কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা। ১৪০ আসনের এই নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছে, আর পিছিয়ে পড়েছে শাসক বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৭১টি আসন, এবং প্রাথমিক ফলাফলে ইউডিএফ ইতিমধ্যেই সেই সংখ্যার কাছাকাছি বা তার ওপরে অবস্থান করছে।
ভোটগণনার শুরু সকাল ৮টায় ডাক ভোট দিয়ে, এরপর ধাপে ধাপে ইভিএমের ভোট গণনা চলছে। রাজ্যজুড়ে ৪৩টি কেন্দ্রে মোট ১৪০টি গণনাকেন্দ্রে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ১৫ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।
শুরুতেই পাল্টে যাচ্ছে সমীকরণ
শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা সমানে সমান মনে হলেও দ্রুতই চিত্র বদলাতে শুরু করে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ বেশ কয়েকটি আসনে এগিয়ে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করে। অন্যদিকে, এলডিএফ একাধিক আসনে পিছিয়ে পড়েছে, এমনকি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও নিজেদের কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন।
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নিজ আসন ধর্মদমেও পিছিয়ে পড়া। কংগ্রেস প্রার্থী ভিপি আবদুল রশিদের কাছে তিনি পিছিয়ে আছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক বার্তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
তৃতীয়বারের স্বপ্নে ধাক্কা
এলডিএফ এবার টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে নেমেছিল, যা কেরালার ইতিহাসে বিরল ঘটনা হতো। ২০২১ সালে টানা দ্বিতীয়বার জিতে তারা ঐতিহ্য ভেঙেছিল, কারণ কেরালায় সাধারণত সরকার পালাবদল হয়ে থাকে। কিন্তু এবারের ফলাফলের প্রবণতা সেই ধারাকে আবারও ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে বিরোধী শিবিরে উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। ইউডিএফ নেতারা দাবি করছেন, জনতার সমর্থন এবার স্পষ্টভাবে তাদের দিকে ঝুঁকেছে এবং এই ফলাফল শাসক জোটের প্রতি অসন্তোষের প্রতিফলন।
ত্রিমুখী লড়াইয়ের প্রভাব
এবারের নির্বাচন শুধু দ্বিমুখী ছিল না, বরং ত্রিমুখী লড়াইয়ের রূপ নিয়েছিল। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করার চেষ্টা করলেও সামগ্রিকভাবে তারা বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের আসন সংখ্যা একক অঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
তবে এই ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের ফলাফলে জটিলতা তৈরি করেছে এবং ভোটের সমীকরণকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।
দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট চিত্র
ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে ফলাফলের দিকনির্দেশনা। কর্মকর্তাদের মতে, দুপুরের মধ্যেই নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ইভিএমের ভোটের সঙ্গে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে ভিভিপ্যাট স্লিপ গণনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে কেরালার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের নির্বাচন। ইউডিএফ যদি এই ধারা ধরে রাখতে পারে, তাহলে দীর্ঘদিন পর রাজ্যে আবারও ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















