০২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
গাজার অচলাবস্থা: যুদ্ধ থেমে গেলেও দুঃস্বপ্নে বন্দি মানুষ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ইসরায়েলের নির্বাচনী দৌড়ে নতুন সমীকরণ: বেনেট-লাপিদের জোটে শুরু উত্তপ্ত লড়াই ক্যারিবীয় দ্বীপে ক্ষোভের ঝড়: কলম্বিয়াকে ‘উপনিবেশকারী’ বলছে সান আন্দ্রেসের মানুষ তিন রাজ্যে পালাবদলের ঝড়, আসাম ও পুদুচেরিতে স্থিতিশীলতা—গণনার দিনেই বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক মানচিত্র বিভক্ত ব্রাজিল, একই কণ্ঠের মানুষ: নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ, তবু মিল খুঁজছে জনজীবন গুপ্তচর বিতর্কে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র: মানবাধিকার সংস্থার বিরুদ্ধে মামলায় নতুন ঝড় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর দৌড়ে নতুন চমক: ম্যাট মাহানের বাস্তববাদী প্রচার কৌশল আলোচনায় চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, আতঙ্কে লালমনিরহাটের যাত্রীরা—অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো বিএসটিআইতে নতুন মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক: মাননিয়ন্ত্রণে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

হংকংয়ের অ্যান্টিক বাজারে লুকানো চীনের হারানো ঐতিহ্য, পাচারের অন্ধকার পথ উন্মোচন

হংকংয়ের এক সাধারণ অ্যান্টিক দোকানের পেছনের ঘরে হঠাৎ করেই সামনে আসে ইতিহাসের এক চমকপ্রদ নিদর্শন। সুইস প্রত্নতাত্ত্বিক জিনো কাসপারি, যিনি ক্রেতা সেজে কালোবাজার অনুসন্ধান করছিলেন, সেখানে দেখতে পান প্রাচীন সানসিংদুই সভ্যতার একটি বিরল মুখোশ। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগের এই মুখোশ শুধু শিল্পমূল্যেই নয়, গবেষণার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই আবিষ্কার শুধু বিস্ময়ই জাগায়নি, বরং তুলে ধরেছে একটি বড় প্রশ্ন—কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রত্নসম্পদ হংকংয়ের একটি দোকানে এল?

পাচারের গোপন কেন্দ্র হিসেবে হংকং

চীনের কড়া আইন থাকা সত্ত্বেও প্রত্নসম্পদ পাচারের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে হংকং। ১৯৯৭ সালে চীনের শাসনে ফিরে আসার পরও এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে পাচারকারীরা এখানে তুলনামূলক সহজে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে।

Hong Kong: New law with global reach in the works • Table.Briefings

হংকংয়ের মুক্ত বন্দর সুবিধা এবং দুর্বল আইনি কাঠামো এই পাচার ব্যবসাকে আরও সহজ করেছে। এখানে প্রত্নসম্পদ পাচার, চুরি বা অবৈধ মালিকানার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই। ফলে সন্দেহজনক বস্তু বাজারে সহজেই জায়গা পায়।

‘বৈধতা’ পাওয়ার ফাঁকফোকর

হংকংয়ে এখনো একটি পুরনো আইনি ধারণা কার্যকর রয়েছে, যার ফলে বাজার থেকে সদিচ্ছায় কেনা চুরি করা জিনিসও বৈধ মালিকানার স্বীকৃতি পেতে পারে। এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে পাচার হওয়া প্রত্নবস্তু সহজেই বৈধ রূপ পায়।

ফলে চুরি বা লুট হওয়া প্রত্নসম্পদ যদি হংকংয়ের কোনো দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হয়, তাহলে সেগুলো ফেরত পাওয়ার আইনি পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়—even যদি সেটি রাষ্ট্রের সম্পদ হয়।

চীনের প্রচেষ্টা ও সীমাবদ্ধতা

Relics returned from overseas on display in National Museum -  Chinadaily.com.cn

চীন সরকার গত এক দশকে নিলাম ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাজারের বেশি প্রত্নসম্পদ উদ্ধার করেছে। বিদেশ থেকেও শত শত নিদর্শন ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির ধনী নাগরিকদের মধ্যে এই প্রত্নবস্তু কেনার প্রবণতাও বেড়েছে, যা বাজারে চাহিদা ও দাম বাড়িয়েছে।

তবুও বাস্তবতা হলো, এত বিপুল সংখ্যক প্রত্নস্থল রক্ষা করা সরকারের পক্ষে কঠিন। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বল নজরদারি এবং দুর্নীতির সুযোগ পাচারকারীদের আরও সাহসী করে তুলেছে।

ইতিহাসের অপূরণীয় ক্ষতি

প্রত্নবস্তু পাচারের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় ইতিহাস ও গবেষণায়। কোনো নিদর্শন যদি তার মূল অবস্থান থেকে তুলে নেওয়া হয়, তাহলে সেই স্থানের প্রেক্ষাপট চিরতরে হারিয়ে যায়। ফলে সেই সভ্যতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে সানসিংদুইয়ের মতো রহস্যময় প্রাচীন সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও গভীর। অনেক ক্ষেত্রে এখন এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছে যে, নতুন করে গবেষণার মতো অক্ষত স্থান আর অবশিষ্ট নেই।

China announces $1.4 trillion over five years to tackle local governments'  hidden debt

অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নিদর্শন

জিনো কাসপারি ওই মুখোশটি হংকং পুলিশের কাছে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, সেই মূল্যবান নিদর্শন হয়তো ইতিমধ্যেই বাজার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রত্নসম্পদ পাচার শুধু আইনগত নয়, সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের জন্যও একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজার অচলাবস্থা: যুদ্ধ থেমে গেলেও দুঃস্বপ্নে বন্দি মানুষ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

হংকংয়ের অ্যান্টিক বাজারে লুকানো চীনের হারানো ঐতিহ্য, পাচারের অন্ধকার পথ উন্মোচন

১২:৩২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

হংকংয়ের এক সাধারণ অ্যান্টিক দোকানের পেছনের ঘরে হঠাৎ করেই সামনে আসে ইতিহাসের এক চমকপ্রদ নিদর্শন। সুইস প্রত্নতাত্ত্বিক জিনো কাসপারি, যিনি ক্রেতা সেজে কালোবাজার অনুসন্ধান করছিলেন, সেখানে দেখতে পান প্রাচীন সানসিংদুই সভ্যতার একটি বিরল মুখোশ। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগের এই মুখোশ শুধু শিল্পমূল্যেই নয়, গবেষণার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই আবিষ্কার শুধু বিস্ময়ই জাগায়নি, বরং তুলে ধরেছে একটি বড় প্রশ্ন—কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রত্নসম্পদ হংকংয়ের একটি দোকানে এল?

পাচারের গোপন কেন্দ্র হিসেবে হংকং

চীনের কড়া আইন থাকা সত্ত্বেও প্রত্নসম্পদ পাচারের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে হংকং। ১৯৯৭ সালে চীনের শাসনে ফিরে আসার পরও এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে পাচারকারীরা এখানে তুলনামূলক সহজে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে।

Hong Kong: New law with global reach in the works • Table.Briefings

হংকংয়ের মুক্ত বন্দর সুবিধা এবং দুর্বল আইনি কাঠামো এই পাচার ব্যবসাকে আরও সহজ করেছে। এখানে প্রত্নসম্পদ পাচার, চুরি বা অবৈধ মালিকানার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই। ফলে সন্দেহজনক বস্তু বাজারে সহজেই জায়গা পায়।

‘বৈধতা’ পাওয়ার ফাঁকফোকর

হংকংয়ে এখনো একটি পুরনো আইনি ধারণা কার্যকর রয়েছে, যার ফলে বাজার থেকে সদিচ্ছায় কেনা চুরি করা জিনিসও বৈধ মালিকানার স্বীকৃতি পেতে পারে। এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে পাচার হওয়া প্রত্নবস্তু সহজেই বৈধ রূপ পায়।

ফলে চুরি বা লুট হওয়া প্রত্নসম্পদ যদি হংকংয়ের কোনো দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হয়, তাহলে সেগুলো ফেরত পাওয়ার আইনি পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়—even যদি সেটি রাষ্ট্রের সম্পদ হয়।

চীনের প্রচেষ্টা ও সীমাবদ্ধতা

Relics returned from overseas on display in National Museum -  Chinadaily.com.cn

চীন সরকার গত এক দশকে নিলাম ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাজারের বেশি প্রত্নসম্পদ উদ্ধার করেছে। বিদেশ থেকেও শত শত নিদর্শন ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির ধনী নাগরিকদের মধ্যে এই প্রত্নবস্তু কেনার প্রবণতাও বেড়েছে, যা বাজারে চাহিদা ও দাম বাড়িয়েছে।

তবুও বাস্তবতা হলো, এত বিপুল সংখ্যক প্রত্নস্থল রক্ষা করা সরকারের পক্ষে কঠিন। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বল নজরদারি এবং দুর্নীতির সুযোগ পাচারকারীদের আরও সাহসী করে তুলেছে।

ইতিহাসের অপূরণীয় ক্ষতি

প্রত্নবস্তু পাচারের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় ইতিহাস ও গবেষণায়। কোনো নিদর্শন যদি তার মূল অবস্থান থেকে তুলে নেওয়া হয়, তাহলে সেই স্থানের প্রেক্ষাপট চিরতরে হারিয়ে যায়। ফলে সেই সভ্যতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে সানসিংদুইয়ের মতো রহস্যময় প্রাচীন সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও গভীর। অনেক ক্ষেত্রে এখন এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছে যে, নতুন করে গবেষণার মতো অক্ষত স্থান আর অবশিষ্ট নেই।

China announces $1.4 trillion over five years to tackle local governments'  hidden debt

অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নিদর্শন

জিনো কাসপারি ওই মুখোশটি হংকং পুলিশের কাছে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, সেই মূল্যবান নিদর্শন হয়তো ইতিমধ্যেই বাজার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রত্নসম্পদ পাচার শুধু আইনগত নয়, সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের জন্যও একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।