রিয়াদে অনুষ্ঠিত জয় অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ ছিল ঝলমলে আয়োজনের পাশাপাশি আবেগেরও এক উজ্জ্বল সন্ধ্যা। সংগীত, সিনেমা ও বিনোদনের বিশ্বের তারকারা এক মঞ্চে মিলিত হয়ে শুধু সাফল্যই উদ্যাপন করেননি, ভাগ করে নিয়েছেন ব্যক্তিগত অনুভূতি, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার গল্প। রিয়াদ সিজনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় মানুষের পছন্দের পুরস্কার, যেখানে বিজয়ী নির্বাচন করেন দর্শক ও ভক্তরাই।
গানের জাদুতে রাতের শুরু
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে ঝড় তুলেন কেটি পেরি। সোনালি ঝলমলে পোশাকে তাঁর পারফরম্যান্সে আলো, নাচ আর সংগীত মিলেমিশে তৈরি করে এক প্রাণবন্ত আবহ। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগীত অন্ধকার ঘরেও আলো জ্বালাতে পারে, অনুভূতিকে শব্দে রূপ দেয়। তাঁর কণ্ঠ আর উপস্থিতিতে পুরো রাতের মান যেন এক লাফে অনেক ওপরে উঠে যায়।
সৌদি আরব নিয়ে শাহরুখ খানের উষ্ণ অনুভূতি
ল্যাভেন্ডার কার্পেটে হেঁটে আসা বলিউড তারকা শাহরুখ খান ছিলেন সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ। তিনি জানান, কাজের বাইরে অবসর কাটানোর জন্যও সৌদি আরবকে কাছ থেকে দেখতে চান। এখানকার মানুষের ভালোবাসা, সম্মান আর আতিথেয়তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। রাত যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে তিনি ছিলেন পুরো আয়োজনের প্রাণকেন্দ্র, আরব বিশ্বের তরুণ ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের চোখেমুখে ছিল তাঁর প্রতি অকুণ্ঠ প্রশংসা।

ডিস্কোর নস্টালজিয়ায় বনি এম
সত্তরের দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড বনি এম দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুরোনো ডিস্কোর দিনে। পরিচিত সুরে দর্শকরা নেচে ওঠেন, গলা মেলান। ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী লিজ মিচেল জানান, বহু বছর আগে সৌদি আরবে এসেছিলেন, আর এবার এসে শহরের বদলে যাওয়া চেহারা দেখে তিনি বিস্মিত।
পরিবারের শক্তির কথা মিলি ববি ব্রাউনের কণ্ঠে
আবেগঘন মুহূর্ত আসে মিলি ববি ব্রাউনের বক্তব্যে। তিনি বলেন, তাঁর পরিবার তাঁকে স্থির রাখে, স্বামী তাঁকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন, আর সন্তান তাঁর জীবনের দিকনির্দেশক। এই সমর্থন ছাড়া আজকের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না বলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন।
জয় অ্যাওয়ার্ডস মূলত মানুষের ভোটে নির্বাচিত তারকাদের সম্মান জানায়। আরব দুনিয়া, হলিউড ও বলিউডের শিল্পীরা একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করেছেন, ভাষা আর সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে শিল্প মানুষের জীবনকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। ২০২৬ সালের এই আয়োজন তাই শুধু পুরস্কারের রাত নয়, ছিল স্মরণীয় আবেগ আর ভালোবাসার উৎসব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















