দেশের পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষার শীর্ষ সংস্থা বিএসটিআইয়ের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও গবেষক কাজী এমদাদুল হক। রোববার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার এই নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন দায়িত্ব ও নিয়োগের প্রেক্ষাপট
চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগে তাকে সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিবের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দেশের মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখাই এখন তার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টদের আশা, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব বিএসটিআইয়ের কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে।
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা

কাজী এমদাদুল হক বিসিএস কর ক্যাডারের সপ্তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৮৮ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজস্ব প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি কর আপিল ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বৃহৎ করদাতা ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বৈশ্বিক করনীতি ও দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি নিয়ে আলোচনায় তার অংশগ্রহণ দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার প্রশাসনিক বহুমুখী দক্ষতার প্রমাণ।
শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। শিক্ষাজীবনেই সাহিত্য প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন এবং টেলিভিশন বিতর্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ তার বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার পরিচয় দেয়।
লেখক ও গবেষক হিসেবে পরিচিতি

প্রশাসনের বাইরে কাজী এমদাদুল হক একজন পরিচিত লেখক ও গবেষক। কালো টাকার ওপর তার গবেষণাধর্মী বই বিশেষভাবে আলোচিত। এছাড়া আয়কর বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে তিনি টেলিভিশন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে ধারণা গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের সামনে নতুন প্রত্যাশা
বিএসটিআই কর্মকর্তাদের মতে, তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তা সংস্থাটির কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে বাজারে পণ্যের মান নিশ্চিত করা, ভেজাল প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে সংস্থাটি আরও কার্যকর ও আধুনিক হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
বিএসটিআইয়ের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে কাজী এমদাদুল হকের নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সংস্থার কার্যক্রমে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















