আসামের ১২৬টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা শুরু হতেই প্রাথমিক প্রবণতায় শাসক দল বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই গণনায় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর দেখানো প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জলুকবাড়ি আসনে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ জোরহাট আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
প্রাথমিক ফলাফলের চিত্র
গণনার শুরুতেই দেখা যায়, বিজেপি ১৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, আর কংগ্রেস এগিয়ে ৮টি আসনে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। প্রথমে ডাকযোগে প্রাপ্ত ভোট গণনা শুরু হয়, এরপর ধাপে ধাপে ইভিএমের ভোট গণনা করা হচ্ছে।
অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের অবস্থান

আসাম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ খোয়াং আসনে এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া, নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রবীণ নেতা প্রদ্যুত বরদলৈ দিসপুর আসনে এবং ভূপেন বরাহ বিহপুরিয়া আসনে এগিয়ে আছেন।
গণনা প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা
রাজ্যের ৩৫টি জেলায় মোট ৪০টি গণনা কেন্দ্রে এই প্রক্রিয়া চলছে। অধিকাংশ জেলায় একটি করে কেন্দ্র থাকলেও নাগাঁও জেলায় তিনটি কেন্দ্র রয়েছে। কোকরাঝাড়, তিনসুকিয়া ও জোরহাটে রয়েছে দুটি করে কেন্দ্র।
নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যারা স্ট্রংরুম পাহারা এবং গণনা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে দায়িত্ব পালন করছে।
প্রার্থী ও দলীয় অবস্থান
এই নির্বাচনে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে কংগ্রেস সবচেয়ে বেশি ৯৯ জন প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপি দিয়েছে ৯০ জন এবং এআইইউডিএফ দিয়েছে ৩০ জন প্রার্থী।

এনডিএর শরিক দল অসম গণপরিষদ ২৬টি আসনে এবং বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট ১১টি আসনে লড়েছে। রাইজর দল ১৩টি, এজেপি ১০টি, সিপিআই(এম) তিনটি এবং এপিএইচএলসি দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া আম আদমি পার্টি ও ইউপিপিএল ১৮টি করে, তৃণমূল কংগ্রেস ২২টি এবং জেএমএম ১৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি ২৫৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও মাঠে রয়েছেন।
ভোটগ্রহণ ও গুরুত্ব
গত ৯ এপ্রিল এক দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ২.৫ কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে ৮৫.৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফলই আগামী পাঁচ বছরের জন্য আসামের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। শাসক এনডিএ কি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরবে, নাকি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতা দখল করবে—সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















