০৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
আবুধাবিতে উর্বরতা চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা, আইভিএফ গবেষণায় নেতৃত্বের বার্তা শারজাহর অগ্রযাত্রার পাঁচ দশক: শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাসিমির নেতৃত্বে উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের গল্প গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার আহ্বান, রাফাহ সীমান্ত খোলার আলোচনায় ইসরায়েল সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আরও ১৫ দিনের জন্য বাড়াল সরকার ভারতের ডিজিটাল উত্থান, তরুণদের নতুন দিগন্ত খুলছে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোই পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ স্বার্থ ইউরোপ ও ভারতের ঐতিহাসিক বাণিজ্য সমঝোতার পথে অগ্রগতি, ‘সব চুক্তির জননী’ ঘিরে দিল্লিতে শীর্ষ বৈঠক কাঠুয়ায় জঙ্গি অভিযানের নাটকীয় পরিণতি, পরিবারের ঢাল নিয়েও শেষ রক্ষা হলো না শেয়ার বিক্রি করলেন সুন্দর পিচাই, অ্যালফাবেট তাঁর মালিকানা কতটা বদলাল ই-রিটার্ন আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিফলন সিনিয়র সচিব

পাঠ্যবইয়ের বাইরে শিক্ষা: সহমর্মিতা, মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তি গড়ছে স্কুল

আজকের বিশ্বে শিক্ষা আর শুধু নম্বর বা পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নেই। সমাজ যত বৈচিত্র্যময় ও ডিজিটালভাবে যুক্ত হচ্ছে, ততই স্কুলকে দেখা হচ্ছে এমন এক জায়গা হিসেবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখে, অনিশ্চয়তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং জ্ঞানের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ গড়ে তোলে।

এই বাস্তবতায় শ্রেণিকক্ষের ভূমিকা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে এখন প্রত্যাশা, তাঁরা যেন শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলকভাবে ভাবতে শেখান, গোঁড়া ধারণাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেন এবং ভয়ের বদলে কৌতূহল নিয়ে মতভেদের মুখোমুখি হতে সাহায্য করেন। নাগরিক জীবন ও কর্মক্ষেত্র—দুয়ের জন্যই এই দক্ষতাগুলো ক্রমে অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষা নিয়ে আলোচনা এখন পরীক্ষার ফল ছাড়িয়ে মূল্যবোধ, মানসিক দৃঢ়তা ও সামাজিক দায়িত্বের দিকে প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে লোধা ওকউড স্কুলের নতুন অধ্যক্ষ অঞ্জলি কার্পে পাঠ্যবই ও পরীক্ষার বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন।

DSC05682 (1)

 

স্কুলে গড়ে ওঠে বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধ
অঞ্জলি কার্পের মতে, স্কুলে শান্তি মানে শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়। শান্তি মানে বোঝাপড়া, মর্যাদা ও যৌথ দায়িত্ববোধের উপস্থিতি, যা প্রতিদিনের ছোট ছোট শিক্ষানুভবের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

বর্তমান প্রজন্ম বড় হচ্ছে মেরুকরণ, বৈষম্য ও ডিজিটাল কোলাহলের মধ্যে। এমন সময়ে শিক্ষার দায়িত্ব শুধু পড়ানো নয়, সচেতনভাবে সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও নৈতিক বিচারের চর্চা গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের শেখাতে হয় কীভাবে সমালোচনামূলকভাবে ভাবতে হবে, ভুল তথ্য চিনতে হবে এবং সততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বোঝাতে হয় সম্পর্কের মূল্য এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার দায়িত্ব।

তাঁর কথায়, শ্রেণিকক্ষ হতে হবে এমন জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে। যেখানে তারা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা শুনতে শিখবে, কুসংস্কারকে প্রশ্ন করবে এবং ভয়ের বদলে সহমর্মিতা নিয়ে মতভেদের জবাব দেবে।

IMG_4193 (1)

 

সমন্বিত শিক্ষায় তৈরি হয় পরিপূর্ণ মানুষ
লোধা ওকউড স্কুলে শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় সমন্বিত বিকাশকে। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি মূল্যবোধ, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম ও মানসিক সুস্থতার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অঞ্জলি কার্পে জানান, অর্থবহ শিক্ষা মানে কেবল বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন নয়। এর সঙ্গে আবেগগত, সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক সক্ষমতার সচেতন বিকাশ জরুরি। যখন শিক্ষায় আবেগের সচেতনতা ও সহমর্মিতার চর্চা থাকে, তখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের ও অন্যদের আরও ভালোভাবে বুঝতে শেখে। এতে ভয়, বিদ্বেষ ও হঠকারী আচরণ কমে যায়। তারা মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারে, সহানুভূতির সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ন্যায়বোধ ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে শেখে।

এই ধরনের শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল, নৈতিকভাবে দিশা নির্দেশপ্রাপ্ত ও সামাজিকভাবে সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। ফলে শিক্ষা হয়ে ওঠে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের পথ নয়, সামগ্রিক কল্যাণের শক্তি।

SSS_5719

 

সমাজ গঠনে শিক্ষার বিস্তৃত ভূমিকা
অঞ্জলি কার্পের ভাষায়, শিক্ষা কোনো সীমাবদ্ধ একাডেমিক যাত্রা নয়; এটি একজন মানুষকে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রক্রিয়া। জ্ঞান ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সহমর্মিতা, সততা, সহনশীলতা ও সৃজনশীলতার চর্চা সমান প্রয়োজন। এই গুণগুলো মানুষকে নিজের পরিচয় বুঝতে, অন্যের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে এবং সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে সাহায্য করে।

দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, সার্বক্ষণিক সংযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবের এই সময়ে শিক্ষকদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই করতে শেখানো, সচেতনভাবে প্রশ্ন তুলতে উৎসাহ দেওয়া এবং চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই এখন শিক্ষার মূল লক্ষ্য। কী ভাবছে তার চেয়ে কীভাবে ভাবছে, সেটা হয়ে উঠছে প্রকৃত মানদণ্ড।

অঞ্জলি কার্পে জোর দিয়ে বলেন, আজকের শিক্ষা এমন মানুষ গড়ার কথা বলে, যারা চিন্তাশীল, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল। পাঠ্যবইয়ের বাইরের মূল্যবোধ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও সামাজিক সচেতনতার চর্চার মাধ্যমে স্কুল শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। এর মাধ্যমে তারা জটিল ও পরস্পর নির্ভরশীল বিশ্বে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবুধাবিতে উর্বরতা চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা, আইভিএফ গবেষণায় নেতৃত্বের বার্তা

পাঠ্যবইয়ের বাইরে শিক্ষা: সহমর্মিতা, মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তি গড়ছে স্কুল

০১:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আজকের বিশ্বে শিক্ষা আর শুধু নম্বর বা পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নেই। সমাজ যত বৈচিত্র্যময় ও ডিজিটালভাবে যুক্ত হচ্ছে, ততই স্কুলকে দেখা হচ্ছে এমন এক জায়গা হিসেবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখে, অনিশ্চয়তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং জ্ঞানের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ গড়ে তোলে।

এই বাস্তবতায় শ্রেণিকক্ষের ভূমিকা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে এখন প্রত্যাশা, তাঁরা যেন শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলকভাবে ভাবতে শেখান, গোঁড়া ধারণাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেন এবং ভয়ের বদলে কৌতূহল নিয়ে মতভেদের মুখোমুখি হতে সাহায্য করেন। নাগরিক জীবন ও কর্মক্ষেত্র—দুয়ের জন্যই এই দক্ষতাগুলো ক্রমে অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষা নিয়ে আলোচনা এখন পরীক্ষার ফল ছাড়িয়ে মূল্যবোধ, মানসিক দৃঢ়তা ও সামাজিক দায়িত্বের দিকে প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে লোধা ওকউড স্কুলের নতুন অধ্যক্ষ অঞ্জলি কার্পে পাঠ্যবই ও পরীক্ষার বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন।

DSC05682 (1)

 

স্কুলে গড়ে ওঠে বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধ
অঞ্জলি কার্পের মতে, স্কুলে শান্তি মানে শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়। শান্তি মানে বোঝাপড়া, মর্যাদা ও যৌথ দায়িত্ববোধের উপস্থিতি, যা প্রতিদিনের ছোট ছোট শিক্ষানুভবের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

বর্তমান প্রজন্ম বড় হচ্ছে মেরুকরণ, বৈষম্য ও ডিজিটাল কোলাহলের মধ্যে। এমন সময়ে শিক্ষার দায়িত্ব শুধু পড়ানো নয়, সচেতনভাবে সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও নৈতিক বিচারের চর্চা গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের শেখাতে হয় কীভাবে সমালোচনামূলকভাবে ভাবতে হবে, ভুল তথ্য চিনতে হবে এবং সততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বোঝাতে হয় সম্পর্কের মূল্য এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার দায়িত্ব।

তাঁর কথায়, শ্রেণিকক্ষ হতে হবে এমন জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে। যেখানে তারা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা শুনতে শিখবে, কুসংস্কারকে প্রশ্ন করবে এবং ভয়ের বদলে সহমর্মিতা নিয়ে মতভেদের জবাব দেবে।

IMG_4193 (1)

 

সমন্বিত শিক্ষায় তৈরি হয় পরিপূর্ণ মানুষ
লোধা ওকউড স্কুলে শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় সমন্বিত বিকাশকে। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি মূল্যবোধ, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম ও মানসিক সুস্থতার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অঞ্জলি কার্পে জানান, অর্থবহ শিক্ষা মানে কেবল বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন নয়। এর সঙ্গে আবেগগত, সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক সক্ষমতার সচেতন বিকাশ জরুরি। যখন শিক্ষায় আবেগের সচেতনতা ও সহমর্মিতার চর্চা থাকে, তখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের ও অন্যদের আরও ভালোভাবে বুঝতে শেখে। এতে ভয়, বিদ্বেষ ও হঠকারী আচরণ কমে যায়। তারা মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারে, সহানুভূতির সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ন্যায়বোধ ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে শেখে।

এই ধরনের শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল, নৈতিকভাবে দিশা নির্দেশপ্রাপ্ত ও সামাজিকভাবে সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। ফলে শিক্ষা হয়ে ওঠে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের পথ নয়, সামগ্রিক কল্যাণের শক্তি।

SSS_5719

 

সমাজ গঠনে শিক্ষার বিস্তৃত ভূমিকা
অঞ্জলি কার্পের ভাষায়, শিক্ষা কোনো সীমাবদ্ধ একাডেমিক যাত্রা নয়; এটি একজন মানুষকে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রক্রিয়া। জ্ঞান ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সহমর্মিতা, সততা, সহনশীলতা ও সৃজনশীলতার চর্চা সমান প্রয়োজন। এই গুণগুলো মানুষকে নিজের পরিচয় বুঝতে, অন্যের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে এবং সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে সাহায্য করে।

দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, সার্বক্ষণিক সংযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবের এই সময়ে শিক্ষকদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই করতে শেখানো, সচেতনভাবে প্রশ্ন তুলতে উৎসাহ দেওয়া এবং চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই এখন শিক্ষার মূল লক্ষ্য। কী ভাবছে তার চেয়ে কীভাবে ভাবছে, সেটা হয়ে উঠছে প্রকৃত মানদণ্ড।

অঞ্জলি কার্পে জোর দিয়ে বলেন, আজকের শিক্ষা এমন মানুষ গড়ার কথা বলে, যারা চিন্তাশীল, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল। পাঠ্যবইয়ের বাইরের মূল্যবোধ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও সামাজিক সচেতনতার চর্চার মাধ্যমে স্কুল শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। এর মাধ্যমে তারা জটিল ও পরস্পর নির্ভরশীল বিশ্বে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।