[কৌশলগত সহযোগিতা ও সরবরাহ চেইন নিরাপত্তা]
জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র ট্রেড যুদ্ধ এড়াতে ও সরবরাহ চেইন মজবুত করতে একটি বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা চূড়ান্তের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য প্রকল্পের দীর্ঘ তালিকা থেকে মাত্র কয়েকটি উচ্চ‑অগ্রাধিকার প্রকল্প বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মধ্য–পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে সফটব্যাংকের অর্থায়নে একটি ডেটা সেন্টার রয়েছে। প্রস্তাবিত ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের কাঠামো অনুযায়ী, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন ও নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স অংশীদারি ও ঋণ দেবে, আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কারখানা ও সরবরাহ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র জাপানি গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্সে শুল্ক কমাবে, যা দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমিত করতে পারে। প্রথম প্রকল্পগুলোর মধ্যে আধা‑পরিবাহী কারখানা, ব্যাটারি প্ল্যান্ট ও সবুজ হাইড্রোজেন সুবিধা রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে স্বাক্ষরিত হতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই উদ্যোগ চীনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে উভয় দেশের প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে নতুন যুগের সূচনা করবে।
দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা নানা প্রতিশ্রুতি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। টোকিওতে বিরোধী আইনপ্রণেতা ও শ্রমিক নেতারা আশঙ্কা করছেন, বিদেশে বিনিয়োগ বাড়লে দেশীয় কারখানাগুলো দুর্বল হতে পারে বা সরকারি অর্থ অকার্যকর প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে। ওয়াশিংটনে কিছু আইনপ্রণেতা মনে করেন, বিনিয়োগের বিনিময়ে শুল্কছাড় ঘরোয়া শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। উভয় পক্ষকেই শ্রম সুরক্ষা, পরিবেশ মান ও নজরদারির নিয়মে একমত হতে হবে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শিগগিরই ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক ক্ষমতা নিয়ে রায় দিতে যাচ্ছে; রায় যাই হোক, জাপান বলছে তাদের পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে। সমর্থকদের মতে, বিনিয়োগ ও শুল্কছাড়ের সমন্বয় একে শূন্য‑সম গেম নয় বরং পারস্পরিক লাভে পরিণত করবে। সফলতা পেলে এটি অন্যান্য মিত্রদের জন্য মডেল হতে পারে, যেখানে গণতান্ত্রিক দেশগুলো চীনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল খুঁজছে।
[শুল্ক, রাজনীতি ও চ্যালেঞ্জ]
এখনও কিছু বড় বাধা রয়ে গেছে। পরিবেশবাদীরা চান নতুন শিল্প পার্কগুলো কার্বন নিঃসরণ না বাড়াক, বিশেষ করে যদি সেগুলো চিপ নির্মাণ বা ডেটা সেন্টারের মতো শক্তি‑নিবিড় হয়। স্থানীয় সরকার ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা চালু আছে; অনেকেই তরুণ কর্মীর বিদেশে চলে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন, আবার কেউ কেউ নতুন চাকরির সম্ভাবনা দেখে আশাবাদী। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও উদ্বিগ্ন যে কৌশলগত খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে সরকারের পরিবর্তন হলে এই চুক্তি নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো মজুরি ও প্রশিক্ষণের নিশ্চয়তা চাইছে, কারণ তারা চায় সাধারণ কর্মীরা সরাসরি লাভবান হোক। তবে মহামারির সময় সরবরাহ বিচ্ছিন্নতা, মাইক্রোচিপ সংকট ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দুই দেশকেই দেখিয়েছে যে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র প্রয়োজন। তাই সমর্থকেরা বলছেন, স্বচ্ছ নিয়ম ও দক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে এই চুক্তি হাজার হাজার চাকরি সৃষ্টি, কার্বন নির্গমন কমাতে প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক মজবুত করার সুযোগ এনে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















