আসন্ন পুরুষদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী পেসার মদন লাল সরাসরি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের উসকানিতেই বাংলাদেশ দল এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে। তাঁর দাবি, ভারতের ক্ষতি করার লক্ষ্যেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশই।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশের শর্ত
আগামী ফেব্রুয়ারির সাত তারিখ থেকে মার্চের আট তারিখ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা পুরুষদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই আসরে গ্রুপ সিতে রয়েছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নেপাল, ইতালি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন, দল ভারত সফরে যাবে না এবং কেবল তখনই অংশ নেবে, যদি তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানো হয়।
আইসিসির অনড় অবস্থান ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সূচি পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে এই অবস্থান বহাল থাকলে বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে পারে এবং তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিসিবি আবারও আইসিসির সঙ্গে কথা বলার ইঙ্গিত দিলেও, অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির বার্তা আসে। পাকিস্তানের কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নকভি নাকি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দলের প্রস্তুতিও স্থগিত রেখেছেন। মদন লালের মতে, এসবই পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান বাংলাদেশকে উসকানি দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরি করতে চাইছে।
মদন লালের সতর্কবার্তা
মদন লাল মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত কিছুই হারাবে না, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে এমন বড় টুর্নামেন্টে অংশ না নিলে বাংলাদেশের ক্রিকেটই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নিরাপত্তা বিতর্কে ভিন্ন মত
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। মদন লালের যুক্তি, মুম্বাই ভারতের অন্যতম নিরাপদ শহর এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বাস্তব ভিত্তি নেই। তাঁর মতে, পুরো বিষয়টি ক্রিকেটের চেয়ে রাজনীতির অংশই বেশি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ভারতে দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকৃত শঙ্কা রয়েছে এবং এই বিষয়ে ভারতীয় বোর্ড বা আইসিসির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















