ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ সদস্য দেশগুলোর কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত দুটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম মাসেই ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আইইএর জরুরি পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে জরুরি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোর কৌশলগত তেল মজুত থেকে বড় পরিমাণ তেল ছাড়ার সুপারিশ করা হতে পারে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম মাসেই ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে। এর লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলা করা এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

যুদ্ধের প্রভাব তেলের বাজারে
ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বে তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান অঞ্চল হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় বা গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
কৌশলগত মজুতের ভূমিকা
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের কাছে বিপুল পরিমাণ কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। সাধারণত বড় ধরনের যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সরবরাহ সংকটের সময় এই মজুত ব্যবহার করা হয়।

আইইএ সমন্বয় করে সদস্য দেশগুলোকে একসঙ্গে মজুত তেল ছাড়তে উৎসাহ দেয়, যাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে না যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইইএর এই পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















