থাকা আমানতের চিত্র

এই নয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট আটকে থাকা আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছোট আমানতকারীদের জমা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও করপোরেট গ্রাহকদের জমা রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। এককভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত আমানত রয়েছে পিপলস লিজিংয়ে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।

তিন মাসে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার

ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষায় উদ্যোগ

ছোট আমানতকারীদের দাবি মেটাতে সরকার থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ গ্রাহকদের একটি অংশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সংকট ঠেকাতে নতুন বিভাগ

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট দ্রুত মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ ব্যাংকিং রেজল্যুশন বিভাগ গঠন করেছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এ বিভাগের দায়িত্ব হবে। গভর্নর জানান, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার হুমকিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় লিথুয়ানিয়ার নজিরবিহীন প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগে নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু

১২:১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার পর এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় ধরনের আরেকটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অকার্যকর ঘোষণা ও নিরীক্ষার প্রস্তুতি

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে। এরপর তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও নেট সম্পদ মূল্য নির্ধারণে ফরেনসিক নিরীক্ষা চালানো হবে। নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ শূন্যে নামানোর উদ্যোগ

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের অংশীদারিত্ব শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল দায় ব্যবস্থাপনাই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলে জানান গভর্নর। তাঁর ভাষায়, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

যেসব প্রতিষ্ঠান অবসানের মুখে

লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, ফাস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফার ইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং।

দুর্নীতি ও সামাজিক ইতিহাস - Dainik Statesman

দুর্নীতির প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের সংকটের বড় একটি অংশের পেছনে রয়েছে অতীতের দুর্নীতি। চারটি প্রতিষ্ঠান একটি আলোচিত অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা ছিল একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে।

আটকে থাকা আমানতের চিত্র

এই নয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট আটকে থাকা আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছোট আমানতকারীদের জমা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও করপোরেট গ্রাহকদের জমা রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। এককভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত আমানত রয়েছে পিপলস লিজিংয়ে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।

তিন মাসে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার

ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষায় উদ্যোগ

ছোট আমানতকারীদের দাবি মেটাতে সরকার থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ গ্রাহকদের একটি অংশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সংকট ঠেকাতে নতুন বিভাগ

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট দ্রুত মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ ব্যাংকিং রেজল্যুশন বিভাগ গঠন করেছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এ বিভাগের দায়িত্ব হবে। গভর্নর জানান, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।