০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ইয়ামাল, বদলে যাওয়া স্পেনের নতুন মুখ আসামে প্রতি বছর ভয়াবহ বন্যা কেন? শুধু ব্রহ্মপুত্র নয়, সংকটের পেছনে লুকিয়ে আরও বহু কারণ পাকিস্তানের ‘হরপ্পা মুহূর্ত’: ৫ হাজার বছরের সভ্যতা ও ১৯৪৭ সালের রাষ্ট্রপরিচয়ের দ্বন্দ্ব রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান, সংসদে নীট ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিল সরকার জাম্বিয়ার সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট গাই স্কট আর নেই, আফ্রিকার ইতিহাসে অনন্য এক অধ্যায়ের অবসান স্পেনের বিশ্বকাপ জয়, উত্তর আমেরিকার আসর বদলে দিল ফুটবলের নতুন বাস্তবতা এআই চুক্তির জোয়ারে বাড়ছে বিনিয়োগ, তবে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে তরুণদের উত্থান, পুরোনো ব্যবস্থার সঙ্গে বাড়ছে দ্বন্দ্ব হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে নতুন কৌশল খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, জটিল সমীকরণে লেবানন লেটুসে পরজীবী শনাক্তের দাবি থেকে সরে এফডিএ, তদন্ত চলছেই

ট্রাম্পের ভাষণে ঐক্যের বদলে বিভাজন, ২৫০ বছরে আমেরিকার সামনে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নয় বছর আগে প্রথম মেয়াদের শুরুতে তিনি কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে ঐক্য, শক্তি ও দ্বিদলীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন, ২৫০ বছরে আমেরিকা কেমন হবে। কিন্তু এবার সেই ভাষণে ঐক্যের কোনও আহ্বান ছিল না, ছিল তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ ও বিভাজনের সুর।

ঐক্যের স্বপ্ন থেকে তীব্র আক্রমণ

২০১৭ সালে প্রথম ভাষণে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাস মাসের উল্লেখ করে নাগরিক অধিকারের পথে আরও এগোনোর কথা বলেছিলেন। সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি ইতিবাচক অভিবাসন সংস্কার, সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা, নারীর স্বাস্থ্য বিনিয়োগ, নির্মল বায়ু ও পানির কথা তুলেছিলেন। বলেছিলেন, সত্যিকারের দেশপ্রেম মানে সাধারণ ভিত্তি খুঁজে নেওয়া।

কিন্তু ২০২৬ সালের ভাষণে সেই সুর অনুপস্থিত। তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ‘অসুস্থ’ ও ‘পাগল’ আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন, তারা দেশ ধ্বংস করছে। নির্বাচনে জিততে তারা প্রতারণার আশ্রয় নেয় বলেও দাবি করেন। ঐক্যের বদলে রাজনৈতিক মেরুকরণই হয়ে ওঠে ভাষণের মূল সুর।

Donald Trump's unworthy state of the union | The Economist

দশকে কী বদলে গেল

গত দশকে অভিশংসন, মহামারি, বর্ণবৈষম্য নিয়ে উত্তাল আন্দোলন, ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকাতে সহিংসতা এবং একাধিক মামলা—সব মিলিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবেশ আমূল বদলেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ট্রাম্পের মেরুকরণভিত্তিক রাজনীতির আত্মবিশ্বাস। এবারের ভাষণ ছিল এক ঘণ্টা ৪৮ মিনিট দীর্ঘ, যা রেকর্ড। লিখিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে তিনি বারবার আত্মপ্রশংসায় মেতেছেন, তবে নীতিগত নতুন দিকনির্দেশ প্রায় ছিল না।

সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সীমান্ত কর আরোপে প্রেসিডেন্টের একতরফা ক্ষমতার দাবিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। ভাষণে তিনি এটিকে ‘দুঃখজনক রায়’ বলে উল্লেখ করলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাননি। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, তার জনপ্রিয়তা ২০২১ সালের সহিংস ঘটনার পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বহু স্বতন্ত্র ভোটার, লাতিন ভোটার এমনকি তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যেও আস্থা কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দশজনের ছয়জন বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় দেশ এখন খারাপ অবস্থায়।

Donald Trump's State of the Union Speech Was Bad. The Actual State of Our Union Is Worse

সংস্কৃতি যুদ্ধের সুর

ভাষণে তিনি বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি নীতির অবসানের দাবি তুলে সমর্থকদের উজ্জীবিত করেন। তবে ইরান প্রসঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ, ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, চীনের চ্যালেঞ্জ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা দেননি।

২৫০ বছরে দাঁড়িয়ে আমেরিকার সামনে যে ঐতিহাসিক আত্মসমীক্ষার মুহূর্ত, সেখানে এই ভাষণ অনেকের চোখে উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে বিভাজনকেই বড় করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণ হয়তো দীর্ঘতার জন্য স্মরণীয় থাকবে, কিন্তু ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের মর্যাদা আরও খর্ব হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ইয়ামাল, বদলে যাওয়া স্পেনের নতুন মুখ

ট্রাম্পের ভাষণে ঐক্যের বদলে বিভাজন, ২৫০ বছরে আমেরিকার সামনে নতুন প্রশ্ন

০৪:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নয় বছর আগে প্রথম মেয়াদের শুরুতে তিনি কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে ঐক্য, শক্তি ও দ্বিদলীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন, ২৫০ বছরে আমেরিকা কেমন হবে। কিন্তু এবার সেই ভাষণে ঐক্যের কোনও আহ্বান ছিল না, ছিল তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ ও বিভাজনের সুর।

ঐক্যের স্বপ্ন থেকে তীব্র আক্রমণ

২০১৭ সালে প্রথম ভাষণে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাস মাসের উল্লেখ করে নাগরিক অধিকারের পথে আরও এগোনোর কথা বলেছিলেন। সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি ইতিবাচক অভিবাসন সংস্কার, সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা, নারীর স্বাস্থ্য বিনিয়োগ, নির্মল বায়ু ও পানির কথা তুলেছিলেন। বলেছিলেন, সত্যিকারের দেশপ্রেম মানে সাধারণ ভিত্তি খুঁজে নেওয়া।

কিন্তু ২০২৬ সালের ভাষণে সেই সুর অনুপস্থিত। তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ‘অসুস্থ’ ও ‘পাগল’ আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন, তারা দেশ ধ্বংস করছে। নির্বাচনে জিততে তারা প্রতারণার আশ্রয় নেয় বলেও দাবি করেন। ঐক্যের বদলে রাজনৈতিক মেরুকরণই হয়ে ওঠে ভাষণের মূল সুর।

Donald Trump's unworthy state of the union | The Economist

দশকে কী বদলে গেল

গত দশকে অভিশংসন, মহামারি, বর্ণবৈষম্য নিয়ে উত্তাল আন্দোলন, ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকাতে সহিংসতা এবং একাধিক মামলা—সব মিলিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবেশ আমূল বদলেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ট্রাম্পের মেরুকরণভিত্তিক রাজনীতির আত্মবিশ্বাস। এবারের ভাষণ ছিল এক ঘণ্টা ৪৮ মিনিট দীর্ঘ, যা রেকর্ড। লিখিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে তিনি বারবার আত্মপ্রশংসায় মেতেছেন, তবে নীতিগত নতুন দিকনির্দেশ প্রায় ছিল না।

সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সীমান্ত কর আরোপে প্রেসিডেন্টের একতরফা ক্ষমতার দাবিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। ভাষণে তিনি এটিকে ‘দুঃখজনক রায়’ বলে উল্লেখ করলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাননি। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, তার জনপ্রিয়তা ২০২১ সালের সহিংস ঘটনার পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বহু স্বতন্ত্র ভোটার, লাতিন ভোটার এমনকি তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যেও আস্থা কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দশজনের ছয়জন বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় দেশ এখন খারাপ অবস্থায়।

Donald Trump's State of the Union Speech Was Bad. The Actual State of Our Union Is Worse

সংস্কৃতি যুদ্ধের সুর

ভাষণে তিনি বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি নীতির অবসানের দাবি তুলে সমর্থকদের উজ্জীবিত করেন। তবে ইরান প্রসঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ, ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, চীনের চ্যালেঞ্জ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা দেননি।

২৫০ বছরে দাঁড়িয়ে আমেরিকার সামনে যে ঐতিহাসিক আত্মসমীক্ষার মুহূর্ত, সেখানে এই ভাষণ অনেকের চোখে উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে বিভাজনকেই বড় করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণ হয়তো দীর্ঘতার জন্য স্মরণীয় থাকবে, কিন্তু ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের মর্যাদা আরও খর্ব হতে পারে।