০২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের ইয়েন সংকটে সতর্ক টোকিও, ‘ফোন অন রাখুন’ বার্তা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের দুবাই মেরিনায় নির্মাণাধীন ভবনে আগুন, হতাহতের খবর নেই বিজেপির সমর্থন নয়, শর্ত দিয়ে বিজয়ের টিভিকেকে পাশে দাঁড়াতে চায় কংগ্রেস কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসে জল্পনা, দৌড়ে সাথীসন-ভেনুগোপাল-চেন্নিথলা আসাম বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নাও থাকতে পারে বিজয়ের ১৫ বছরের মাঠ প্রস্তুতি, তারপরই টিভিকে’র রাজনৈতিক উত্থান বিজেপির জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা, তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ রাহুলের অভিযোগ, ‘বাংলা-আসামে জনগণের রায় চুরি করেছে বিজেপি’ মমতার নতুন লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোট, পরাজয়ের পরই বিরোধী ঐক্য জোরদারের বার্তা

চীনে বই পড়ার নতুন অভিযান: মোবাইল ছেড়ে পাঠে ফিরতে বলছে সরকার, কিন্তু স্বাধীনতা নিয়েই বড় প্রশ্ন

চীনে মানুষকে আবার বইয়ের দিকে ফেরাতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লক্ষ্য একটাই—মানুষ যেন বেশি পড়ে, গভীরভাবে পড়ে এবং চিন্তায় আরও সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু এই উদ্যোগ যতটা আশাব্যঞ্জক, ততটাই জটিল হয়ে উঠছে একটি প্রশ্নে—মানুষ কী পড়বে, আর কতটা স্বাধীনভাবে পড়তে পারবে?

পাঠে ফেরানোর সরকারি উদ্যোগ

চীনের বিভিন্ন শহরে এখন বই পড়া নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরির চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি চালু হয়েছে একটি জাতীয় নীতি, যার মাধ্যমে মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে প্রথম জাতীয় পাঠ সপ্তাহও।

সরকারি প্রচারণায় বারবার বলা হচ্ছে—মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে থাকার বদলে বইয়ের পাতায় মন দেওয়া দরকার। নেতৃত্ব পর্যায় থেকেও পড়াশোনার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে, যেন এটি শুধু অভ্যাস নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের একটি ভিত্তি হয়ে ওঠে।

তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। আধুনিক লাইব্রেরিগুলোতে মানুষের ভিড় থাকলেও, অনেকেই সেখানে বই পড়ার চেয়ে ছবি তোলা বা সময় কাটাতেই বেশি আগ্রহী। অনেক ক্ষেত্রে লাইব্রেরির সৌন্দর্যই আকর্ষণ, বই নয়।

Xi Jinping's article on promoting reading to be published - CGTN

 

মোবাইলের দখলে পড়ার অভ্যাস

বর্তমানে চীনে ছাপা বই পড়ার হার কমে গেছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক বছরে গড়ে পাঁচটিরও কম বই পড়ে। অন্যদিকে মোবাইল বা অনলাইনে সময় কাটানোর প্রবণতা বেড়েই চলেছে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, অনলাইন পড়া অনেক সময় গভীর জ্ঞান দেয় না, বরং তা হয় বিনোদন বা সময় কাটানোর মাধ্যম। ফলে মনোযোগ, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও গভীর চিন্তার অভ্যাস কমে যাচ্ছে।

উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যের যোগসূত্র

সরকার মনে করে, গভীরভাবে পড়ার অভ্যাস থাকলে মানুষ নতুন ধারণা তৈরি করতে পারে, যা প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের জন্য জরুরি। একই সঙ্গে চীনের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও বই পড়ার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

এই দুটি বিষয়কে একসঙ্গে সামনে রেখে চীন ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজেকে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে পড়ার অভ্যাসকে একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

Photo: CFP

বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

তবে শুধু নীতি তৈরি করলেই মানুষ বই পড়তে শুরু করবে—এমনটা নয়। নতুন লাইব্রেরি তৈরি বা পড়ার জায়গা বাড়ানোর নির্দেশ থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। কোথাও বইয়ের অভাব, কোথাও পাঠকের আগ্রহের ঘাটতি।

বইয়ের দোকান মালিকদের অভিযোগ, তাদের টিকিয়ে রাখার মতো বড় কোনো সহায়তা নেই। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়ছেন।

কী পড়বে মানুষ—এই প্রশ্নই বড়

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মানুষ কী পড়বে? সরকারি নীতিতে বলা হয়েছে “ভালো বই” পড়ার কথা। কিন্তু এই ভালো বইয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে সরকারই।

চীনে প্রকাশনা জগতে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সরকারবিরোধী মত, ভিন্ন ইতিহাস বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে লেখা বই প্রকাশে বাধা রয়েছে। জনপ্রিয় কিছু সাহিত্য ধারাও নিয়ন্ত্রণের আওতায় এসেছে।

The joy of reading

ফলে অনেক লেখক ও প্রকাশক বিদেশে গিয়ে কাজ শুরু করেছেন। চীনা সাহিত্য এখন অনলাইন ও বিদেশি প্রকাশনার ওপরও অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

পাঠাভ্যাসের ভবিষ্যৎ কোন পথে

চীনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহ দেওয়া সব দেশের জন্যই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু একই সঙ্গে প্রয়োজন স্বাধীন চিন্তার জায়গা, ভিন্ন মতের স্বীকৃতি এবং বৈচিত্র্যময় পাঠের সুযোগ।

এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না হলে, শুধু পড়ার পরিমাণ বাড়লেও তার গভীরতা বা প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের

চীনে বই পড়ার নতুন অভিযান: মোবাইল ছেড়ে পাঠে ফিরতে বলছে সরকার, কিন্তু স্বাধীনতা নিয়েই বড় প্রশ্ন

১২:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

চীনে মানুষকে আবার বইয়ের দিকে ফেরাতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লক্ষ্য একটাই—মানুষ যেন বেশি পড়ে, গভীরভাবে পড়ে এবং চিন্তায় আরও সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু এই উদ্যোগ যতটা আশাব্যঞ্জক, ততটাই জটিল হয়ে উঠছে একটি প্রশ্নে—মানুষ কী পড়বে, আর কতটা স্বাধীনভাবে পড়তে পারবে?

পাঠে ফেরানোর সরকারি উদ্যোগ

চীনের বিভিন্ন শহরে এখন বই পড়া নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরির চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি চালু হয়েছে একটি জাতীয় নীতি, যার মাধ্যমে মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে প্রথম জাতীয় পাঠ সপ্তাহও।

সরকারি প্রচারণায় বারবার বলা হচ্ছে—মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে থাকার বদলে বইয়ের পাতায় মন দেওয়া দরকার। নেতৃত্ব পর্যায় থেকেও পড়াশোনার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে, যেন এটি শুধু অভ্যাস নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের একটি ভিত্তি হয়ে ওঠে।

তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। আধুনিক লাইব্রেরিগুলোতে মানুষের ভিড় থাকলেও, অনেকেই সেখানে বই পড়ার চেয়ে ছবি তোলা বা সময় কাটাতেই বেশি আগ্রহী। অনেক ক্ষেত্রে লাইব্রেরির সৌন্দর্যই আকর্ষণ, বই নয়।

Xi Jinping's article on promoting reading to be published - CGTN

 

মোবাইলের দখলে পড়ার অভ্যাস

বর্তমানে চীনে ছাপা বই পড়ার হার কমে গেছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক বছরে গড়ে পাঁচটিরও কম বই পড়ে। অন্যদিকে মোবাইল বা অনলাইনে সময় কাটানোর প্রবণতা বেড়েই চলেছে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, অনলাইন পড়া অনেক সময় গভীর জ্ঞান দেয় না, বরং তা হয় বিনোদন বা সময় কাটানোর মাধ্যম। ফলে মনোযোগ, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও গভীর চিন্তার অভ্যাস কমে যাচ্ছে।

উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যের যোগসূত্র

সরকার মনে করে, গভীরভাবে পড়ার অভ্যাস থাকলে মানুষ নতুন ধারণা তৈরি করতে পারে, যা প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের জন্য জরুরি। একই সঙ্গে চীনের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও বই পড়ার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

এই দুটি বিষয়কে একসঙ্গে সামনে রেখে চীন ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজেকে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে পড়ার অভ্যাসকে একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

Photo: CFP

বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

তবে শুধু নীতি তৈরি করলেই মানুষ বই পড়তে শুরু করবে—এমনটা নয়। নতুন লাইব্রেরি তৈরি বা পড়ার জায়গা বাড়ানোর নির্দেশ থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। কোথাও বইয়ের অভাব, কোথাও পাঠকের আগ্রহের ঘাটতি।

বইয়ের দোকান মালিকদের অভিযোগ, তাদের টিকিয়ে রাখার মতো বড় কোনো সহায়তা নেই। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়ছেন।

কী পড়বে মানুষ—এই প্রশ্নই বড়

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মানুষ কী পড়বে? সরকারি নীতিতে বলা হয়েছে “ভালো বই” পড়ার কথা। কিন্তু এই ভালো বইয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে সরকারই।

চীনে প্রকাশনা জগতে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সরকারবিরোধী মত, ভিন্ন ইতিহাস বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে লেখা বই প্রকাশে বাধা রয়েছে। জনপ্রিয় কিছু সাহিত্য ধারাও নিয়ন্ত্রণের আওতায় এসেছে।

The joy of reading

ফলে অনেক লেখক ও প্রকাশক বিদেশে গিয়ে কাজ শুরু করেছেন। চীনা সাহিত্য এখন অনলাইন ও বিদেশি প্রকাশনার ওপরও অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

পাঠাভ্যাসের ভবিষ্যৎ কোন পথে

চীনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহ দেওয়া সব দেশের জন্যই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু একই সঙ্গে প্রয়োজন স্বাধীন চিন্তার জায়গা, ভিন্ন মতের স্বীকৃতি এবং বৈচিত্র্যময় পাঠের সুযোগ।

এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না হলে, শুধু পড়ার পরিমাণ বাড়লেও তার গভীরতা বা প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।