০৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি: শেখ হাসিনার আইনজীবীর চিঠিতে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন পিরোজপুরে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৫ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় গতি, ঢাকায় চালু হচ্ছে দুই দিনের নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শর্তহীন সমঝোতা নয়, বাস্তব ফল পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি: ইরানের শীর্ষ আলোচক ডেমরার স্টিল মিলে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ শ্রমিক; দুজন নিবিড় পরিচর্যায় প্রকৃতি রক্ষার কর্মসংস্থান: উন্নয়নের নতুন অর্থনীতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সোনারপুরে হামলা, গ্রেপ্তার ৫: ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু বিতর্ক সংকটের অপেক্ষা না সংস্কারের সাহস: ব্রিটেনের সামনে কঠিন প্রশ্ন দিনাজপুরে ঈদের আনন্দযাত্রা থামল সড়কে, প্রাণ গেল দুই কলেজপড়ুয়া বন্ধুর

ওসমান হাদির সন্তান ও ভাইয়ের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সন্তান ও ভাইয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

জিডি দায়েরের তথ্য
শনিবার রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরিটি করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শহিদ ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি নিজে থানায় এসে এই জিডি করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা
জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি ও হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্র এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

আল্লাহ আপনার সন্তানকে হেফাজত করুন।

হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ
জিডিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারণে পরিবারটি গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
গত বারো ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। সে সময় তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।

কাঁধে থাকা সেই শিশুটি হাদির সন্তান নয়, জানা গেল পরিচয় | The Daily Campus

চিকিৎসা ও মৃত্যু
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের জানানো হয়, গুলি তার মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত আঠারো ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

জানাজা ও দাফন
মরদেহ দেশে আনার পর বিশ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

পরে বিকেল তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই সম্মুখযোদ্ধাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি: শেখ হাসিনার আইনজীবীর চিঠিতে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

ওসমান হাদির সন্তান ও ভাইয়ের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি

১২:২১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সন্তান ও ভাইয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

জিডি দায়েরের তথ্য
শনিবার রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরিটি করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শহিদ ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি নিজে থানায় এসে এই জিডি করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা
জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি ও হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্র এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

আল্লাহ আপনার সন্তানকে হেফাজত করুন।

হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ
জিডিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারণে পরিবারটি গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
গত বারো ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। সে সময় তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।

কাঁধে থাকা সেই শিশুটি হাদির সন্তান নয়, জানা গেল পরিচয় | The Daily Campus

চিকিৎসা ও মৃত্যু
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের জানানো হয়, গুলি তার মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত আঠারো ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

জানাজা ও দাফন
মরদেহ দেশে আনার পর বিশ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

পরে বিকেল তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই সম্মুখযোদ্ধাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।