০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
এআই নিজেই বানাচ্ছে গোপন আঁতাত, বাড়ছে দাম—বাজারে নতুন ঝুঁকির সতর্কতা এআই প্রেমের ফাঁদ: ভার্চুয়াল সম্পর্ক কি বাড়াচ্ছে একাকিত্বের ঝুঁকি? এআই চ্যাটবটের কাছে মন খুলছে মানুষ: মানসিক সহায়তায় নতুন ভরসা নাকি বড় ঝুঁকি? আমাজনের গাছ নিজেরাই বৃষ্টি ডাকে: বাতাস ‘শুঁকে’ মিলল নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে অন্ত্রের ক্যানসার, নেপথ্যে জীবনযাপন ও পরিবেশের জটিল প্রভাব ম্যালেরিয়ার মতো জটিল রোগ কি শিশুদের মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে? টিকা সংকট- বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংয়ের ইতিহাস ও বিতর্ক: অতীতের শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক ক্রীড়া রেফারিদের অধিকার রক্ষায় আজীবন লড়াই: ব্যারি মানোর প্রভাব ও উত্তরাধিকার আমেরিকার প্রথম মহাসড়কের গল্প: ন্যাশনাল রোডে গড়ে ওঠা এক জাতির সংযোগ

মরতে চেয়েও বেঁচে থাকা: আইনের অপেক্ষায় এক নারীর অসহ্য লড়াই

মরতে তিনি আর পারেন না, বাঁচতেও পারেন না। দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতায় জর্জরিত এক নারী শান্ত বিদায়ের অধিকার চাইছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের আইন সেই দরজায় তালা ঝুলিয়ে রেখেছে। অপেক্ষার এই নিষ্ঠুর সময়টাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

বেঁচে থাকার সবকিছু, তবু অসহ্য যন্ত্রণা

ক্লেয়ার ব্রোসোর বয়স আটচল্লিশ। বন্ধুবান্ধব, পরিবারের গভীর ভালোবাসা, প্রিয় পোষা কুকুর—সবই আছে। মঞ্চে দর্শকদের হাসিয়েছেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, টেলিভিশনের জন্য লিখেছেন। বাইরে থেকে দেখলে জীবন পরিপূর্ণ। অথচ ভেতরে জমে থাকা যন্ত্রণা তাঁকে প্রতিদিন ভেঙে দেয়। কখনো এমন বিষণ্নতা নেমে আসে যে কান্নায় শরীর ব্যথায় কাঁপে। কখনো আবার মনে হয়, এক মুহূর্তেই সব শেষ করে দিলে শান্তি মিলবে। বহুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, তবু বেঁচে আছেন।

আইনের আশ্বাস, তারপর দীর্ঘ বিলম্ব

কয়েক বছর আগে আইনে পরিবর্তনের খবর শুনে তাঁর মনে ক্ষণিকের স্বস্তি এসেছিল। চিকিৎসকের সহায়তায় শান্তভাবে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ পেলে প্রিয়জনদের জন্য আর ভয়াবহ স্মৃতি রেখে যেতে হবে না—এই আশাই তাঁকে ধরে রেখেছিল। কিন্তু মানসিক রোগকে একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী কারণ হিসেবে ধরা হলে সেই সুযোগ বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সময় গড়িয়েছে, আশ্বাস ভেঙেছে, অপেক্ষা বেড়েছে।

দুই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত দুই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মত এক নয়। একজন মনে করেন, শারীরিক রোগের মতোই মানসিক রোগেও যদি অসহনীয় যন্ত্রণা স্থায়ী হয়, তবে মর্যাদাপূর্ণ বিদায়ের অধিকার অস্বীকার করা বৈষম্য। অন্যজন বিশ্বাস করেন, মানসিক রোগে অপ্রত্যাশিত উন্নতি সম্ভব, নতুন চিকিৎসা আসতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ। এই দ্বন্দ্বই জাতীয় বিতর্কের প্রতিচ্ছবি।

শৈশব থেকে জমে ওঠা অন্ধকার

কিশোর বয়সেই তাঁর জীবনে রোগের ছায়া পড়ে। পড়াশোনায় ভালো হলেও আচরণে হঠাৎ হঠাৎ বদল আসত। একের পর এক রোগনির্ণয়, অসংখ্য ওষুধ, নানা থেরাপি, এমনকি বিদ্যুৎচিকিৎসাও হয়েছে। কখনো সাময়িক উন্নতি, তারপর আবার ফিরে এসেছে অন্ধকার। শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিক যন্ত্রণা তাঁকে প্রতিদিন মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়।

হাসপাতালে সেই অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসভঙ্গ

একবার জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করার সময় তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়, তা গভীর ক্ষত রেখে যায়। শারীরিকভাবে বেঁধে রাখার অভিজ্ঞতা পুরোনো ট্রমা উসকে দেয়। অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি। সেদিন থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর তাঁর শেষ ভরসাটুকুও ভেঙে পড়ে।

ব্যক্তিগত কষ্ট থেকে জাতীয় বিতর্ক

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন। অথচ বাইরে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে তর্ক চলছে—কে মরতে পারবে, কবে পারবে, কোন শর্তে পারবে। মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ‘অসাধ্য’ শব্দটির সংজ্ঞা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এই অনিশ্চয়তার মাঝেই তাঁর জীবন আটকে আছে।

পরিবারের ভালোবাসা, তবু কঠিন বাস্তবতা

শুরুতে পরিবার এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি। পরে তারা বুঝেছে, প্রশ্নটা মৃত্যু হবে কি না নয়, কেমন হবে সেই মৃত্যু। সহিংসতা আর যন্ত্রণার বদলে যদি শান্ত বিদায় সম্ভব হয়, সেটাই কি বেশি মানবিক নয়—এই ভাবনাই তাদের মনোভাব বদলেছে।

আদালতের পথে শেষ চেষ্টা

আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হয়ে তিনি আবার কিছুটা উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছেন। মূল্যায়নে দেখা গেছে, আইনের অন্য শর্ত পূরণ হলে তিনি যোগ্য হতেন। তবু সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। তাঁর ভাষায়, শান্ত মৃত্যুর সেই দরজাটা এখনও বন্ধ। ফলে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—হয়তো একদিন তিনি সহিংস পথটাই বেছে নিতে বাধ্য হবেন।

অপেক্ষার নিষ্ঠুরতা

একদিকে ভালোবাসায় ঘেরা, অন্যদিকে অসহনীয় যন্ত্রণা। মাঝখানে আইন আর সমাজের দ্বিধা। এই অপেক্ষাই তাঁকে প্রতিদিন ক্ষয় করছে। তাঁর প্রশ্ন সহজ—যে কষ্ট সারেনি, যে জীবন সহ্য করা যাচ্ছে না, সেখানে মর্যাদাপূর্ণ বিদায় কি চাওয়া যায় না।

এআই নিজেই বানাচ্ছে গোপন আঁতাত, বাড়ছে দাম—বাজারে নতুন ঝুঁকির সতর্কতা

মরতে চেয়েও বেঁচে থাকা: আইনের অপেক্ষায় এক নারীর অসহ্য লড়াই

০৬:৫৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

মরতে তিনি আর পারেন না, বাঁচতেও পারেন না। দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতায় জর্জরিত এক নারী শান্ত বিদায়ের অধিকার চাইছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের আইন সেই দরজায় তালা ঝুলিয়ে রেখেছে। অপেক্ষার এই নিষ্ঠুর সময়টাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

বেঁচে থাকার সবকিছু, তবু অসহ্য যন্ত্রণা

ক্লেয়ার ব্রোসোর বয়স আটচল্লিশ। বন্ধুবান্ধব, পরিবারের গভীর ভালোবাসা, প্রিয় পোষা কুকুর—সবই আছে। মঞ্চে দর্শকদের হাসিয়েছেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, টেলিভিশনের জন্য লিখেছেন। বাইরে থেকে দেখলে জীবন পরিপূর্ণ। অথচ ভেতরে জমে থাকা যন্ত্রণা তাঁকে প্রতিদিন ভেঙে দেয়। কখনো এমন বিষণ্নতা নেমে আসে যে কান্নায় শরীর ব্যথায় কাঁপে। কখনো আবার মনে হয়, এক মুহূর্তেই সব শেষ করে দিলে শান্তি মিলবে। বহুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, তবু বেঁচে আছেন।

আইনের আশ্বাস, তারপর দীর্ঘ বিলম্ব

কয়েক বছর আগে আইনে পরিবর্তনের খবর শুনে তাঁর মনে ক্ষণিকের স্বস্তি এসেছিল। চিকিৎসকের সহায়তায় শান্তভাবে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ পেলে প্রিয়জনদের জন্য আর ভয়াবহ স্মৃতি রেখে যেতে হবে না—এই আশাই তাঁকে ধরে রেখেছিল। কিন্তু মানসিক রোগকে একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী কারণ হিসেবে ধরা হলে সেই সুযোগ বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সময় গড়িয়েছে, আশ্বাস ভেঙেছে, অপেক্ষা বেড়েছে।

দুই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত দুই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মত এক নয়। একজন মনে করেন, শারীরিক রোগের মতোই মানসিক রোগেও যদি অসহনীয় যন্ত্রণা স্থায়ী হয়, তবে মর্যাদাপূর্ণ বিদায়ের অধিকার অস্বীকার করা বৈষম্য। অন্যজন বিশ্বাস করেন, মানসিক রোগে অপ্রত্যাশিত উন্নতি সম্ভব, নতুন চিকিৎসা আসতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ। এই দ্বন্দ্বই জাতীয় বিতর্কের প্রতিচ্ছবি।

শৈশব থেকে জমে ওঠা অন্ধকার

কিশোর বয়সেই তাঁর জীবনে রোগের ছায়া পড়ে। পড়াশোনায় ভালো হলেও আচরণে হঠাৎ হঠাৎ বদল আসত। একের পর এক রোগনির্ণয়, অসংখ্য ওষুধ, নানা থেরাপি, এমনকি বিদ্যুৎচিকিৎসাও হয়েছে। কখনো সাময়িক উন্নতি, তারপর আবার ফিরে এসেছে অন্ধকার। শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিক যন্ত্রণা তাঁকে প্রতিদিন মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়।

হাসপাতালে সেই অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসভঙ্গ

একবার জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করার সময় তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়, তা গভীর ক্ষত রেখে যায়। শারীরিকভাবে বেঁধে রাখার অভিজ্ঞতা পুরোনো ট্রমা উসকে দেয়। অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি। সেদিন থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর তাঁর শেষ ভরসাটুকুও ভেঙে পড়ে।

ব্যক্তিগত কষ্ট থেকে জাতীয় বিতর্ক

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন। অথচ বাইরে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে তর্ক চলছে—কে মরতে পারবে, কবে পারবে, কোন শর্তে পারবে। মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ‘অসাধ্য’ শব্দটির সংজ্ঞা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এই অনিশ্চয়তার মাঝেই তাঁর জীবন আটকে আছে।

পরিবারের ভালোবাসা, তবু কঠিন বাস্তবতা

শুরুতে পরিবার এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি। পরে তারা বুঝেছে, প্রশ্নটা মৃত্যু হবে কি না নয়, কেমন হবে সেই মৃত্যু। সহিংসতা আর যন্ত্রণার বদলে যদি শান্ত বিদায় সম্ভব হয়, সেটাই কি বেশি মানবিক নয়—এই ভাবনাই তাদের মনোভাব বদলেছে।

আদালতের পথে শেষ চেষ্টা

আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হয়ে তিনি আবার কিছুটা উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছেন। মূল্যায়নে দেখা গেছে, আইনের অন্য শর্ত পূরণ হলে তিনি যোগ্য হতেন। তবু সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। তাঁর ভাষায়, শান্ত মৃত্যুর সেই দরজাটা এখনও বন্ধ। ফলে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—হয়তো একদিন তিনি সহিংস পথটাই বেছে নিতে বাধ্য হবেন।

অপেক্ষার নিষ্ঠুরতা

একদিকে ভালোবাসায় ঘেরা, অন্যদিকে অসহনীয় যন্ত্রণা। মাঝখানে আইন আর সমাজের দ্বিধা। এই অপেক্ষাই তাঁকে প্রতিদিন ক্ষয় করছে। তাঁর প্রশ্ন সহজ—যে কষ্ট সারেনি, যে জীবন সহ্য করা যাচ্ছে না, সেখানে মর্যাদাপূর্ণ বিদায় কি চাওয়া যায় না।