নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় নিহতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পূর্ব উপকূলের মাউন্ট মাউঙ্গানুই এলাকায় একটি ব্যস্ত ক্যাম্পিং স্থানে এই ভূমিধস ঘটে। গভীর রাতে ধ্বংসস্তূপের ভেতর মানবদেহের অংশ পাওয়া যাওয়ার পর শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যয়
গত বৃহস্পতিবার টানা ভারী বৃষ্টির কারণে মাউন্ট মাউঙ্গানুই এলাকায় পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়ে। শহরটির টাওরাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ক্যাম্পিং স্থানটি তখন গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে থাকা পরিবারে পরিপূর্ণ ছিল। মাটি ও পাথরের স্রোতে চাপা পড়ে অন্তত ছয়জন নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে দুইজন কিশোরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তারা সবাই নিহত হয়েছেন।

উদ্ধার নয়, চলছে উদ্ধারোত্তর অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ করে এখন উদ্ধারোত্তর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রথম সাড়া দেওয়া কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কিছু শব্দ শোনার কথা বললেও এরপর আর জীবনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত শনাক্তে করোনারের আশ্বাস
প্রধান করোনার আনা টাটন জানান, নিহতদের শনাক্ত করার দায়িত্ব এখন তাঁর দপ্তরের। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে তা বলা যাচ্ছে না, তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা
প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এই ঘটনাকে হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়ে বলেন, যাদের প্রিয়জন হারাতে হয়েছে, তাদের শোক পুরো জাতির শোক। তিনি শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ঝুঁকির মধ্যেই চলছে কাজ
ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, পঁয়ত্রিশজন কর্মী ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুসন্ধান এলাকার একটি অংশে আবারও মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে। শনিবার নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে কর্মীদের সরে যেতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা মেগান স্টিফলার।
আশপাশেও প্রাণহানি
এই সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টিতে পাশের পাপামোয়া এলাকায় আরেকটি ভূমিধস ঘটে। সেখানে দুইজন নিহত হয়েছেন। একের পর এক ভূমিধসে পুরো অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















