০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ অভিভাবকহীন এক পরিবার: অভিবাসন অভিযানে গ্রেপ্তারের পর ভাইবোনদের কাঁধে সংসারের ভার নাগরিক উদ্যোগে কঠোরতা: যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোটাধিকার নিয়ে নতুন লড়াই ভ্যান্সের কূটনৈতিক পরীক্ষা: যুদ্ধবিরতির সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নতুন মোড় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বিশ্ব রাজনীতিতে ধাক্কা, আস্থার সংকটে আমেরিকার নেতৃত্ব নেটো জোটে ভাঙনের আশঙ্কা: ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা কিউবায় ক্ষোভ বাড়ছে, তবু বিদ্রোহের সম্ভাবনা কম—সংকটে জর্জরিত দ্বীপে নতুন বাস্তবতা জার্মানিতে চরম ডানপন্থার উত্থান: ক্ষমতায় এলে কেমন বদলাবে সমাজ ও রাজনীতি এশিয়ার খাদ্যভাণ্ডারে ধাক্কা: জ্বালানি ও সার সংকটে বিপর্যস্ত মেকং ডেল্টা নেতানিয়াহুর লক্ষ্য এখনও অসম্পূর্ণ, যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কমেনি মধ্যপ্রাচ্যে

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে মার্কিন নাগরিক নিহত, ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও দেশজুড়ে বিক্ষোভ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন এক মার্কিন নাগরিক। শনিবারের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ব্যক্তি ছিলেন সাতত্রিশ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেট্টি, পেশায় একজন আইসিইউ নার্স।

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, এজেন্টরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন। তাদের দাবি, অভিযানের সময় প্রেট্টি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টায় সহিংস প্রতিরোধ করেন। তবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও সেই সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক চিত্র তুলে ধরেছে।

Federal immigration agents kill another US citizen in Minneapolis, sparking  protests

ভিডিওতে কী দেখা গেছে
রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রেট্টির হাতে কোনো বন্দুক নয়, একটি মোবাইল ফোন ছিল। তিনি ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা ধাক্কা খাওয়া ও মাটিতে পড়ে যাওয়া কয়েকজন নারীকে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে আড়াল করতে হাত তুললে এক এজেন্ট তার ওপর মরিচ স্প্রে ছিটান। এরপরও তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়া নারীকে তুলতে গেলে একাধিক এজেন্ট তাকে টেনে নামিয়ে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তার পেছনে বন্দুক তাক করে এক কর্মকর্তা পরপর চারটি গুলি ছোড়েন। পরে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়। কিছু সময় পর এজেন্টরা তার শরীর থেকে সরে গিয়ে পরে চিকিৎসা সহায়তার চেষ্টা করেন বলে ভিডিওতে ধরা পড়ে।

প্রতিবাদ ও জনঅসন্তোষ
এই ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসে কয়েকশ মানুষ রাস্তায় নেমে সশস্ত্র ও মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্টদের মুখোমুখি হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ও বিকট শব্দের গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও সান ফ্রান্সিসকোসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনা মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য সরকার ও ফেডারেল প্রশাসনের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তোলে। চলতি মাসের শুরুতে আরেক মার্কিন নাগরিক রেনে গুড নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

Federal immigration agents kill another US citizen in Minneapolis, sparking  protests | MarketScreener

রাজ্য ও স্থানীয় নেতাদের অবস্থান
মিনেসোটা গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে ভিডিও দেখেই বোঝা যায় ঘটনাটি ভয়াবহ। তার ভাষায়, এই ঘটনার তদন্ত ফেডারেল সরকারের হাতে রাখা যায় না, রাজ্যই তদন্ত পরিচালনা করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ফেডারেল এজেন্টরা রাজ্যের তদন্ত দলকে ঘটনাস্থলে কাজ করতে বাধা দিয়েছে।

মিনিয়াপোলিসের পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, নিহত ব্যক্তি আইনগতভাবে অস্ত্র রাখার অনুমতি পেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড ছিল না, কেবল কিছু ট্রাফিক লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে শহর ধ্বংস না করার অনুরোধ করেন।

Federal immigration agents kill another US citizen in Minneapolis, sparking  protests

অভিবাসন অভিযান বন্ধের দাবি
ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে এবং গভর্নর ওয়ালজ অবিলম্বে ফেডারেল অভিবাসন অভিযান বন্ধের দাবি জানান। মেয়র প্রশ্ন তোলেন, এই অভিযান বন্ধ হতে আরও কতজন আমেরিকানকে মরতে হবে বা গুরুতর আহত হতে হবে।

এর জবাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় নেতৃত্বকে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেন। তার দাবি, মেয়র ও গভর্নরের বক্তব্য বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল এজেন্টদের সহযোগিতা না করার অভিযোগ তুললে গভর্নর ওয়ালজ বলেন, এই কড়াকড়ি অভিযান স্থানীয় পুলিশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

মিনিয়াপোলিসে এই গুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আগের দিনই অভিবাসন অভিযানবিরোধী প্রতিবাদে দশ হাজারের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। এর আগে এক মার্কিন নাগরিককে বাড়ি থেকে শর্টস পরা অবস্থায় তুলে নেওয়া এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশুসহ স্কুলপড়ুয়াদের আটক করার ঘটনাও ক্ষোভ বাড়িয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে মার্কিন নাগরিক নিহত, ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও দেশজুড়ে বিক্ষোভ

১২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন এক মার্কিন নাগরিক। শনিবারের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ব্যক্তি ছিলেন সাতত্রিশ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেট্টি, পেশায় একজন আইসিইউ নার্স।

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, এজেন্টরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন। তাদের দাবি, অভিযানের সময় প্রেট্টি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টায় সহিংস প্রতিরোধ করেন। তবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও সেই সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক চিত্র তুলে ধরেছে।

Federal immigration agents kill another US citizen in Minneapolis, sparking  protests

ভিডিওতে কী দেখা গেছে
রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রেট্টির হাতে কোনো বন্দুক নয়, একটি মোবাইল ফোন ছিল। তিনি ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা ধাক্কা খাওয়া ও মাটিতে পড়ে যাওয়া কয়েকজন নারীকে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে আড়াল করতে হাত তুললে এক এজেন্ট তার ওপর মরিচ স্প্রে ছিটান। এরপরও তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়া নারীকে তুলতে গেলে একাধিক এজেন্ট তাকে টেনে নামিয়ে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তার পেছনে বন্দুক তাক করে এক কর্মকর্তা পরপর চারটি গুলি ছোড়েন। পরে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়। কিছু সময় পর এজেন্টরা তার শরীর থেকে সরে গিয়ে পরে চিকিৎসা সহায়তার চেষ্টা করেন বলে ভিডিওতে ধরা পড়ে।

প্রতিবাদ ও জনঅসন্তোষ
এই ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসে কয়েকশ মানুষ রাস্তায় নেমে সশস্ত্র ও মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্টদের মুখোমুখি হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ও বিকট শব্দের গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও সান ফ্রান্সিসকোসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনা মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য সরকার ও ফেডারেল প্রশাসনের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তোলে। চলতি মাসের শুরুতে আরেক মার্কিন নাগরিক রেনে গুড নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

Federal immigration agents kill another US citizen in Minneapolis, sparking  protests | MarketScreener

রাজ্য ও স্থানীয় নেতাদের অবস্থান
মিনেসোটা গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে ভিডিও দেখেই বোঝা যায় ঘটনাটি ভয়াবহ। তার ভাষায়, এই ঘটনার তদন্ত ফেডারেল সরকারের হাতে রাখা যায় না, রাজ্যই তদন্ত পরিচালনা করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ফেডারেল এজেন্টরা রাজ্যের তদন্ত দলকে ঘটনাস্থলে কাজ করতে বাধা দিয়েছে।

মিনিয়াপোলিসের পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, নিহত ব্যক্তি আইনগতভাবে অস্ত্র রাখার অনুমতি পেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড ছিল না, কেবল কিছু ট্রাফিক লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে শহর ধ্বংস না করার অনুরোধ করেন।

Federal immigration agents kill another US citizen in Minneapolis, sparking  protests

অভিবাসন অভিযান বন্ধের দাবি
ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে এবং গভর্নর ওয়ালজ অবিলম্বে ফেডারেল অভিবাসন অভিযান বন্ধের দাবি জানান। মেয়র প্রশ্ন তোলেন, এই অভিযান বন্ধ হতে আরও কতজন আমেরিকানকে মরতে হবে বা গুরুতর আহত হতে হবে।

এর জবাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় নেতৃত্বকে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেন। তার দাবি, মেয়র ও গভর্নরের বক্তব্য বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল এজেন্টদের সহযোগিতা না করার অভিযোগ তুললে গভর্নর ওয়ালজ বলেন, এই কড়াকড়ি অভিযান স্থানীয় পুলিশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

মিনিয়াপোলিসে এই গুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আগের দিনই অভিবাসন অভিযানবিরোধী প্রতিবাদে দশ হাজারের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। এর আগে এক মার্কিন নাগরিককে বাড়ি থেকে শর্টস পরা অবস্থায় তুলে নেওয়া এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশুসহ স্কুলপড়ুয়াদের আটক করার ঘটনাও ক্ষোভ বাড়িয়েছিল।