০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
এক হাতে শক্তি আর বিস্ফোরণ ক্ষমতার চর্চা, সিঙ্গেল আর্ম হ্যাং ক্লিনে বদলান শরীরের ছন্দ ইউরোপজুড়ে তুষার ও বরফের তাণ্ডব, বাতিল শত শত ফ্লাইট, সড়কে প্রাণহানি কুয়াশা কী, কেন হয়? কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে? থাইল্যান্ডের বিমানবন্দর সংযোগ দ্রুতগতি রেল প্রকল্প অনিশ্চয়তায়, রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে সাত বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ এক মিনিটেই বদলে যেতে পারে জীবন পাকিস্তান-বাংলাদেশের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি ভেনেজুয়েলা ঘিরে তেলের বাজারে ‘অতিরিক্ত সরবরাহ’ শঙ্কা ওজন কমানোর আশ্বাসে ওষুধ, বাস্তবে কাজই করে না অনেকের শরীরে তেল লুটের নতুন ছক, জলবায়ুর চরম ঝুঁকি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধানের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে

সাত মিলিয়ন বছর আগেই সোজা হয়ে হাঁটা শুরু করেছে মানব-পূর্বপুরুষ, নতুন গবেষণায় ইঙ্গিত

মানব ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় গুলো আজও কুয়াশাচ্ছন্ন। চার পায়ে চলা থেকে দুই পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানো—এই বদলই মানুষকে আলাদা করে চেনায়। কিন্তু এই রূপান্তরের স্পষ্ট জীবাশ্ম প্রমাণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, আফ্রিকায় সাত মিলিয়ন বছর আগে বসবাসকারী এক বানর সদৃশ প্রাণীই এখন পর্যন্ত সোজা হয়ে হাঁটার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

সারাক্ষণ ডেস্ক

মানব বংশের প্রাচীনতম দাবিদার

গবেষণায় যে প্রজাতির হাড় বিশ্লেষণ করা হয়েছে তার নাম সাহেলানথ্রোপাস ট্যাচাডেনসিস। চেহারায় বানরের মতো হলেও এর দেহগঠন চার পায়ে চলার চেয়ে সোজা হয়ে হাঁটার উপযোগী ছিল বলে দাবি গবেষকদের। মানুষের বংশধারার প্রাচীনতম সদস্য হিসেবে একে ধরা হয়, কারণ মানুষ ও শিম্পাঞ্জির বিবর্তনীয় বিচ্ছেদের সময়কালে এই প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল।

গবেষণার প্রধান লেখক স্কট উইলিয়ামস বলেন, এই প্রাণী দেখতে ছিল দুই পায়ে হাঁটা এক ধরনের বানর, যার সঙ্গে শিম্পাঞ্জি বা বনোবোর মিল সবচেয়ে বেশি। শিম্পাঞ্জি ও বনোবো অল্প সময়ের জন্য সোজা হয়ে হাঁটতে পারে, তবে তাদের প্রধান ভরসা হাঁটুর উপর ভর দিয়ে চলা।

Image

হাড়ে মিলল সোজা হাঁটার চিহ্ন

চাদের জুরাব মরুভূমি থেকে পাওয়া উরু ও বাহুর হাড় নতুন প্রযুক্তিতে আবার পরীক্ষা করা হয়েছে। পরিচিত মানবজাতীয় প্রাণী ও বড় বানরের হাড়ের সঙ্গে আকার, অনুপাত ও ত্রিমাত্রিক গঠনের তুলনা করে দেখা যায়, উরুর হাড়ে একটি বিশেষ উঁচু অংশ রয়েছে, যাকে ফিমোরাল টিউবারকল বলা হয়। এটি শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী এক লিগামেন্টের সংযোগস্থল, যা দাঁড়ানো ও হাঁটার সময় দেহকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। গবেষকদের মতে, এই বৈশিষ্ট্য সাধারণত সোজা হয়ে হাঁটা মানবজাতীয় প্রাণীতে দেখা যায়।

Image

এ ছাড়া উরুর হাড়ে স্বাভাবিক মোচড়, নিতম্বের পেশির বিন্যাস সহ আরও কিছু লক্ষণ মিলেছে, যা দাঁড়ানো, হাঁটা ও দৌড়ে সহায়ক। এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে।

বিতর্ক এখনো শেষ নয়

এই প্রজাতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল দুই হাজার এক সালে প্রথম জীবাশ্ম আবিষ্কারের পর। তখনই একে মানবজাতির পূর্বপুরুষ বলে দাবি ওঠে, আবার অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন। নতুন গবেষণা সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিলেও সবাই একমত নন। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলছেন, কিছু বৈশিষ্ট্য বড় আফ্রিকান বানরের সঙ্গে মিলে যায় এবং উরুর হাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা কঠিন।

তবু সমর্থক গবেষকদের মতে, প্রাথমিক মানব জাতীয় প্রাণী তখন মাটিতে সোজা হয়ে হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে গাছে আশ্রয় ও খাদ্যের ওপরও নির্ভর করত। আরও জীবাশ্ম না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে না বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

এক হাতে শক্তি আর বিস্ফোরণ ক্ষমতার চর্চা, সিঙ্গেল আর্ম হ্যাং ক্লিনে বদলান শরীরের ছন্দ

সাত মিলিয়ন বছর আগেই সোজা হয়ে হাঁটা শুরু করেছে মানব-পূর্বপুরুষ, নতুন গবেষণায় ইঙ্গিত

০১:২০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

মানব ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় গুলো আজও কুয়াশাচ্ছন্ন। চার পায়ে চলা থেকে দুই পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানো—এই বদলই মানুষকে আলাদা করে চেনায়। কিন্তু এই রূপান্তরের স্পষ্ট জীবাশ্ম প্রমাণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, আফ্রিকায় সাত মিলিয়ন বছর আগে বসবাসকারী এক বানর সদৃশ প্রাণীই এখন পর্যন্ত সোজা হয়ে হাঁটার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

সারাক্ষণ ডেস্ক

মানব বংশের প্রাচীনতম দাবিদার

গবেষণায় যে প্রজাতির হাড় বিশ্লেষণ করা হয়েছে তার নাম সাহেলানথ্রোপাস ট্যাচাডেনসিস। চেহারায় বানরের মতো হলেও এর দেহগঠন চার পায়ে চলার চেয়ে সোজা হয়ে হাঁটার উপযোগী ছিল বলে দাবি গবেষকদের। মানুষের বংশধারার প্রাচীনতম সদস্য হিসেবে একে ধরা হয়, কারণ মানুষ ও শিম্পাঞ্জির বিবর্তনীয় বিচ্ছেদের সময়কালে এই প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল।

গবেষণার প্রধান লেখক স্কট উইলিয়ামস বলেন, এই প্রাণী দেখতে ছিল দুই পায়ে হাঁটা এক ধরনের বানর, যার সঙ্গে শিম্পাঞ্জি বা বনোবোর মিল সবচেয়ে বেশি। শিম্পাঞ্জি ও বনোবো অল্প সময়ের জন্য সোজা হয়ে হাঁটতে পারে, তবে তাদের প্রধান ভরসা হাঁটুর উপর ভর দিয়ে চলা।

Image

হাড়ে মিলল সোজা হাঁটার চিহ্ন

চাদের জুরাব মরুভূমি থেকে পাওয়া উরু ও বাহুর হাড় নতুন প্রযুক্তিতে আবার পরীক্ষা করা হয়েছে। পরিচিত মানবজাতীয় প্রাণী ও বড় বানরের হাড়ের সঙ্গে আকার, অনুপাত ও ত্রিমাত্রিক গঠনের তুলনা করে দেখা যায়, উরুর হাড়ে একটি বিশেষ উঁচু অংশ রয়েছে, যাকে ফিমোরাল টিউবারকল বলা হয়। এটি শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী এক লিগামেন্টের সংযোগস্থল, যা দাঁড়ানো ও হাঁটার সময় দেহকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। গবেষকদের মতে, এই বৈশিষ্ট্য সাধারণত সোজা হয়ে হাঁটা মানবজাতীয় প্রাণীতে দেখা যায়।

Image

এ ছাড়া উরুর হাড়ে স্বাভাবিক মোচড়, নিতম্বের পেশির বিন্যাস সহ আরও কিছু লক্ষণ মিলেছে, যা দাঁড়ানো, হাঁটা ও দৌড়ে সহায়ক। এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে।

বিতর্ক এখনো শেষ নয়

এই প্রজাতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল দুই হাজার এক সালে প্রথম জীবাশ্ম আবিষ্কারের পর। তখনই একে মানবজাতির পূর্বপুরুষ বলে দাবি ওঠে, আবার অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন। নতুন গবেষণা সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিলেও সবাই একমত নন। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলছেন, কিছু বৈশিষ্ট্য বড় আফ্রিকান বানরের সঙ্গে মিলে যায় এবং উরুর হাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা কঠিন।

তবু সমর্থক গবেষকদের মতে, প্রাথমিক মানব জাতীয় প্রাণী তখন মাটিতে সোজা হয়ে হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে গাছে আশ্রয় ও খাদ্যের ওপরও নির্ভর করত। আরও জীবাশ্ম না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে না বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।