চীনে সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তিন জ্যেষ্ঠ জেনারেলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের পদ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএর স্থলবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
চীনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্স জানিয়েছে, হান ওয়েইগুও, গাও জিন এবং লিউ লেইকে তাদের সদস্যপদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্থায়ী কমিটি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষ কমিটির দায়িত্বও বাতিল করা হয়েছে।
কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ
সোমবার দেওয়া ঘোষণায় অপসারণের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে সাধারণত এ ধরনের পদ বাতিলের পেছনে তদন্ত, মর্যাদাহানি বা অবস্থানগত পরিবর্তনের বিষয় জড়িত থাকে। গত সপ্তাহে চীনের সর্বোচ্চ আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস নয়জন সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার পরপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এতে বোঝা যাচ্ছে, শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।
হান ওয়েইগুওর পতনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি
এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে হান ওয়েইগুওর রাজনৈতিক পতনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো। তিনি ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত পিএলএর স্থলবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ২০১৬ সালে সেন্ট্রাল থিয়েটার কমান্ড গঠনের সময় তাকে প্রথম কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দায়িত্বে থেকে তিনি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ঝুরিহে সামরিক কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন, যা ছিল অত্যন্ত আলোচিত একটি সামরিক প্রদর্শনী। ওই কুচকাওয়াজের কিছুদিন পরই তিনি পদোন্নতি পান।
ইনার মঙ্গোলিয়ার সামরিক প্রশিক্ষণ মাঠে অনুষ্ঠিত এই কুচকাওয়াজটি ছিল পিএলএর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রথম বড় আকারের অনুষ্ঠান। সে বছর বাহিনীটির ৯০তম বার্ষিকী উদযাপিত হয়।
কৌশলগত সহায়তা বাহিনীর সাবেক প্রধান গাও জিন
গাও জিন ছিলেন বর্তমানে বিলুপ্ত স্ট্র্যাটেজিক সাপোর্ট ফোর্সের প্রথম কমান্ডার। ২০১৬ সালে গঠিত এই ইউনিটটি ছিল পিএলএর প্রথম বিভাগ, যা মহাকাশ, সাইবার, তড়িৎচৌম্বক এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ সক্ষমতা তদারকির দায়িত্বে ছিল। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল পরিচালনায় এ বাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামরিক শুদ্ধি অভিযানের বিস্তৃতি
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চীনের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা শিল্পে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণের মাধ্যমে বেইজিং স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















