যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ যখন তীব্র শীতের কবলে, তখন দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভয়াবহ চাপের মুখে পড়েছে। শনিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে সতর্কতা জোরদার করেছে বিভিন্ন আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের তাৎক্ষণিক দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির গুরুতর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিদ্যুতের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন
পূর্ব ও মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে প্রায় ছয় কোটি সত্তর লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বৃহত্তম আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, শনিবার সকালে বিদ্যুতের তাৎক্ষণিক দাম হঠাৎ করেই কয়েক হাজার ডলারে উঠে যায়, যেখানে আগের দিন সেই দাম ছিল অনেক কম। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শীতকালীন চাহিদার চরম চাপকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

চাহিদায় নতুন রেকর্ডের আশঙ্কা
আগামী মঙ্গলবার শীতকালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই চাহিদা আগের বছরের জানুয়ারির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘর গরম রাখতে বিদ্যুৎ ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
পুরোনো কেন্দ্র আবার চালু
উচ্চ দামের সুযোগ নিতে বছরের বড় সময় বন্ধ থাকা পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও আবার চালু করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার দশক পুরোনো গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র চালু হওয়াই প্রমাণ করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ কতটা তীব্র। শীত, জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অনেক কেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না।

গ্যাস সংকট ও সরবরাহের টানাপোড়েন
চরম ঠান্ডার কারণে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, একই সঙ্গে পাইপলাইনে সরবরাহও সীমিত। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও সঞ্চালন লাইনে জট তৈরি হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
নিউ ইংল্যান্ডে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি
ছয় রাজ্যের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে মোট উৎপাদনের বড় অংশই এসেছে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে, যা স্বাভাবিক সময়ে খুবই সামান্য থাকে।

টেক্সাসে বড় পরীক্ষার মুখে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
টেক্সাসে এই শীতকালীন ঝড়কে দুই হাজার একুশ সালের পর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সে সময় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে এরপর কঠোর নিয়মকানুন ও প্রস্তুতির কারণে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। পর্যাপ্ত জ্বালানি, বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ এবং শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থার কারণে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম।
তবুও সতর্কতা অব্যাহত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ই আলাদা ধরনের হয়। তাই আশাবাদ থাকলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। চরম শীত যতদিন থাকবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















