মার্কিন সিনেট ভেনেজুয়েলা নিয়ে সামরিক সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা সীমিত করার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং তা বহু বছর স্থায়ী হতে পারে।
ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার সিনেটে একটি প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট পড়ে। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলায় নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা। ভোটাভুটিতে কিছু রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নেন, যা ট্রাম্পের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিরল দলীয় ভিন্নমত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নজরদারি কতদিন চলবে, ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তদারকি কয়েক মাস বা এক বছরেই শেষ হবে না। তাঁর ভাষায়, সময়ই বলে দেবে কতদিন চলবে, তবে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য হতে পারে। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলাকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে এবং তাতে বড় অঙ্কের লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো আছে। তিনি আগের সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার ওপর জোর দেন।
রাজনৈতিক বন্দিমুক্তিকে শান্তির বার্তা
এদিকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি ও স্থানীয় রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর এই সিদ্ধান্তকে শান্তির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো শত শত রাজনৈতিক বন্দি রয়েছে।

বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর কেন বিরোধীদের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব এড়িয়ে গেছেন তিনি।
আইন কার্যকর হওয়া কঠিন
সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হলেও আইনে পরিণত হওয়া সহজ নয়। প্রতিনিধি পরিষদেও এটি অনুমোদন পেতে হবে এবং শেষে প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করতে দুই কক্ষেই বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তবু এই ভোটাভুটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের বিরল চাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কলম্বিয়া নিয়ে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত
ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়াকে ঘিরে সামরিক হুমকির সুরও নরম হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ কথা হয়েছে এবং শিগগিরই বৈঠকের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তেল ঘিরে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা
ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ট্রাম্প জানান, বড় তেল কোম্পানিগুলো সেখানে বিপুল বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। বিশ্বে সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক সংকটে থাকলেও নতুন পরিকল্পনায় উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















