০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
ইউক্রেন থেকে উপসাগর: ইরানি শাহেদ ড্রোনের গুঞ্জনে বদলে যাচ্ছে আধুনিক যুদ্ধ ইরানে হামলার পর ডেমোক্র্যাটদের নতুন ঐক্য কি টিকে থাকবে ট্রাম্পের যুদ্ধের ধরন: ইরান, ভেনেজুয়েলা এবং পাওয়েল নীতির অবসান ইরান যুদ্ধ বিস্তৃত, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনায় তেল পরিবহন ও বিমা ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী, চাপে আমিরাতের বাণিজ্যপথ ইরান যুদ্ধ নিয়ে যোগাযোগে ট্রাম্পের ব্যতিক্রমী কৌশল, বাড়ছে সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলা, চীনের সঙ্গে নাজুক সমঝোতায় নতুন চাপ সৌদি ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ফুজাইরাহ তেল শিল্প অঞ্চলে আগুন, ড্রোন ভূপাতিতের ধ্বংসাবশেষ থেকে বিস্ফোরণ তেল সরবরাহে যুদ্ধের ছায়া, এশিয়ার বাজারে বড় ধস

টেক্সাস প্রাইমারি নির্বাচন ২০২৬: কেন প্যাক্সটন ঘিরে দুই দলে তীব্র দোলাচল

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আসন্ন প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে এমন এক রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে, যা শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের লড়াই নয়, বরং ২০২৬ সালের পুরো নির্বাচনী সমীকরণকেই প্রভাবিত করতে পারে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলই এখন কঠিন দোলাচলে। কারণ একটাই—কেন প্যাক্সটনের উত্থান।

রিপাবলিকানদের অপ্রত্যাশিত সংকট

টেক্সাসে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জিততে পারেনি। ১৯৯৪ সালের পর থেকে রাজ্যটি রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। তাই চলতি বছর সিনেট আসন নিয়ে বড় কোনো সমস্যার আশঙ্কা ছিল না। জন করনিন, যিনি জর্জ ডব্লিউ বুশ যুগের অভিজ্ঞ রাজনীতিক, সহজেই পঞ্চম মেয়াদে জয়ী হবেন—এমনটাই ধরে নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলে দেয় কেন প্যাক্সটনের প্রার্থীতা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত এই অ্যাটর্নি জেনারেল রিপাবলিকান ভোটারদের একাংশের কাছে প্রবল জনপ্রিয়। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জানুয়ারির শেষের জরিপে দেখা যায়, প্যাক্সটন ৩৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে, করনিন ৩১ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রার্থী ওয়েসলি হান্ট পান ১৭ শতাংশ। ফলে করনিন এখন রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখে।

Texas Primaries Test Parties' Fault Lines As US Midterms Loom - Barron's

ডেমোক্র্যাটদের ভেতরের দ্বন্দ্ব

রিপাবলিকান শিবিরে প্যাক্সটনের সম্ভাব্য জয় ডেমোক্র্যাটদেরও চাপে ফেলেছে। তাদের সামনে এখন ‘আবেগ না বাস্তবতা’—এই দ্বিধা। প্রতিনিধি জেসমিন ক্রকেট, যিনি তীব্র ভাষার জন্য পরিচিত, দ্রুতই দলের এক শক্তিশালী মুখ হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে জেমস টালারিকো তুলনামূলক শান্ত ও বাস্তববাদী, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও প্রগতিশীল রাজনীতিকে একসঙ্গে তুলে ধরে জাতীয় পর্যায়ে সাড়া ফেলেছেন।

সাম্প্রতিক জরিপে ক্রকেট ৮ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে টালারিকো চাপে পড়েন। সেই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা বাড়তেই সাবেক কংগ্রেসম্যান কলিন অলরেড নিজের অবস্থান বদলে ক্রকেটকে সমর্থন দেন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারি লড়াইও এখন তীব্র ও উত্তপ্ত।

Read the full Democratic response to Trump's State of the Union : NPR

নির্বাচনী পরীক্ষাগার টেক্সাস

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস এখন ২০২৬ সালের বৃহত্তর প্রশ্নগুলোর পরীক্ষাগার। পরিচয় রাজনীতি, মতাদর্শের বিশুদ্ধতা এবং ট্রাম্পবাদ—এসব ইস্যু দুই দলকেই ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

রিপাবলিকানদের সামনে প্রশ্ন—তারা কি প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বে আস্থা রাখবে, নাকি ম্যাগা ঘরানার শক্তিকে প্রাধান্য দেবে। ডেমোক্র্যাটদের ভাবনা—তারা কি প্রতিবাদের কণ্ঠকে বেছে নেবে, নাকি মধ্যপন্থী ভোটারদের টানতে সক্ষম কাউকে সামনে আনবে।

সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, দুই দলেই যে প্রার্থী প্রাইমারিতে এগিয়ে, তাকে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে ‘জেতার যোগ্যতা’ এখন প্রকাশ্য আলোচনার কেন্দ্রে।

Democrats are spoiling for a fight in Texas: From the Politics Desk

জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব

এই লড়াই শুধু টেক্সাসের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন নয়। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বা দখল করার কৌশল নির্ধারণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষা করতে চায়, তবে প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক হতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা যদি সিনেট পুনর্দখল করতে চায়, তবে সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে নামাতে হবে।

এই মুহূর্তে পুরো সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে কেন প্যাক্সটন। তার প্রার্থীতা দুই দলকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেন থেকে উপসাগর: ইরানি শাহেদ ড্রোনের গুঞ্জনে বদলে যাচ্ছে আধুনিক যুদ্ধ

টেক্সাস প্রাইমারি নির্বাচন ২০২৬: কেন প্যাক্সটন ঘিরে দুই দলে তীব্র দোলাচল

০৪:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আসন্ন প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে এমন এক রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে, যা শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের লড়াই নয়, বরং ২০২৬ সালের পুরো নির্বাচনী সমীকরণকেই প্রভাবিত করতে পারে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলই এখন কঠিন দোলাচলে। কারণ একটাই—কেন প্যাক্সটনের উত্থান।

রিপাবলিকানদের অপ্রত্যাশিত সংকট

টেক্সাসে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জিততে পারেনি। ১৯৯৪ সালের পর থেকে রাজ্যটি রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। তাই চলতি বছর সিনেট আসন নিয়ে বড় কোনো সমস্যার আশঙ্কা ছিল না। জন করনিন, যিনি জর্জ ডব্লিউ বুশ যুগের অভিজ্ঞ রাজনীতিক, সহজেই পঞ্চম মেয়াদে জয়ী হবেন—এমনটাই ধরে নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলে দেয় কেন প্যাক্সটনের প্রার্থীতা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত এই অ্যাটর্নি জেনারেল রিপাবলিকান ভোটারদের একাংশের কাছে প্রবল জনপ্রিয়। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জানুয়ারির শেষের জরিপে দেখা যায়, প্যাক্সটন ৩৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে, করনিন ৩১ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রার্থী ওয়েসলি হান্ট পান ১৭ শতাংশ। ফলে করনিন এখন রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখে।

Texas Primaries Test Parties' Fault Lines As US Midterms Loom - Barron's

ডেমোক্র্যাটদের ভেতরের দ্বন্দ্ব

রিপাবলিকান শিবিরে প্যাক্সটনের সম্ভাব্য জয় ডেমোক্র্যাটদেরও চাপে ফেলেছে। তাদের সামনে এখন ‘আবেগ না বাস্তবতা’—এই দ্বিধা। প্রতিনিধি জেসমিন ক্রকেট, যিনি তীব্র ভাষার জন্য পরিচিত, দ্রুতই দলের এক শক্তিশালী মুখ হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে জেমস টালারিকো তুলনামূলক শান্ত ও বাস্তববাদী, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও প্রগতিশীল রাজনীতিকে একসঙ্গে তুলে ধরে জাতীয় পর্যায়ে সাড়া ফেলেছেন।

সাম্প্রতিক জরিপে ক্রকেট ৮ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে টালারিকো চাপে পড়েন। সেই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা বাড়তেই সাবেক কংগ্রেসম্যান কলিন অলরেড নিজের অবস্থান বদলে ক্রকেটকে সমর্থন দেন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারি লড়াইও এখন তীব্র ও উত্তপ্ত।

Read the full Democratic response to Trump's State of the Union : NPR

নির্বাচনী পরীক্ষাগার টেক্সাস

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস এখন ২০২৬ সালের বৃহত্তর প্রশ্নগুলোর পরীক্ষাগার। পরিচয় রাজনীতি, মতাদর্শের বিশুদ্ধতা এবং ট্রাম্পবাদ—এসব ইস্যু দুই দলকেই ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

রিপাবলিকানদের সামনে প্রশ্ন—তারা কি প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বে আস্থা রাখবে, নাকি ম্যাগা ঘরানার শক্তিকে প্রাধান্য দেবে। ডেমোক্র্যাটদের ভাবনা—তারা কি প্রতিবাদের কণ্ঠকে বেছে নেবে, নাকি মধ্যপন্থী ভোটারদের টানতে সক্ষম কাউকে সামনে আনবে।

সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, দুই দলেই যে প্রার্থী প্রাইমারিতে এগিয়ে, তাকে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে ‘জেতার যোগ্যতা’ এখন প্রকাশ্য আলোচনার কেন্দ্রে।

Democrats are spoiling for a fight in Texas: From the Politics Desk

জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব

এই লড়াই শুধু টেক্সাসের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন নয়। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বা দখল করার কৌশল নির্ধারণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষা করতে চায়, তবে প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক হতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা যদি সিনেট পুনর্দখল করতে চায়, তবে সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে নামাতে হবে।

এই মুহূর্তে পুরো সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে কেন প্যাক্সটন। তার প্রার্থীতা দুই দলকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।