লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এলাকায় চলন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎ আগুন লেগে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রোববার এ ঘটনা ঘটে লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে যাওয়া বুড়িমারীগামী একটি কমিউটার ট্রেনে। হাতীবান্ধা রেলস্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পৌঁছানোর পর ট্রেনটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে লোকোমাস্টার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন।
যাত্রীদের মধ্যে তখন তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে পড়েন, কেউ কেউ দৌড়ে দূরে সরে যান। এতে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আগুন

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
আগুন লাগার কারণ কী
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইঞ্জিনের মবিল চেম্বারে অতিরিক্ত ঘর্ষণের ফলে তাপ বেড়ে গিয়ে আগুন লেগে থাকতে পারে।
যাত্রা আবার শুরু
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেনটি আবার বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এতে স্বস্তি ফিরে আসে যাত্রীদের মধ্যে, যদিও ঘটনাটি অনেকের মনে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই ঘটনার পর ট্রেনের ইঞ্জিন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার না করলে এমন ঝুঁকি ভবিষ্যতেও দেখা দিতে পারে।
চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগার মতো ঘটনা বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে—এই বাস্তবতা আবারও মনে করিয়ে দিল লালমনিরহাটের এই ঘটনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















