১১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
এনসিপি নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, খুলনায় তিন যুবক আটক বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ, বিকল্প ভাবনায় স্কটল্যান্ড পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অধীনে কীভাবে নির্বাচন করব রুমিন ফারহানা সবার আগে তারেক রহমানকে শোকজ করা উচিত কুষ্টিয়ায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমিরের মৃত্যু ঝিনাইদহে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০ জন চট্টগ্রামে সশস্ত্র হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত আহত তিন বাংলাদেশে সোনার দামে নতুন ইতিহাস কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি: বিদেশি পিস্তলসহ দুজন গ্রেপ্তার শাবিপ্রবিতে উপাচার্য অবরুদ্ধ, নির্ধারিত সময়েই সুচসু নির্বাচন চায় শিক্ষার্থীরা

স্বর্ণের নতুন দৌড়ে বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘোরার ইঙ্গিত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ যেন নতুন এক যুগের দরজায় দাঁড়িয়ে। দুই হাজার ছাব্বিশ সালের শুরুতেই নজিরবিহীন গতি নিয়ে এগিয়ে চলেছে এই মূল্যবান ধাতু। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এখন এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যেখানে বিশ্লেষকেরা বলছেন, মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ হাজার ডলার প্রতি আউন্স সীমা ভাঙা আর কেবল সময়ের অপেক্ষা।

স্বর্ণের এই উত্থানকে আর কেবল নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ভূ রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মুদ্রানীতির শিথিলতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর টানা কেনাকাটা এবং বিনিয়োগ কাঠামোর গভীর পরিবর্তনের ফলে স্বর্ণ এখন বাস্তব সম্পদের এক নতুন সুপার চক্রের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

গত বছরের চমকপ্রদ উত্থান
গত বছর স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় চৌষট্টি শতাংশ। নতুন বছরের প্রথম দুই সপ্তাহেই যোগ হয়েছে আরও ছয় শতাংশের বেশি। এই ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি করেছে যে স্বর্ণের এই যাত্রা ক্ষণস্থায়ী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বিনিয়োগ দৃষ্টিভঙ্গি
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক স্বর্ণ নিয়ে সবচেয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে। ব্যাংকটির আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ অঞ্চলের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মনপ্রীত গিল জানান, তাদের বৈশ্বিক সম্পদ বন্টনে স্বর্ণ এখনো অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে আসছে। তার মতে, শক্তিশালী ও বিস্তৃত চাহিদাই বহু বছরের এই উত্থানকে টিকিয়ে রেখেছে। ব্যাংকটি স্বল্প মেয়াদে প্রতি আউন্স চার হাজার তিনশত পঞ্চাশ ডলার এবং এক বছরের মধ্যে চার হাজার আটশ ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে গিলের ভাষায়, এগুলো শেষ গন্তব্য নয়, বরং আরও বড় লক্ষ্যের পথে ধাপমাত্র।

উদীয়মান অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা
গিল বলেন, উদীয়মান অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে। এই রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণই আগামী দিনে স্বর্ণের দামের বড় সহায়ক শক্তি হয়ে উঠবে। বাস্তব সুদের হার কমে আসা এবং তুলনামূলক দুর্বল ডলার পরিবেশ মিলিয়ে স্বর্ণের জন্য শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার কমানোর ফলে স্বল্পমেয়াদে কিছু অস্থিরতা দেখা দিলেও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা কম। সম্ভাব্য পতনগুলো হবে সাময়িক স্থিতিশীলতার ধাপ, যা পরবর্তী বড় উত্থানের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।

বাজারের বাস্তব চিত্র
বাজার ইতিমধ্যেই এই ধারণাকে সমর্থন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ছয়শ তিরিশ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে রুপার দাম উঠেছে ছিয়াশি ডলারেরও ওপর, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক মুদ্রানীতির শিথিলতার প্রত্যাশা এই উত্থানকে আরও গতি দিয়েছে।

বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য
বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার পঁচিশ সালে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ভেঙেছে তিপ্পান্ন বার। একই সময়ে বাস্তব স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ঊননব্বই বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ ভিত্তিক তহবিল এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টে স্বর্ণের মজুত বেড়ে এক হাজার তিয়াত্তর মেট্রিক টনের বেশি হয়েছে, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চীনের টানা স্বর্ণ ক্রয়
এই উত্থান বাজারের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা চৌদ্দ মাস ধরে স্বর্ণ কিনে চলেছে এবং তাদের মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত কোটি চল্লিশ লাখের বেশি ট্রয় আউন্সে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মুদ্রার অস্থিরতা ও ভূ রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে এই প্রবণতা দুই হাজার ছাব্বিশ সাল জুড়েই চলবে।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
স্বতন্ত্র মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক রস নরম্যানের মতে, প্রচলিত আর্থিক নিয়ম বদলে যাওয়ায় বাস্তব সম্পদ আবার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। তার দৃষ্টিতে, স্বর্ণ এমন এক বিশ্বের প্রতিচ্ছবি যেখানে অনিশ্চয়তা এখন স্থায়ী বাস্তবতা। অন্যদিকে কে সি এম ট্রেডের বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ভূ রাজনৈতিক ঝুঁকি ও সুদের হার কমার প্রত্যাশা বজায় থাকলে স্বর্ণ সহজেই চার হাজার ছয়শ ডলারের ওপরে স্থায়ী অবস্থান গড়তে পারে।

এফএক্সটিএমের বিশ্লেষক লুকম্যান ওতুনুগা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, বাণিজ্য উত্তেজনা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা স্বর্ণের পক্ষে শক্ত ভিত তৈরি করেছে। একই সুরে জায়ে ক্যাপিটাল মার্কেটসের নাঈম আসলাম বলেন, একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় স্বর্ণই বিনিয়োগকারীদের প্রধান আশ্রয় হয়ে উঠছে।

স্বর্ণের নতুন পরিচয়
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যে স্বর্ণ ছিল কেবল প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগ, আজ তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। সরবরাহ সীমিত, চাহিদা কাঠামোগত ভাবে বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক অবস্থায় রূপ নিচ্ছে। এসব মিলিয়ে পাঁচ হাজার ডলারের স্বর্ণ এখন আর কল্পনা নয়, বরং বাজারের ভিত্তিগত অনুমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, খুলনায় তিন যুবক আটক

স্বর্ণের নতুন দৌড়ে বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘোরার ইঙ্গিত

০৯:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ যেন নতুন এক যুগের দরজায় দাঁড়িয়ে। দুই হাজার ছাব্বিশ সালের শুরুতেই নজিরবিহীন গতি নিয়ে এগিয়ে চলেছে এই মূল্যবান ধাতু। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এখন এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যেখানে বিশ্লেষকেরা বলছেন, মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ হাজার ডলার প্রতি আউন্স সীমা ভাঙা আর কেবল সময়ের অপেক্ষা।

স্বর্ণের এই উত্থানকে আর কেবল নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ভূ রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মুদ্রানীতির শিথিলতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর টানা কেনাকাটা এবং বিনিয়োগ কাঠামোর গভীর পরিবর্তনের ফলে স্বর্ণ এখন বাস্তব সম্পদের এক নতুন সুপার চক্রের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

গত বছরের চমকপ্রদ উত্থান
গত বছর স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় চৌষট্টি শতাংশ। নতুন বছরের প্রথম দুই সপ্তাহেই যোগ হয়েছে আরও ছয় শতাংশের বেশি। এই ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি করেছে যে স্বর্ণের এই যাত্রা ক্ষণস্থায়ী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বিনিয়োগ দৃষ্টিভঙ্গি
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক স্বর্ণ নিয়ে সবচেয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে। ব্যাংকটির আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ অঞ্চলের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মনপ্রীত গিল জানান, তাদের বৈশ্বিক সম্পদ বন্টনে স্বর্ণ এখনো অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে আসছে। তার মতে, শক্তিশালী ও বিস্তৃত চাহিদাই বহু বছরের এই উত্থানকে টিকিয়ে রেখেছে। ব্যাংকটি স্বল্প মেয়াদে প্রতি আউন্স চার হাজার তিনশত পঞ্চাশ ডলার এবং এক বছরের মধ্যে চার হাজার আটশ ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে গিলের ভাষায়, এগুলো শেষ গন্তব্য নয়, বরং আরও বড় লক্ষ্যের পথে ধাপমাত্র।

উদীয়মান অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা
গিল বলেন, উদীয়মান অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে। এই রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণই আগামী দিনে স্বর্ণের দামের বড় সহায়ক শক্তি হয়ে উঠবে। বাস্তব সুদের হার কমে আসা এবং তুলনামূলক দুর্বল ডলার পরিবেশ মিলিয়ে স্বর্ণের জন্য শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার কমানোর ফলে স্বল্পমেয়াদে কিছু অস্থিরতা দেখা দিলেও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা কম। সম্ভাব্য পতনগুলো হবে সাময়িক স্থিতিশীলতার ধাপ, যা পরবর্তী বড় উত্থানের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।

বাজারের বাস্তব চিত্র
বাজার ইতিমধ্যেই এই ধারণাকে সমর্থন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ছয়শ তিরিশ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে রুপার দাম উঠেছে ছিয়াশি ডলারেরও ওপর, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক মুদ্রানীতির শিথিলতার প্রত্যাশা এই উত্থানকে আরও গতি দিয়েছে।

বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য
বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার পঁচিশ সালে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ভেঙেছে তিপ্পান্ন বার। একই সময়ে বাস্তব স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ঊননব্বই বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ ভিত্তিক তহবিল এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টে স্বর্ণের মজুত বেড়ে এক হাজার তিয়াত্তর মেট্রিক টনের বেশি হয়েছে, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চীনের টানা স্বর্ণ ক্রয়
এই উত্থান বাজারের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা চৌদ্দ মাস ধরে স্বর্ণ কিনে চলেছে এবং তাদের মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত কোটি চল্লিশ লাখের বেশি ট্রয় আউন্সে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মুদ্রার অস্থিরতা ও ভূ রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে এই প্রবণতা দুই হাজার ছাব্বিশ সাল জুড়েই চলবে।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
স্বতন্ত্র মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক রস নরম্যানের মতে, প্রচলিত আর্থিক নিয়ম বদলে যাওয়ায় বাস্তব সম্পদ আবার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। তার দৃষ্টিতে, স্বর্ণ এমন এক বিশ্বের প্রতিচ্ছবি যেখানে অনিশ্চয়তা এখন স্থায়ী বাস্তবতা। অন্যদিকে কে সি এম ট্রেডের বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ভূ রাজনৈতিক ঝুঁকি ও সুদের হার কমার প্রত্যাশা বজায় থাকলে স্বর্ণ সহজেই চার হাজার ছয়শ ডলারের ওপরে স্থায়ী অবস্থান গড়তে পারে।

এফএক্সটিএমের বিশ্লেষক লুকম্যান ওতুনুগা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, বাণিজ্য উত্তেজনা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা স্বর্ণের পক্ষে শক্ত ভিত তৈরি করেছে। একই সুরে জায়ে ক্যাপিটাল মার্কেটসের নাঈম আসলাম বলেন, একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় স্বর্ণই বিনিয়োগকারীদের প্রধান আশ্রয় হয়ে উঠছে।

স্বর্ণের নতুন পরিচয়
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যে স্বর্ণ ছিল কেবল প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগ, আজ তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। সরবরাহ সীমিত, চাহিদা কাঠামোগত ভাবে বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক অবস্থায় রূপ নিচ্ছে। এসব মিলিয়ে পাঁচ হাজার ডলারের স্বর্ণ এখন আর কল্পনা নয়, বরং বাজারের ভিত্তিগত অনুমান।