চীনের সামরিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদরা প্রতিরক্ষা খাতে ভাষা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জোরদার করেছেন। তাদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে গোলাবারুদের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
জাতীয় গণকংগ্রেসে প্রস্তাবের প্রস্তুতি
এই আহ্বান জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম লু দানইউন, যিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের প্রতিনিধি। তিনি সামরিক বাহিনীর সরকারি মুখপত্র পিপলস লিবারেশন আর্মি ডেইলিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানান, আসন্ন ‘দুই অধিবেশন’ বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।
চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বার্ষিক আইনসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। এ বছর কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে।
ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের সেনা
গত বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে লু দানইউন উল্লেখ করেন, একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্র সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সেনা সদস্যের দাবি করছে। এই সেনাদের শুধু অস্ত্র চালনায় দক্ষ হলেই চলবে না; তাদের ডেটা বিশ্লেষণ, তথ্যযুদ্ধ ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশলেও পারদর্শী হতে হবে।
তিনি যুক্তি দেন, আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভাষা আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি এখন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, তথ্যযুদ্ধ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
ভাষা দক্ষতার কৌশলগত গুরুত্ব
সাম্প্রতিক এক গবেষণায়ও বলা হয়েছে, আধুনিক সংঘাতে ভাষা কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। সঠিক ভাষা দক্ষতা থাকলে শত্রুপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ, অনলাইন প্রচারণা মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিন দশকের অভিজ্ঞতা
লু দানইউন তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সামরিক একাডেমিতে শিক্ষকতা করছেন। সামরিক পররাষ্ট্রভাষা দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ভাষা পাঠ্যক্রম কাঠামো গড়ে তুলেছেন। তার মতে, ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ভাষা প্রশিক্ষণকে নতুনভাবে সাজানো এখন সময়ের দাবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















