বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে যাওয়ার সময়েই এক নাটকীয় সিদ্ধান্ত জানাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাবেক অধিনায়ক শাকিব আল হাসান আবারও জাতীয় দলের নির্বাচনের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
দীর্ঘ বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত
শনিবার গভীর রাতে প্রায় আট ঘণ্টাব্যাপী বোর্ড সভার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফিটনেস ও উপস্থিতির শর্ত
আমজাদ হোসেন বলেন, শাকিব যদি খেলতে আগ্রহী থাকেন, শারীরিকভাবে ফিট থাকেন এবং ম্যাচের ভেন্যুতে উপস্থিত হতে পারেন, তাহলে বোর্ড ও নির্বাচকরা তাকে অবশ্যই বিবেচনায় নেবেন। তবে ফিটনেস ও প্রাপ্যতার বিষয়টি মূল শর্ত হিসেবে থাকছে।
বাংলাদেশে ফেরার জটিলতা
তবে শাকিবের বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য শাকিব ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের পর আর দেশে ফেরেননি।
বিতর্কিত নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। ওই নির্বাচন নানা অনিয়মের অভিযোগ ও বিরোধী দলের বর্জনের কারণে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
শেষ ম্যাচ ও বিদায়ী টেস্ট প্রসঙ্গ
ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে সর্বশেষ জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায় শাকিবকে। মিরপুরে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলার পরিকল্পনা থাকলেও জনবিক্ষোভ ও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে সেই ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

আইনি বিষয়ে বিসিবির অবস্থান
শাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রসঙ্গ উঠলে বিসিবি নিজেকে বিষয়টি থেকে আলাদা রাখে। আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি অপরাধী কি না বা বিচার প্রয়োজন কি না, সেটি সরকারের বিষয়, বিসিবির নয়।
খেলোয়াড় হিসেবে শাকিবকেই চায় বোর্ড
বোর্ড পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন বা রাজনৈতিকভাবে কী অবস্থানে আছেন, তা বোর্ডের বিবেচ্য নয়। বিসিবির চাওয়া একজন ক্রিকেটার শাকিব আল হাসান।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা
জানা গেছে, শাকিবের নিরাপদভাবে দেশে ফেরা ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব বোর্ড সভাপতির ওপর দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















