০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায় বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগে নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু

দেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার পর এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় ধরনের আরেকটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অকার্যকর ঘোষণা ও নিরীক্ষার প্রস্তুতি

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে। এরপর তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও নেট সম্পদ মূল্য নির্ধারণে ফরেনসিক নিরীক্ষা চালানো হবে। নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ শূন্যে নামানোর উদ্যোগ

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের অংশীদারিত্ব শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল দায় ব্যবস্থাপনাই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলে জানান গভর্নর। তাঁর ভাষায়, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

যেসব প্রতিষ্ঠান অবসানের মুখে

লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, ফাস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফার ইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং।

দুর্নীতি ও সামাজিক ইতিহাস - Dainik Statesman

দুর্নীতির প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের সংকটের বড় একটি অংশের পেছনে রয়েছে অতীতের দুর্নীতি। চারটি প্রতিষ্ঠান একটি আলোচিত অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা ছিল একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে।

আটকে থাকা আমানতের চিত্র

এই নয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট আটকে থাকা আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছোট আমানতকারীদের জমা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও করপোরেট গ্রাহকদের জমা রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। এককভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত আমানত রয়েছে পিপলস লিজিংয়ে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।

তিন মাসে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার

ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষায় উদ্যোগ

ছোট আমানতকারীদের দাবি মেটাতে সরকার থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ গ্রাহকদের একটি অংশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সংকট ঠেকাতে নতুন বিভাগ

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট দ্রুত মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ ব্যাংকিং রেজল্যুশন বিভাগ গঠন করেছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এ বিভাগের দায়িত্ব হবে। গভর্নর জানান, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগে নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু

১২:১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার পর এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় ধরনের আরেকটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অকার্যকর ঘোষণা ও নিরীক্ষার প্রস্তুতি

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে। এরপর তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও নেট সম্পদ মূল্য নির্ধারণে ফরেনসিক নিরীক্ষা চালানো হবে। নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ শূন্যে নামানোর উদ্যোগ

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের অংশীদারিত্ব শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল দায় ব্যবস্থাপনাই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলে জানান গভর্নর। তাঁর ভাষায়, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

যেসব প্রতিষ্ঠান অবসানের মুখে

লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, ফাস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফার ইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং।

দুর্নীতি ও সামাজিক ইতিহাস - Dainik Statesman

দুর্নীতির প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের সংকটের বড় একটি অংশের পেছনে রয়েছে অতীতের দুর্নীতি। চারটি প্রতিষ্ঠান একটি আলোচিত অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা ছিল একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে।

আটকে থাকা আমানতের চিত্র

এই নয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট আটকে থাকা আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছোট আমানতকারীদের জমা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও করপোরেট গ্রাহকদের জমা রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। এককভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত আমানত রয়েছে পিপলস লিজিংয়ে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।

তিন মাসে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার

ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষায় উদ্যোগ

ছোট আমানতকারীদের দাবি মেটাতে সরকার থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ গ্রাহকদের একটি অংশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সংকট ঠেকাতে নতুন বিভাগ

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট দ্রুত মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ ব্যাংকিং রেজল্যুশন বিভাগ গঠন করেছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এ বিভাগের দায়িত্ব হবে। গভর্নর জানান, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।