বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার প্রযুক্তি খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই প্রবণতার বড় সুবিধাভোগীদের একজন হয়ে উঠছে ওরাকল। কোম্পানিটির দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর চাহিদা যদি একই গতিতে বাড়তে থাকে, তবে ২০২৭ সালের মধ্যেই তাদের মোট আয় প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই ঘোষণা বাজারে আসার পরই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়ে যায় এবং কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় আট শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওরাকল বড় আকারে ডেটা অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কম্পিউটিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় কোম্পানিটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশাল ডেটা কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এর মাধ্যমে দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সফটওয়্যার তৈরিতে তুলনামূলক ছোট প্রকৌশলী দল ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কোডিং সরঞ্জাম কাজে লাগানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য দ্রুত নতুন সেবা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ আয়ের শক্তিশালী সংকেত
কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয় চুক্তিভিত্তিক অবশিষ্ট আয়। গত এক বছরে এই সূচকে নাটকীয় বৃদ্ধি দেখা গেছে। সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৩ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।
এই বিপুল পরিমাণ আয়ের বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্লেষকদের অনেকের ধারণার চেয়েও এই বৃদ্ধি দ্রুত হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর চাহিদা বিশ্বজুড়ে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত বাড়ছে।
![]()
ক্লাউড সেবায় বাড়ছে লাভের সম্ভাবনা
ওরাকলের নেতৃত্ব মনে করছে, তাদের ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবসার লাভের হার আগামী সময়ে আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ ভাড়া দেওয়ার মতো সেবা থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লাভ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি গ্রাহকদের ব্যয়ের একটি অংশ ডেটাবেজ এবং অন্যান্য সফটওয়্যার সেবায় ব্যয় হচ্ছে, যেখানে লাভের হার তুলনামূলকভাবে আরও বেশি। এই দুই ধরনের সেবা একসঙ্গে কোম্পানির ক্লাউড ব্যবসাকে দ্রুত শক্তিশালী করে তুলছে।
প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নতুন গতি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি শিল্পে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ওরাকল দ্রুত তাদের ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে। কোম্পানিটি বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কাজের জন্য উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তুলছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সফটওয়্যার তৈরির নতুন সরঞ্জাম তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এখন ছোট প্রকৌশলী দল দিয়েও বড় আকারের সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার সেবা দ্রুত বাড়তে পারে।
ত্রৈমাসিক আয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাফল্য
সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে কোম্পানিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। এই আয় বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। আগামী ত্রৈমাসিকগুলোতেও আয়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে কোম্পানির নেতৃত্ব আশা করছে।
ওরাকলের মতে, সামনে ক্লাউড সেবা থেকেই আয়ের বড় অংশ আসবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সেবার চাহিদা যদি একই গতিতে বাড়তে থাকে, তবে এই প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত হতে পারে এবং কোম্পানিটি নতুন আয়ের রেকর্ড গড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















