০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল-গ্যাস ও বাণিজ্য হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ, ওয়াশিংটনের ওপর আস্থায় বড় ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে। সৌদি আরবের তেল শোধনাগার, কাতারের বিশ্বের বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য ও ট্রানজিট অবকাঠামো এই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

এতদিন প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—আর শুধু আঘাত সহ্য করে যাবে না তারা।

যুদ্ধ চাননি উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয়টি আরব রাজতন্ত্রের কেউই এই যুদ্ধ চায়নি। বরং গত কয়েক মাস ধরে তারা উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালিয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সংঘাত এড়াতে উদ্যোগ নিয়েছিল তারা। কিন্তু যে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তারা করছিল, বাস্তবে এখন সেটিই ঘটছে।

“অপারেশন এপিক ফিউরি” নামের সামরিক অভিযানের অস্থিতিশীল প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোর ওয়াশিংটনের ওপর আস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে অঞ্চলে।

প্রতিরক্ষা নাকি পাল্টা আঘাত?

ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রিয়াদ, আবুধাবি ও দোহার মতো রাজধানীগুলোর সামনে কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—কতদিন শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে টিকে থাকা সম্ভব?

যখন তেল, গ্যাস ও বাণিজ্য অবকাঠামো সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন কৌশল বদলের চাপ বাড়তে থাকে। এতদিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আরও সক্রিয় নিরাপত্তা নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুবাইয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী

সোমবার স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুবাইয়ের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। এই দৃশ্যই প্রমাণ করে, সংঘাত আর সীমান্তের বাইরে নেই—এটি এখন সরাসরি উপসাগরের অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ডে আঘাত হানছে।

অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত

উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান বদলের প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত এসেছে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন থেকে নয়, বরং একটি আকস্মিক ঘটনার মাধ্যমে। সেটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধু প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে তারা হয়তো আরও আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণের কথা ভাবছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন বাস্তবতায় তেল, গ্যাস ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ এখন ঝুঁকির মুখে। আর উপসাগরীয় দেশগুলোও বুঝতে শুরু করেছে, কেবল আঘাত সহ্য করে যাওয়ার কৌশল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল-গ্যাস ও বাণিজ্য হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ, ওয়াশিংটনের ওপর আস্থায় বড় ধাক্কা

০৪:২৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে। সৌদি আরবের তেল শোধনাগার, কাতারের বিশ্বের বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য ও ট্রানজিট অবকাঠামো এই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

এতদিন প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—আর শুধু আঘাত সহ্য করে যাবে না তারা।

যুদ্ধ চাননি উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয়টি আরব রাজতন্ত্রের কেউই এই যুদ্ধ চায়নি। বরং গত কয়েক মাস ধরে তারা উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালিয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সংঘাত এড়াতে উদ্যোগ নিয়েছিল তারা। কিন্তু যে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তারা করছিল, বাস্তবে এখন সেটিই ঘটছে।

“অপারেশন এপিক ফিউরি” নামের সামরিক অভিযানের অস্থিতিশীল প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোর ওয়াশিংটনের ওপর আস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে অঞ্চলে।

প্রতিরক্ষা নাকি পাল্টা আঘাত?

ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রিয়াদ, আবুধাবি ও দোহার মতো রাজধানীগুলোর সামনে কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—কতদিন শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে টিকে থাকা সম্ভব?

যখন তেল, গ্যাস ও বাণিজ্য অবকাঠামো সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন কৌশল বদলের চাপ বাড়তে থাকে। এতদিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আরও সক্রিয় নিরাপত্তা নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুবাইয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী

সোমবার স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুবাইয়ের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। এই দৃশ্যই প্রমাণ করে, সংঘাত আর সীমান্তের বাইরে নেই—এটি এখন সরাসরি উপসাগরের অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ডে আঘাত হানছে।

অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত

উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান বদলের প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত এসেছে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন থেকে নয়, বরং একটি আকস্মিক ঘটনার মাধ্যমে। সেটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধু প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে তারা হয়তো আরও আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণের কথা ভাবছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন বাস্তবতায় তেল, গ্যাস ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ এখন ঝুঁকির মুখে। আর উপসাগরীয় দেশগুলোও বুঝতে শুরু করেছে, কেবল আঘাত সহ্য করে যাওয়ার কৌশল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে।